৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে ২শ ধানের গুদাম নির্মাণ করা হবে

0
309

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ জন্য সারাদেশে দুশো স্টিল পেডি সাইলো নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৫শ কোটি টাকা। প্রান্তিক কৃষকরা ইউনিয়ন পর্যায়ের এই সাইলোতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করবেন। তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকের সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকের তালিকা যদি করতে হয় তাদের কাছ থেকে সরকারি কর্মচারীদের ধান কেনা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেই। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির এই সুযোগ কৃষকরা কতোটুকু পাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এবার সারাদেশেই কৃষক ধা চালের সরকারি নির্ধারিত মূল্য পায়নি। ধানের সরকার নির্ধারিত মূল্য মনপ্রতি ১ হাজার ৪০ টাকা। কিন্তু দেশের কোথাও কৃষক এই মূল্য পায়নি। বীজ, সার, কীটনাশক, ডিজেল, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিসহ অন্যান্য সব খরচ নিয়ে একমণ ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়ে ৯শ টাকা। সরকারি মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষক লাভের মুখ তেমন একটা দেখতে না পেলেও কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থা হয়। কিন্তু কৃষকের ভাগ্যে তা জোটেনি। প্রতিমণে কৃষক দাম পেয়েছে ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা। উৎপাদন খরচও না পাওয়ায় দারুণভাবে হতাশ দেশের কৃষক। অনেকেই ধান উৎপাদন না করে বিকল্প পরিকল্পনা করছেন। কৃষকের এই হতাশা অসন্তোষ খাদ্যশস্য উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান ধারা ধরে রাখার জন্য বিপদজনক বার্তা দিচ্ছে। এ অবস্থা খাদ্য মন্ত্রণালয়কে বিচলিত করে তুলেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোট দশ লাখ মেট্রিক টন ধান ধারণক্ষশতার ২শ স্টিলে পেডি সাইলো নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সাইলোর নির্মাণ ব্যয় পড়বে ২৫ কোটি টাকা। বর্তমানে বছরে কৃষকদের কাছ থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনা যায়। এই ধানও কৃষক সরকারি সরকার নির্ধারিত রেটে বিক্রি করতে পারে না। কম দামে মিলাররা তাদের কাছ থেকে ধান শুকিয়ে চাল তৈরি করে সরকারের কাছে নির্ধারিত রেটে বিক্রি করে। ফড়িয়া, মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের কাছ থেকে কমমূল্যে ধান কিনে মিলারদের কাছে অধিকমূল্যে বিক্রি করে। এ অবস্থাটা বরাবরই চলে আসছে। এবারে সরকার ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য বাড়ালেও কৃষক সে সুবিধা পাচ্ছে না।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার আগামী দু’বছর উৎপাদিত চাল, ধানের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডাটা বেইজে কৃষকের তালিকা করা হবে। এদের কাছ থেকে মিলারদের বাধ্যতামূলকভাবে ধান-চাল কিনতে হবে। মিলাররা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে না কিনে মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়াদের কাছ থেকে কিনছেন কিনা তাও যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এ’ব্যবস্থায় জটিলতা বাড়বে। খুব স্বল্পসংখ্যক কৃষকই সরাসরি বিক্রি ও সরকার নির্ধারিত মূল্য লাভের সুযোগ পাবেন।
সম্ভাব্য এ অবস্থাটা বিবেচনায় রেখেই খাদ্য মন্ত্রণালয় ২শ গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব গুদামে শুধুমাত্র ধান রাখা হবে। প্রতিটি সাইলোর ধারণক্ষমতা হবে ৫ হাজার মেট্রিক টন। নয়ফুট উঁচুতে ফাউন্ডেশন দেয়া হবে। ড্রাইয়ার ও ফ্যানিং ব্যবস্থাসহ প্রতি সাইলোতে ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। সরকারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশীরা প্রচুর আগ্রহ দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, তুরস্কের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ কাজ করতে চায়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বিশ বছরের ওয়ারেন্টি দিতেও প্রস্তুত। স্টিল পেডি সাইলোতে তিন বছর পর্যন্ত ধান শুকনো, ব্যবহার উপযোগী থাকবে।

Share on Facebook