সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাপানে কমপক্ষে এক লক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ঐ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রশিক্ষিত, আধাদক্ষ, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে এ সুযোগ বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ দশটি দেশ থেকে জাপান আগামী তিন বছরে পাঁচ লাখ জনশক্তি আমদানি করবে। শিল্প কারখানা, সেবাখাত, কৃষিসহ আটটি ক্ষেত্রে তারা জনশক্তি নেবে। তারা প্রায় এক লক্ষ কৃষি শ্রমিক নেবে। তবে এই জনশক্তিকে জাপানি ভাষা জানতে হবে। কাজে দক্ষতা থাকতে হবে। আধা দক্ষ জনশক্তিরও কাজের সুযোগ হবে। তবে অদক্ষ ও জাপানি ভাষায় কথা বলতে ও বুঝতে পারেনা, এমন কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।
জানা যায়, জাপান জি-টু-জি ভিত্তিতে কর্মী নেবে। এতে খরচ পড়বে কম এবং হয়রানি, ভোগান্তির সুযোগ থাকবে না বলেই তারা সরকারিভাবে জনশক্তি আমদানিতে আগ্রহী। বাংলাদেশের বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে থাকে এবং এতে কর্মীদের প্রচুর দুর্ভোগের শিকার হওয়ার ঘটনা জাপান কর্তৃপক্ষের অবগতিতে রয়েছে। তারা কোন অবস্থাতেই এসব ঘটনা বরদাস্ত না করার কথা আগেই জানিয়েছে। জি-টু-জি ভিত্তিতে জনশক্তি পাঠাতে সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা জানালে জাপান সরকার শর্ত সাপেক্ষে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে জনশক্তি নিতে সম্মত হয়। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কাজ অনুযায়ী যথাযথ প্রশিক্ষণসহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জাপানি দূতাবাস যৌথভাবে পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় বাবদ যে অর্থ নির্ধারণ করে তার বেশি অর্থ না নেয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা সরকারের কাছ থেকে চেয়েছে।
জাপানের নিয়োগদাতা কোম্পানি কর্মীর বিমান ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বহন করবে। পরে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট হারে বিমান ভাড়াসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি খাতের খরচ কেটে নেয়া হবে। স্থানীয় অর্ধ শতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী প্রেরণের অনুমতি দেয়ার আবেদন করে। জাপানের প্রতিনিধি দল ঢাকা এসে এইসব এজেন্সির প্রশিক্ষণ সুবিধাসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যাপারে সরেজমিনে যাচাই করে। তারা এগারোটি এজেন্সি বাছাই করে। এইসব এজেন্সির ও সরকারি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে। তবে তাদের সুবিধা সীমিত বলে হতাশা ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ থেকে ছয় মাসের ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে হাতে কলমে জ্ঞান অর্জনে এক বছর লেগে যাবে। এতে বাংলাদেশ বছরে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার কর্মী প্রেরণ করতে পারবে। অর্থাৎ তিন বছরে সর্বোচ্চ পনের হাজার জনশক্তি পাঠানো সম্ভব হবে। জাপানে কর্মীপিছু বেতন নিম্নে চল্লিশ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, ওভারটাইম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাপকহারে এই সুবিধা নিতে পারছেনা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here