বছরজুড়ে সাকিব চর্চা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশে বরাবরের মতোই ক্যালেন্ডারের পাতা জুড়ে ক্রিকেট। এক কথায়, ব্যাট-বলের গল্প সাজানো থাকে বছরের প্রায় প্রতিটি দিনে। কত কি! কখনো জয়ের উল্লাস, আবার হারের বেদনা। ক্রিকেটারদের জীবনের গল্পও কম নয়। এই হাসিতো, এই কান্না। আকাশে ওড়া আবার মাটিতে পতন। হ্যাঁ, ২০১৯ বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু রেখে যাচ্ছে ক্রিকেটের নানা স্মৃতি। নতুন বছরে যা থেকে পাওয়া যাবে অনুপ্রেরণা, এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। আবার ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ারও রশদও কম নয়। শুধু তাই নয়, পুরনো কে বিদায়ের সঙ্গে আছে নতুনকে বরণ করে নেয়ার চ্যালেঞ্জও। বছর জুড়েই ছিল সাকিবের আলো এবং সেই সঙ্গে আঁধারও। অন্য বছরের তুলনায় এই বছরটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রাপ্তির পাল্লা ভারি নয়। আছে নানা দুর্ঘটনা ও অস্বস্তিকর সংবাদও। বছরটিকে ‘সাকিব আল হাসান’ নামকরণ করে দিলেও ভুল হবে না। বছরের শুরুতেই ক্রাইস্ট চার্চের হামলা কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট সহ গোটা বিশ্বকে। অল্পের জন্য বেঁচে যায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। কিন্তু প্রাণ হারিয়েছিল অন্তত ৫০ জন। এরপর প্রথমবার বিদেশের মাটিতে টুর্নামেন্ট জয়ের আনন্দ যোগ করেছিল ভিন্ন মাত্রা। ওয়ানডে বিশ্বকাপে রূপকথার জন্ম দেন সাকিব। আর ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুতর্জা গুঞ্জন উড়িয়ে বিদায় নেননি ক্রিকেট থেকে। বছরের শেষটায়ও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন সাকিব। ক্রিকেটার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া থেকে শুরু করে আইসিসি কর্তৃক তার নিষিদ্ধ হওয়া। এসবই কাঁপিয়ে দেয় দেশের ক্রিকেটের ভিত। দুই বছর তাকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। তার অপরাধ, জুয়ারির কাছ থেকে তিন দফা প্রস্তাব পেয়ে তা বিসিবি ও আইসিসি’র কাছে জানাননি বিশ্বসেরা এই আলরাউন্ডার। আর সেই কারণেই এক বছর তিনি কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। এমন ভুল আর না করলে দ্বিতীয় বছর শাস্তি ভোগ করতে হবে না। তাই আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাকে পাওয়াও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও মাঠে তিন ফরম্যাটের মধ্যে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ছিল কিছু সফলতা। কিন্তু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চ্যালেঞ্জের বছর জুড়ে ব্যাটে-বলে লেখা হয়েছে শুধু হারের গল্প। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচে দলের ব্যর্থতা ফের প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে টাইগারদের টেস্ট খেলার যোগ্যতাকে! প্রথমবারের মতো ভারতে পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। নিষিদ্ধ হওয়াতে সেখানে সাকিবের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শুরুতেই টি-টোয়েন্টি জয় দিয়ে শুরু করলেও হাতছাড়া হয় নতুন এক ইতিহাস রচনার সুযোগ। প্রথমবার ভারতের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জিতলেও হয়নি সিরিজটা নিজেদের করে নেয়া। ইন্দোর টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার। এরপর প্রথমবার গোলাপি বলের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশ নিজেদের নাম লেখায়। ঐতিহাসিক সেই টেস্টে কলকাতার ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দেশের ১১তম টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভের দল ফের হারে ইনিংস ব্যবধানে। সব মিলিয়ে ঘটনা বহুল বছর গেছে ২০১৯। যেখানে নায়ক ও খল নায়ক শেষ পর্যন্ত সাকিবই।

Share on Facebook