এই প্রথম দেশে পেট্রো কেমিক্যাল প্ল্যান্ট হচ্ছে

0
258

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে এই প্রথম পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। প্লাস্টিক সামগ্রীর কাচামাল, পেট্রো কেমিক্যাল পন্য এবং উপজাত হিসেবে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপন্ন হবে এই প্ল্যান্টে। দেশে প্রথম পেট্রো কেমিক্যাল প্ল্যান্ট স্থাপিত হবে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ এর আওতাধীন ধলঘাটা মৌজায়। এখঅনে ৪১০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি খাতে দুটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মহেশখালিতে অনুমতি দেয়া হয়েছে টি কে গ্রæপ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। বসুন্ধরাকে অপর একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারা প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। বছরে ১০ লক্ষ মে.টন প্লাস্টিক সামগ্রীর কাচামাল আমদানী করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় হয় আট হাজার কোটি টাকা। পানি, গ্যাস, বিদ্যুত সংযোগে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপসহ বালতি, মগ, চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য সামগ্রী উৎপাদনে পলিমার ব্যবহার করা হয়। আর এফএলএর উৎপাদিত এ জাতীয় পণ্য বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। দেশেও পলিমার সামগ্রীর চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই প্ল্যান্ট থেকে ক্রুড অয়েল উৎপাদিত হবে। যা দেশিয় চাহিদা পূরনে ব্যবহৃত হবে। অন্যান্য কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরনের মাধ্যমে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদিত হবে। এজন্য সরকার বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা, ২০১৯ জারি করেছে।
পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট দেশে নতুন ধরনের শিল্প কারখানা। এ শিল্পে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ছাড়াও উপজাত হিসেবে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল উৎপন্ন হবে। এই জ্বালানি রফতানি ও দেশের অভ্যন্তরে বিক্রির জন্য মূল্য নির্ধারন করবে বিপিসি। অর্থ্যাৎ উৎপাদনকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামত মুল্য নির্ধারন করতে পারবেনা। প্ল্যান্টের কাচামাল ন্যাফথা/ক্রুড অয়েল কোম্পানিকে বিপিসির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। বিপিসি সরবরাহ করতে অপারগ হলে বিপিসিকে অবহিত রেখে বেসরকারি কোম্পানি সরাসরি আমদানি করতে পারবে। প্ল্যান্টে উৎপাদিত পণ্য বিপিসির মাধ্যমে বাজারজাত করতে হবে। বিপিসির চাহিদা না থাকলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি রফতানি করতে পারবে। বেসরকারি উৎপাদনকারি প্ল্যান্ট মালিকদের ইচ্ছামতো মুল্য নির্ধারনসহ যথেচ্ছ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার নিয়ন্ত্রণমূলকভাবে বিপিসিকে দায়িত্ব দিয়েছে।
মহেশখালিতে নির্মাণাধীন প্ল্যান্ট ও বসুন্ধরা প্ল্যান্ট এলএল ডিপিএল/এইচডিপিই উৎপাদন করবে বছরে ৪২ লক্ষ মে.টন। বছরে পলি প্রপাইলিন ২৫ লক্ষ মে.টন, বেনজিন ৫ লক্ষ মে.টন, টলিউন সাড়ে ৩ লক্ষ মে.টন, এক্সলিন ৫ লাখ মে.টন, উৎপাদন করা হবে। জেট ফুয়েল উৎপাদন হবে দেড় লক্ষ মে.টন, ডিজেল ৪৫ লক্ষ মে.টন, বেসঅয়েল/ হোয়াইট অয়েল ৪ লাখ মে.টন ফার্নেল অয়েল ৭ লক্ষ মে.টন এলপিজি দেড় লক্ষ মে.টন, ফুয়েল গ্যাস ২৪ লক্ষ মে.টন উৎপন্ন হবে।
জানা যায়, উল্লেখিত ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পেট্রো কেমিক্যাল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ বার্ষিক স্থানীয়ভাবে ও বৈদেশিক মুদ্রায় কমপক্ষে পনের হাজার কোটি টাকা অর্জন করতে সক্ষম হবে। কর্মসংস্থান হবে সহস্রাধিক মানুষের।

Share on Facebook