আতঙ্ক ও উদ্দীপনায় সিটি নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন ও ভোটের রাজনীতির প্রতি জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটার সাধারনের মধ্যে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার যে আগ্রহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে অবস্থা ফিরিয়ে আনাই নির্বাচনের বড় সংকট।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ অন্যদের মধ্যে গভীর আগ্রহ, উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সেইসাথে উদ্বেগ উৎকণ্ঠাও রয়েছে বিরোধী শিবিরে। কাউন্সিলর প্রার্থীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার অভিযানের মাধ্যমে ভয়-ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগ। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান দুই দলই আওয়ামী লীগও বিএনপি তরুন সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী উচ্চ শিক্ষিত, প্রত্যয়দীপ্ত, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে তারা সংকটে আছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি দুই দলেই। কেন্দ্র থেকে জোর চেষ্টা করা হচ্ছে সমঝোতার। এ ব্যাপারে বিএনপির চেয়ে ক্ষমতাসীনরাই অধিকতর সংকটে আছে। প্রশ্নহীন সিটি নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে সুষ্ঠ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির পক্ষে সরকারি দল দুই প্রবীন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমদ দলীয়ভাবে সমন্বয় করবেন নির্বাচনী কার্যক্রম। কিন্তু ইভিএম কারসাজি বন্ধ করতে তারা কি ভ‚মিকা রাখতে পারবেন? বিএনপি জয়লাভের ব্যাপারে দুই দলই সিটিতে গভীরভাবে আশাবাদী। বিএনপির প্রার্থীদের আশঙ্কা সরকারি দল ইভিএম জালিয়াতি, কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হানা, গ্রেফতারের মাধ্যমে ভীতি সঞ্চার করে সরকার দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা হবে। সম্ভাব্য এ অবস্থাটা বিবেচনায় রেখেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন শুধুমাত্র দেশবাসীর সামনে তাদের স্বরূপ আরেকবার উন্মোচনের জন্য। প্রশ্ন উঠেছে গত সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নিবার্চনে সরকারি দলের প্রার্থীরা কারচুপি জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন বলে বিএনপি অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু তারপরও বিএনপিও তার সহযোগীরা কি করতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশন, সরকারি দল ও সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন, প্রতিবাদ মিছিলও করতে পারেননি। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যদি বিরোধীদের আশঙ্কা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠ, জাল জালিয়াতিমুক্ত না হয় সেক্ষেত্রে নির্বাচন পরবর্তী কি ভ‚মিকা হবে, বিএনপি ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে ব্যতিক্রমী কিছু আশা করা যায়। বিএনপি প্রার্থীদের বক্তব্য এটাও অস্পষ্ট থাকছেনা যে, পরাজয় জেনেও মেনে নিয়েই তারা যেন নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন বিএনপিকে তার প্রধান সহযোগী জামায়াতের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বিদ্যমান আতঙ্ক দূর করেই জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির একযোগে নির্বাচনী মাঠে অবতীর্ণ হতে হবে। বিএনপিকেও জনমনে এই আস্থা তৈরি করতে হবে যে, তারা যেকোন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী ময়দানে থাকবে। গত সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েও ড. কামালের নেতৃত্বে সরকারের সাথে সমঝোতা বৈঠকেবসা, নির্বাচনে অংশ নেয়া, নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহন করা, না করা নাটক শেষে শপথ গ্রহন, সংসদীয় কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপি, গণফোরামসহ সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কাছে প্রশ্ন হয়ে আছে। এসব ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য জবাব আজও দিতে পারেননি বিএনপি ও ড.কামালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। জনমনে যে আস্থাহীনতা তাদের সম্পর্কে সৃষ্টি হয়ে আছে তা কাটিয়ে উঠাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের বিদায়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের অনেক কার্যক্রমে নগরবাসী সাধারণ মানুষ হতাশ, অসন্তষ্ট হলেও নির্বাচনে তাদের সামনে বিকল্প আছে কিনা সেটাও প্রশ্ন। সরকারের প্রতি মানুষের হতাশা, অসন্তোষ, ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি যোগ্য প্রার্থী দিলেও ভোটাররা যে তাদেরই ভোট দেবে, বিদ্যমান বাস্তবতায় তা কি নিশ্চিত করে বলা যায়? তারচেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে যে রাজধানীর ভোটাররা প্রত্যক্ষ করেছেন কিভাবে ভোটের আগেই ভোট হয়ে যায়। ইভিএম সম্পর্কে প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি প্রার্থীদের প্রবল আপত্তি রয়েছে। সিইসি নিজেও বলেছেন ইভিএম এ নির্বাচন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দলগুলোও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলেনি। ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহের চেয়ে অনাগ্রহই বেশি। ভোটের কারচুপি হলেও তা ধরার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বিএনপির পক্ষে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করে জনগনকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন সংগঠিত করা কি সম্ভব হবে? নির্বাচন নিয়ে নিকট অতীতেও তা যা বলেছেন শেষপর্যন্ত করেছেন তার উল্টো। সরকারি দলকেও ভোটের রাজনীতি সম্পর্কে জনমনে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে তা দূর করতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহন আরো মনে করেন, স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে জয় পরাজয়ে সরকারের বিজয় বা পতন আনবেনা। কিন্তু মানুষ ভোট দিতে না পারলে গণতন্ত্রের কফিনে আরেকটি পেরেকই ঠোকা হবে। যা কারো জন্যই কল্যান বয়ে আনবেনা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here