সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে কারিগরি সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তরে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ নিয়ে বড় ধরনের বিরোধও দেখা দিয়েছে। সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বিমান বন্দরের জন্য তিস্তা ব্যারেজের ৪৮ দশমিক ৯১৫ একর জমি পড়েছে। পরিকল্পিত সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের স্বার্থে তিস্তা ব্যারেজের ক্যানেল বৃদ্ধি করতে হবে অথবা এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করতে হবে। দু’ক্ষেত্রে সেচখাল তার কার্যকারিতা হারাবে। তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয় বৃটিশ-ভারত আমলে ১৯৩৭ সালে। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই পানি উন্নয়নবোর্ড ১৯৫৩ সালে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা নেয়। নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর জেলায় সেচ সুবিধা দেয়ার জন্য ১৯৭৯ সালে ব্যারেজ নির্মাণ ও ১৯৮৪ সালে সেচখাল খনন কাজ শুরু করা হয়। সৈয়দপুর এলাকায় জমি অধিগ্রহনে জটিলতা দেখা দেয়। সেচ খাল শুরু করার কাজই সাত বছর বিলম্বিত হয়। সেচ সুবিধা বিস্তৃত করতে তিস্তা ব্যারেজ দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নেয়া হয়। লে-আউট অনুযায়ী কার্যকর সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সেচ খাল খনন ও অন্যান্য স্ট্রাকচার নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সেচ খালের মাধ্যমে ভাটিতে আড়াই লক্ষ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে।
এদিকে প্রস্তাবিত সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের জন্য অধিগ্রহনাধীন জমিতে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের বগুড়া সেচ খাল এলাকার সৈয়দপুর অংশে ৯ দশমিক ৫০ একর এবং পাবর্তীপুর অংশে ৩৯ দশমিক ৪১০ একরসহ মোট ৪৮ দশমিক ৯১৫ একর জমি রয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত বিমান বন্দরের বর্ধিত অংশের যে আউটলাইন দেয়া হয়েছে তাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়া প্রধান খাল ও পাবর্তীপুর সৈয়দপুর মহাসড়কের উপর দিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে করে তিস্তা ব্যারেজ থেকে বগুড়া প্রধান খালে ও পাবর্তীপুর-সৈয়দপুরে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ হবে। বিস্তীর্ণ এলাকার বিপুল সংখ্যক কৃষক এতে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ এরিমধ্যে বগুড়া সেচ খাল প্রকল্পের আওতাধীন উজান ও ভাটিতে সাত কিলোমিটার প্রধান খাল খনন ও ক্রস রেগুলেটর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এতে দুই পয়েন্টেই হেড ডিফারেন্স ফিক্স হয়েছে। বিমান বন্দরের জন্য ক্যানেলের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দীর্ঘপথ ঘুরিয়ে আনা হলে বা এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করা হলে সেচ খালটি তার কার্যকারিতা হারাবে। মধ্যবর্তীস্থানে সেকেন্ডারি ক্যানেলের হেড রেগুলেটর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ করা হলে উক্ত সেকেন্ডারি ক্যানেল তার কার্যকারিতা হারাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলেছেন যে, সেচখালের লে-আউট এভাবে পরিবর্তন করা যায়না। তা করা হলে সেচ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যহত হবে। অপরদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সেচ খালের লেআউট পরিবর্তন করার জন্য বলেছেন। আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় তারা বলেন, বিমান বন্দরের লে-আউটের পরিবর্তনের বিকল্প নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ এতে প্রবল আপত্তি করে বলেছেন ক্যানেলের লে-আউট পরিবর্তন করা অবাস্তব, কারিগরি দিক থেকে অসম্ভব, অস্বাভাবিক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পরবর্তীতে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রকল্পটি গুগলম্যাপে বিস্তারিত পর্যবেক্ষন করে তারা প্রস্তাব দেন যে, বিমান বন্দরের বর্ধিত অংশটি পাবর্তীপুর-সৈয়দপুর মহাসড়ক ও সেচখালের উপর দিয়ে নির্মাণ না করে বর্তমান অবস্থান থেকে রেলপথের দিকে নির্মাণ করাই শ্রেয়। এতে সেচ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ব্যহত হবেনা। প্রকল্প ব্যয়ও বাড়বেনা। তাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবে বর্তমান ইরিগেশন ক্যানেলের পানি প্রবাহ কোনরূপ বাধাগ্রস্থ না করে এর উপর দিয়ে রানওয়ে নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। জানা যায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিতে সময় চেয়েছেন। দেশি-বিদেশি সিভিল এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়ার প্রস্তাবও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here