বিমান মন্ত্রণালয়ের হজবাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: হজযাত্রীদের সেবা করার নামে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর হজবানিজ্য দীর্ঘদিনের। হজযাত্রী হাজীদের অভাবনীয় দুর্ভোগ হয়রানির শিকার করে তারা ব্যবসা করে আসছে। গত হজেই প্রথম এ অবস্থার অবসানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ধর্মমন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। এতে হাজীরা অনেকাংশে স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু আগামী হজে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে ছাপিয়ে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং তাদের আওতাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নজিরবিহীন হজ বানিজ্য করতে যাচ্ছে।
জানা যায়, বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এক লাফে হজযাত্রী পিছু ২৬ হাজার টাকা বিমান ভাড়া বাড়িয়েছে। গত হজে হজযাত্রী ভাড়া ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। তার আগের বছর হজযাত্রী পিছু বিমান ভাড়া ১লাখ ২৪ হাজার টাকা। বছরে সীমিত পরিমানে যাত্রীভাড়া বাড়ানো হলেও আগামী হজে তা অস্বাভাবিকহারে বাড়ানো হয়েছে। এভাবে বিমান ভাড়া বৃদ্ধির ফলে হজযাত্রী, তাদের পরিবার -পরিজনসহ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের মধ্যে যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে এবং তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ভাবমূর্তি কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয় এবং বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনায় নেয়ার তাগিদ বোধ করেননি।
বিমান একটি অত্যন্ত লোকসানী সংস্থা। এর কারণ প্রধানত সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম। বিমানের অনিয়ম, দুর্নীতি রোধে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব আজ পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো কোন পদক্ষেপ নেননি। বরং অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রণালয়ের কোন কোন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা গা মিলিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত, গতিশীল, যাত্রীর নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বিমান পরিবহনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক গুরুত্বপূর্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে গোপনে তদন্ত করা জরুরি ও গুরুত্বপূর্ন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।
বিমান তার লোকসানের বোঝা কাটিয়ে উঠতে হজযাত্রী ও হাজীদের উপর বর্ধিত ভাড়া চাপিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করে। এর যৌক্তিকতা এবং ধর্মীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দিকটি বিবেচনায় না নিয়ে বিমান মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সাথে আন্ত: মন্ত্রণালয়ে সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয় এতে তীব্র আপত্তি জানায়। সরকারের ভাবর্মূতির উপর তা মারাত্মক আঘাত করবে বলে সতর্ক করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হজযাত্রীর সংখ্যাও এবার বেড়ে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার। ধর্মমন্ত্রণালয় অর্থমন্ত্রণালয় নতুন করে কোন ট্যাক্স আরোপ করেনি। সৌদি হজ মন্ত্রণালয়েও কোন শুল্ক ফি ধায্য করেনি। মোট হজযাত্রীদের অর্ধেক পরিবহন করে সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা। অর্ধেক যাত্রী নেয় বিমান। বিমানের স্বার্থে তৃতীয় কোন এয়ার লাইন্সের মাধ্যমে হজযাত্রীদের হজে যাওয়া গত বছর থেকে সরকার বন্ধ করে দেয়। এতে বিমানের লাভের অঙ্ক বেড়ে যায়। এসবের পরেও যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো। বিমান ভাড়া বাড়ানো হলে হজযাত্রী সংখ্যা কমে যাবে এবং এতে সরকারের ভাবর্মূতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা যায়, সৌদি ধর্মমন্ত্রণালয় এবার শতভাগ হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন গত হজের মতো বিমান বন্দর থেকেই করার পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু বিমান ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে হজযাত্রী কমে যাবে বলেই হাব এর আশঙ্কা। আগামী মাসে বিমান পরিবহন ভাড়াসহ হজ যাত্রীদের মোট কত খরচ হবে তা নির্ধারন করা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। তার আগেই বিমান ভাড়া চ‚ড়ান্ত করতে চায় ধর্ম মন্ত্রণালয়।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here