ট্রান্সশিপমেন্ট ফি সর্বনিম্ন পর্যায়ে দিতে চায় ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক : নৌপথে ট্রানশিপমেন্ট বাংলাদেশের প্রস্তাবিত চার্জ, ফি ও শুল্কহার ভারত মানতে নারাজ। তারা এ হার কমিয়ে অর্ধেক করার দাবি করেছে। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত শুল্ক, চার্জ ও ফির হার অযৌক্তিক উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে তা কমানোর জন্য বলেছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নৌ-ট্রানশিপমেন্টে আরোপিত শুল্ক, চার্জ, ফি’র ভিত্তিতেই প্রধানত রেল ও সড়ক পথে বিভিন্ন ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট ফি, চার্জের হার নির্ধারিত হবে। নৌপথে তা কম হারে নির্ধারিত হলে রেল ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়বে। যাতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই উদ্দেশ্যে ভারত নৌ ট্রানশিপমেন্টে এসব চার্জ, ফির হার সর্বোচ্চ পরিমাণে কম হারে নির্ধারণ করতে চায়। এতে অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা এর সুফল পাবেন।
জানা যায়, ভারত যত দ্রæত সম্ভব চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে চায়। নৌপথে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে দ্রæত পণ্য পরিবহন্ই এর উদ্দেশ্য। এতে পরিবহন খরচ দুইশ ভাগেরও বেশি কম হবে। সময়ও অনেক বাঁচবে। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক, লরি চলাচলের জন্য প্রতি কিলোমিটার সড়ক পরিবহনে দুই টাকা, টন প্রতি ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি দশ টাকা, টনপ্রতি ট্রানশিপমেন্ট ফি বিশ টাকা, সীমান্ত পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে সিকিউরিটি বাবদ টন প্রতি একশ টাকা, এসকট চার্জ টন প্রতি পঞ্চাশ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ বাবদ চার্জ ট্রাক প্রতি একশ টাকা, বন্দরে কনটেইনার স্ক্যানিং বাবদ ২৪৫ টাকা, ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক, লরিতে ইলেকট্রনিক সিল ও লক লাগানো বাবদ ছয়শ টাকা চার্জ ধরা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সেতু বিভাগ, পুলিশ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ চার্জ, ফি ও শুল্ক প্রস্তাব করে। দু’দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হলে ভারতীয় পক্ষ এতে তীব্র আপত্তি জানায়। এ সবই অর্ধেকে কমিয়ে আনার দাবি করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ তাতে সম্মত হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থাই এতে আপত্তি জানিয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৫-৩০ মেট্রিক টন পণ্যবাহী ভারতীয় ভারী ট্রাক, লরি চলাচলে বাংলাদেশের সড়ক, মহাসড়কসমূহের যে ক্ষতি হবে তা সংস্কার মেরামত, পুননির্মাণে আর্থিক হিসেবে বছরে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। ফি, চার্জবাবদ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক, লরি থেকে বছরে আদায় হবে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার কোটি টাকা। তারা এ হার আরো বাড়ানোর যৌক্তিককতা তুলে ধরেন। অন্যান্য সংস্থাও প্রস্তাবিত হার কমানোর বিপক্ষে মত রাখে। এ অবস্থায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া মন্ত্রণালয় এককভাবে সিদ্ধান্ত দিতে পারছেনা। জানা যায়, মন্ত্রণালয় দশ শতাংশ হারে শুল্ক চার্জ, ফি কমানোর পক্ষে। তাও চ‚ড়ান্ত করা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। পরবর্তীতে দু’দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকেই বিষয়টি চ‚ড়ান্ত হবে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here