পর্যটন মহাপরিকল্পনাই করতে পারেনি মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার পর ৪৭ বছরেও দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকার একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্তে¡ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনাও নেয়নি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। গত দুই বছরেও একটি স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনাও প্রণয়ন করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটক আগমনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বাংলাদেশে তা হয়নি। জঙ্গি হামলা কঠোর হাতে দমন ও জঙ্গি হুমকির আশঙ্কা না থাকা বা অনেক কম থাকা সত্তে¡ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় তার সুযোগ নিতে পারছেনা। হলি আর্টিজান হামলার পর দেশে-বিদেশে, বিশেষ করে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর তেমন কোন প্রচার প্রচারনা না থাকায় বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশকে নিয়ে তেমন একটা আকৃষ্ট হয়নি। কক্সবাজারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হোটেল, মোটেল নির্মিত হলেও বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়নি। রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, কুমিল্লা, পাবর্ত্য জেলা সমুহসহ দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে যাতায়াত, খাবার, আবাসন, নিরাপত্তা-সুযোগ সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করা হয়নি।
বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় দেশ। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে এখানে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়, কর্পোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা মতো নয়ই, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাদের অভাবনীয় ব্যর্থতায় সরকারের উচ্চতর পর্যায় থেকে বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডকে পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০২০ সালের মধ্যেই মহাপরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। তাদের শোচনীয় ব্যর্থতায় সরকারের উচ্চতর পর্যায়ে থেকে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক পর্যটক পরামর্শক সংস্থা নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। এজন্য বাজেট প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালনাকে আহŸায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সাড়ে পঁচিশ কোটি টাকার একটি ব্যয় প্রাক্কলন করে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এক্সপ্রেসন অব ইনটারেস্টে আহŸান করলে বারটি দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন পাওয়া যায়। মূল্যায়ন করে এদের মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতাসম্পন্ন বলে চিহ্নিত করা হয়। সাতটি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব পাঠাতে অনুরোধ করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইনস্টিটিউট ফর ডেভলপমেন্ট কো অপারেশন (আই আই ডিসি), আইপিই গেøাবাল লি:, নয়াদিল্লী, জাপান ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট লি, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গেøাবাল কো.লি: এবং রুদ্র বৈশাখ ইন্টারপ্রাইজেস লি:। এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। মুল্যায়নে গড় নম্বর ন্যূনতম ৭০ যোগ্যতার জন্য নির্ধারিত হয়। আই আই ডিসিকে নন রেসপনসিভ ঘোষনা করা হয় ন্যুনতম ৭০ নম্বর পায়নি বলে। জাপান ডেভলপমেন্ট ইনস্টিটিউট লি: ৭৪ দশমিক ৩২ নম্বর এবং আইপিও গেøাবাল লি:, ৭১ দশমিক ০৮ নম্বর পেয়েছে। রুদ্র বৈশাখ স্থানীয় উদ্যোক্তা। এদের সাথে ভারতীয় উদ্যোক্তা রয়েছে। মূল্যায়িত টেকনিক্যাল স্কোরের দিক থেকে জাপানি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে থাকলেও কাজ দেয়া হচ্ছে ভারতীয় মালিকানাধীন আইপিই গেøাবাল লি: নয়াদিল্লীকে। দেশীয় প্রতিষ্ঠান রুদ্র বৈশাখ ও রেসপনসিভ এবং প্রতিযোগিতামূলক রেট দেয়া সত্তে¡ও তাদের কাজ দেয়া হয়নি। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী দেড় বছরে তারা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। দেশের বিদ্যমান ও সম্ভাব্য সকল পর্যটন আকষর্নীয় স্থানসমূহের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সাধারন ও মৌখিক সেবা, বিনোদনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কৌশল ও নির্দেশনা মহাপরিকল্পনায় অন্তভর্‚ক্ত থাকবে। পরামর্শক দলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পাঁচজন আন্তর্জাতিক পরামর্শক (৭২ জনমাস) ও ১৪ জন জাতীয় পরামর্শক (১৫৮ জনমাস) থাকছেন। মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৯ কোটি টাকা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here