বিদেশিদের সম্পৃক্ততা চায় বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে সরকার বিশেষভাবে সতর্ক থেকেই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে আসছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার দেশে বিদেশে নতুন করে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চায়না বলেই বাড়তি সতর্কতা। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, যে তাদের পরিকল্পিত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পর ঢাকার দুই শহরে উল্লেখযোগ্য অঘটন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডবিহীন শান্তিময় পরিবেশ বজায় রয়েছে। কয়েকটি অঘটন ঘটলেও তা মারাত্মক রকমের নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রতিপক্ষ বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে থেকে হামলা, গোলযোগ এড়িয়ে চলার নির্দেশ রয়েছে। যে কারণে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা আগেকার মত বাড়ছেনা। সাধারনভাবে কর্মীদের ও পুলিশের ও নিয়ন্ত্রিত আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা রাজধানীর ভোটার সাধারনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যেয়ে ভোট দিতে উৎসাহ যোগাচ্ছে।
বিএনপি ও তাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের একটা অংশ ঢাকার সিটি নির্বাচনে বিদেশিদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। ড.কামাল হোসেন, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খানসহ বিএনপি ও জাতীয় ঐকফ্রন্টের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ঢাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকা, ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সরকার নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন। ব্যক্তিগতভাবে ও অনানুষ্ঠানিকভাবে ড.কামাল, মির্জা আলমগীর, ব্যরিস্টার মওদুদ, ড.মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও ক‚টনীতিকদের কাছে কতিপয় ঘটনার উল্লেখ করে পক্ষপাতমুক্ত জাল-জালিয়াতির নির্বাচনে আশঙ্কার কথা জানান। গত সপ্তাহে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আশঙ্কা-অভিযোগ তুলে ধরেন। ইভিএম ব্যবহারের ব্যাপারে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে তারা ক‚টনৈতিকদের সতর্ক করেন। ক‚টনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বিরোধীরা বিদেশিদের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। দু তিনটি ঘটনা ঘটলেও তা মারাত্মক উদ্বেগজনক কিছু নয় বলে তারা মনে করেন। নির্বাচনী মিছিল শহরজুড়ে প্রতিদ্ব›দ্বীদের দৃষ্টিকাড়া ব্যাপক পোস্টারিং এবং কোথাও প্রতিপক্ষের পোষ্টার ছিড়ে না ফেলার ঘটনাও প্রশংসনীয় বলে ও তারা উল্লেখ করেন। বিএনপি থেকে ইভিএম কারচুপি প্রতিরোধে বিদেশি ক‚টনীতিকদের সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষনের উপর জোর দেয়া হয়। এব্যাপারে স্থানীয় ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন এবং প্রতিদ্ব›দ্বী দলগুলোর তথ্য প্রমান ভিত্তিক রিপোর্টের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। জানা যায়, ড.কামাল হোসেনের স্ত্রীর মালিকানাধীন ডেমোক্রেসি ওয়াচসহ কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে।
নির্বাচন কমিশন থেকে দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টদের জানান হয়েছে, যে, পুলিশকর্তৃক মধ্যরাতে সীলমেরে ব্যালটবাক্স ভরার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্টের ইভিএম, এ কারচুপির যে আশঙ্কা প্রকাশ করার হচ্ছে তা অবাস্তব, অযৌক্তি ও প্রমান সাপেক্ষে বলে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, ইভিএম ব্যবহারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা হবেনা। সেনা বাহিনীর অভিজ্ঞ, দক্ষ সদস্যদের বিশেষজ্ঞ সেবা নেয়া হবে। সরকারি দলের একাধিক নেতা বলেন, বিএনপি ও তার সহযোগীদের ইভিএম এ কারচুপির নির্বাচনের আশঙ্কা পুরোপুরি অমূলক। কারণ তাদের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের সামনেই ইভিএম চালু, কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দু’ বড় দলের প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা, দূরদশি বক্তব্য, আচরন দিয়ে তরুন সমাজসহ নগরবাসী হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সরকারি দলের লোকজন, বিশেষ করে মন্ত্রী, এমপিরা কোনভাবেই নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন না। নগরীর ভোটার সাধারণ বিদেশি ক‚টনীতিকরাও তা প্রত্যক্ষ করছেন। এতেও প্রমাণ হয় যে বিরোধীদের অভিযোগ কল্পনা প্রসূত ভিত্তিহীন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here