সিটি নির্বাচন ২০ দলীয় জোটকে দুর্বল করেছে শক্তিশালী হয়েছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি জোটবদ্ধভাবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করার কথা বললেও বাস্তবে তা হচ্ছেনা। জামায়াতে ইসলামী, এলডিপিসহ ২০ দলীয় জোটের সাত-আটটি দলের নেতা-কর্মীদের বিএনপির পক্ষে দেখা যাচ্ছেনা। জামায়াত প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধান ড.কামাল হোসেনের বিরূপ মন্তব্য জামায়াত ও তার প্রধান মিত্র শক্তি ড.কর্ণেল (অব:) অলি আহমদের এলডিপির নেতা-কর্মীদের দারুনভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী মার্চে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ব্এিনপিকে এককভাবে করতে হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন, কিছু কিছু সাংগঠনিক রাজনৈতিক প্রতিক‚লতার পরও সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছে। তাদের কর্মীরা মাঠে নেমে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। আশেপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলার কর্মীরা ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রচার প্রচারনায় অংশ নিচ্ছেন। অবশ্য সরকার দলীয় প্রার্থীদের অভিযোগ, বাইরে থেকে বিএনপি সন্ত্রাসীদের জড়ো করেছে গোলযোগ, কেন্দ্র দখল করার জন্য। গত সংসদ নির্বাচনে ও সিটি নির্বাচনেও অনেক ভোটার ভোট দিতে না পারায় ভোটারদের মধ্যে ইচ্ছামতো ভোট দেয়ার আকাঙ্খা অপূর্ণ রয়ে গেছে। ১লা ফেব্রæয়ারি রাজধানীবাসী ভোটকেন্দ্রে এলে তাদের চাপা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটতেও পারে বলে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা মনে করছেন। দক্ষিনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এবং উত্তরে তাবিথ আউয়াল, তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বিঘেœ প্রচার কাজ চালিয়েছেন। দুতিনটি ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আগামীতে কর্মসূচি সফল করতে তা বড় শক্তি হয়ে কাজ করবে। নির্জীব, নিষ্ক্রিয় কর্মীদের মাঠে নামাতে পারাটাই বিএনপির জন্য বড় অর্জন।
ইশরাক ও তাবিথের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি ভোটারদের প্রভাবিত করছে। আবার জামায়াত এলডিপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার বিরূপ প্রভাবও রয়েছে। জোটবদ্ধভাবে শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ ও ওয়ার্ডভিত্তিক নেতৃস্থানীয়দের অংশগ্রহনে প্রচার প্রচারনা চালানো হলে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু তা উল্লেখযোগ্যভাবে হয়েছে বলে মনে হয়না। যদিও বিএনপি ও তাদের প্রার্থীদের শরিকদের নিয়ে প্রচার-প্রচারনা ব্যাপকভাবে চালানোর পক্ষে সিদ্ধান্ত ছিল। জামায়াত ও এলডিপির আশা ছিল, দাবিও করেছিল কাউন্সিলর পদে বিএনপি তাদের ন্যূনতম ছাড় দেবে। কিন্তু তা হয়নি। উপরন্ত ড.কামাল হোসেনের জামায়াত বিরোধী বক্তব্য তাদের দারুনভাবে হতাশ করে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধান ড. কামাল শুরুতেই জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচনের প্রবল বিরোধিতার করে বক্তব্য রাখেন। কর্ণেল অলি আহমদ বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান মিত্র হিসেবে আর্বিভ‚ত হয়েছেন। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে প্রচার-প্রচারনায় নামলে তাতে বিপরীত ফল হবে এবং ড.কামাল ও তার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ এর নেতা-কর্মীদের পক্ষে ভ‚মিকা রাখা সম্ভব নয় বলে সুস্পষ্টভাবে জানান হয়। ড.কামাল ও তার সহযোগীদের এই চাপ সৃষ্টিকারী ভ‚মিকা কার্যত কার পক্ষে গেছে তা নিয়ে সন্দিহান বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই। তবে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ নেতারা এতে সন্তষ্ট। কারণ তারা জানেন ড.কামালের লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। জামায়াত এলডিপি, খেলাফত, ইসলামী আন্দোলনসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা বিএনপির নেতা-কর্মীদের হতাশ করেছে। সামনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন নিয়েও তারা সন্দিগ্ধ ও শঙ্কিত। বিএনপি ও ২০ দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে এতে প্রতিক্রিয়া হলেও বিএনপির কেউই মুখ খুলতে পারছেন না। নাম সর্বস্ব দলের কর্মী-সমর্থকহীন নেতা কামাল হোসেনের ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অধিকাংশ নেতারই প্রবল আপত্তি রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ক‚টনীতিকদের সঙ্গে ড. কামাল ও তার কয়েকজন বন্ধুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান ও তার সহযোগীরা। কিন্তু গত সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত ড. কামাল ও বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির জন্য ইতিবাচক কোন ফল বয়ে আনতে পারেননি। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহন, যেকোন পরিস্থিতিতে নির্বাচনীয় মাঠ না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়া ড.কামাল হোসেনের পরামর্শেরই ফলশ্রæতি বলে জানা যায়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্ভয়ে রাজনৈতিক প্রচার প্রচারনায় অংশ নিতে পারাই তাদের জন্য ফায়দা বলে মনে করা হচ্ছে। ড.কামাল এবং বিএনপিতে তার সহযোগী আইনজীবী ও তারেক রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারি নেতা ঢাকাস্থ বিদেশি ক‚টনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে যোগাযোগ ও অনানুষ্ঠানিক, আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে চলেছেন। সরকারি প্রভাবশালী একটি মহলের সাথেও তাদের বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ রয়েছে। ফলাফল যাই হোক নির্বাচনের বৈধতা দেয়ার এবং দলীয় কর্মীদের সংগঠিত শক্তি অর্জনের জন্যই প্রধানত বিরোধীদের এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন। বেগম খালেদা জিয়ার অদূর ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরিই নেপথ্য উদ্দেশ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here