যোগ্য প্রার্থীদের সুস্থ প্রতিযোগিতার অপেক্ষায় নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকা শহরের দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রভাবমুক্ত প্রশ্নহীন রাখতে নির্বাচন কমিশন ও সরকার দৃশ্যত জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। ঢাকা উত্তরে ও দক্ষিণে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা-প্রচার -প্রচারণা বাধা বিঘœহীনভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই মেয়র প্রার্থীর তিন নির্বাচনী সমাবেশ, মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটলেও এর বিস্তৃতি ঘটেনি। সরকার দলীয় কর্মীদের ও আইন শৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যদের নিয়ন্ত্রিত ও সতর্ক আচরনের কারনে নির্বাচনে সামগ্রিক শান্তি শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্যময় পরিবেশ বজায় রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের দিন তা কতটা থাকে আদৌ তা নিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে গভীর শঙ্কা রয়েছে। ইভিএম জালিয়াতির আশঙ্কা তাদের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল আরো মনে করেন, স্থানীয় সরকার সংস্থা সমূহের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের যে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করছে তা সাম্প্রতিক কালে বিরল। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের প্রধান প্রধান রাজপথ, অলি গলিসহ শহরময় নৌকা, ধানের শীষের মেয়র প্রার্থীদের এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে আছে। প্রতিদ্ব›দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ঝুলে থাকা পোস্টারগুলোর একটি দুটিও ছেঁড়া, বিনষ্ট করার ঘটনা চোখে পড়ছেনা। খুব কাছাকাছি নির্বাচনী মিছিল ও হয়েছে। প্রথমদিকে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মেয়র প্রার্থীদের প্রতিপক্ষ দল ও দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ গোলযোগই হয়েছে প্রতিদ্ব›দ্বী কাউন্সিলরদের কর্মী সমর্থকদের স্থানীয় বিরোধ কেন্দ্রিক, ব্যক্তিগত, রাজনৈতিকভাবে আক্রমনাত্মক বক্তব্য রাখতেও দেখা যায়নি। রাজপথে নির্বাচনী সমাবেশ করার ব্যাপারে দুই পক্ষকেই যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গেছে। তারা জনদুর্ভোগ যাতে যথাসম্ভব কম হয় সেদিকে সতর্ক থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমাবেশ সমাপ্ত করেছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের এই উদারতা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম তরুনদের পর্যায়ভুক্ত নাহলেও বিএনপি দলীয় প্রতিদ্ব›দ্বীর বয়স, অভিজ্ঞতার বিচারে প্রবিনই বলা হয়। মেয়র হিসেবে বিদায়ী এবং স্বল্প সময়ে দায়িত্বে থাকার সুবাদে উত্তরের ভোটার সাধারনের সমর্থন, সহানুভ‚তি আশা করছেন তিনি। পরিকল্পনা মাফিক কর্মকান্ডসমূহ বাস্তবায়নের সুযোগ চাচ্ছেন তিনি। ডেঙ্গু মশা দুই কর্পোরেশনের জন্যই আতঙ্ক ছিল। ঢাকা উত্তরের অনেক মানুষও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। মেয়র আতিকুলের আন্তরিকতা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি কাড়ে এবং এ কারনে দক্ষিনের মেয়রের মতো তার প্রতি ভোটার সাধারনের ক্ষোভ এতটা প্রবলভাবে ছিল না। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ডেঙ্গু নিধনের জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ড তরুন সমাজসহ সাধারন মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যরিস্টার তাপস এবং বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক- দু’জনেই নবীন। তাপস দু’মেয়াদের এমপি হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। নগরজীবনের সমস্যা সমাধানে ভ‚মিকা রাখার সুযোগ পাননি। ইশরাক একেবারেই নবীন। পিতা খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সন্তান তিনি, এই তার বড় সম্বল। সঙ্গি হয়েছে বিএনপির ধানের শীষের প্রতি কর্মী সমর্থক ছাড়াও সাধারনের দুর্বলতা। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক মনে প্রানেই নিরহঙ্কারী, অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র। প্রকাশ্যে অসংখ্যবার বলেছেন যে, তিনি নগরপিতা হতে চান না, নগরবাসীর পুত্রের স্নেহ মমতা পেতে চান।
এবারের সিটি নির্বাচনে দুই কর্পোরেশনের প্রতিদ্ব›দ্বী মেয়র প্রার্থীদের বড় যোগ্যতা তাদের কারো বিরুদ্ধেই অসততা, দুর্নীতি অসৎ আচরন, জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকা, কাউকে এতে উৎসাহিত করার অভিযোগ নেই। এরা সকলেই উচ্চ শিক্ষিত, পারিবারিকভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে ভদ্র, বিনয়ী, সৎ, ত্যাগি। তারা দেশের দুই প্রতিদ্ব›দ্বী দুই বড় দলের প্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্ব›দ্বীতাও হবে প্রবল। গত সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার দু:খবোধ মানুষের মধ্যে প্রবলভাবেই রয়েছে। বিএনপি প্রার্থীরা আশা করছেন নির্বাচনে ভোটাররা তার প্রতিফলন ঘটাবেন। অপরদিকে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড, নবীন মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাদের আন্তরিক প্রয়াস, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ব্যক্তি, গোষ্ঠী স্বার্থবাদীদের নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে শীর্ষ নেতৃত্বের দৃঢ়তা নগরবাসী প্রত্যক্ষ করছেন। সমস্যা সংকুল শহরের সংকট সমাধানে বা কমাতে দুই সিটি কর্পোরেশনের সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা অপরিহার্যভাবে প্রয়োজন। সরকার দলীয় প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হলে এ’ক্ষেত্রে তারা বিশাল ভ‚মিকা রাখতে পারবেন। এসব বিবেচনায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন নগরবাসী তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের স্থির বিশ্বাস।
অপরদিকে বিএনপি নেতারা মনে করেন নগরবাসী বিএনপির প্রার্থীদেরই বেছে নেবে। ধানের শীষের প্রতি দুর্বলতা ও অতীতে ভোট দিতে না পারার বেদনা তাদের উৎসাহিত করবে বলেই তারা মনে করেন। ইভিএম-এ ডিজিটাল কারচুপির আশঙ্কা করছেন তারা। নির্বাচন কমিশন থেকে বার বারই বলা হচ্ছে, এ ধরনের সংশয়-শঙ্কা ভিত্তিহীন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here