গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন মাত্রা সংযোজনের দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ১ ফেব্র‍ুয়ারি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা সংযোজনের দিন। তা কালিমালিপ্তও হতে পারে। মহিমান্বিতও হতে পারে। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষদিন পর্যন্ত যতটা শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খলতার সঙ্গে প্রচার প্রচারণা হয়েছে তাতে কলঙ্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাপথের নবতর সুচনাই দৃশ্যমান হলো। অবশ্য আজ ভোটের দিন ভোটারদের নির্বিঘে্ ভোট দিতে পারে, নির্বাচন কমিশনও পুলিশের আইনুনাগ আচরন, বিধিসম্মত ভাবে ফল প্রকাশ, ডিজিটাল কারচুপি মুক্ত নির্বাচনই চুড়ান্তভাবে প্রমাণ করবে কোন পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি এবং নির্বাচন কমিশনও গণতান্ত্রিক পরীক্ষায় অবর্তীণ হওয়ার দিন আজ। আওয়ামী লীগকে প্রমাণ করতে হবে সরকারের জনপ্রিয়তা কমেনি। ভোটার সাধারণকে ভোটাধিকার প্রয়োগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে অগ্নিসন্ত্রাস, বোমাবাজির পথ তাদের নয়। গণতন্ত্র, ভোটাধিকারেই আস্থাশীল তারা। নির্বাচন কমিশনকেও প্রমান করতে হবে তারা ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ বা সহযোগী নন। সুষ্ঠু, অবাধ, প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠানের জন্যই অগ্নিপরীক্ষা হয়ে এসেছে আজকের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজয় দেশের গণতন্ত্রের ভিত ও তার অগ্রযাত্রাকেই শক্তিশালী করবে। এর ভিন্নতা ভবিষ্যতকেই সংকটাপন্ন করবে, যার অসহায় শিকার হবেন গণতন্ত্রপ্রিয় দেশের সাধারন মানুষ।
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গতকাল পর্যন্ত গোটা শহরময় যে শান্তি শৃঙ্খলা সৌহার্দ্যপূণ্য পরিবেশ বজায় ছিল এ দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এও এক নজিরবীহিন ঘটনা। দুই শহরে তিন চারটি গোলযোগ হয়েছে। তবে তা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা নয় এবং নিতান্তই স্থানীয় কাউন্সিলরদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যকার ঘটনা। এছাড়া সামগ্রিক পরিবেশ পরিস্তিতি ছিল সুস্থ, উদ্দীপনায়। বিএনপির প্রার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ ও বিভিন্ন অভিযোগ করলেও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা ছিল কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাধা বিঘœহীন। ধানের শীষ আর নৌকার পোস্টারের পাশাপাশি অবস্থান মানুষকে উদ্দীপ্ত করেছে। কোথাও কোন পক্ষ অপর পক্ষের পোস্টারে হাতের ছোয়াও লাগাননি। প্রবল আশঙ্কা ইভিএম নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ নয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা যৌথ বিবৃতিতে ইভিএম কারচুপি, সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন, স্বচ্ছ ফল প্রকাশ প্রক্রিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বিঘেœ পর্যবেক্ষন, ভোটারদের নিরাপদে, নির্ভয়ে ভোটদান নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস ও বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। প্রার্থী হিসেবে প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত যোগ্য। দুই বড় দলেরই কর্মী-সমর্থক-জনপ্রিয়তা রয়েছে। সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী যদি নাও হতে পারেন আগামীতে তা তাদের জন্য বড় রকেমের নির্বাচননী সুফল বয়ে আনবে। ধানের শীষ এবং খালেদা জিয়ার প্রতি কর্মী সমর্থকরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভাল একটা অংশের দুর্বলতা রয়েছে। পুলিশের বাড়াবাড়ি, লাগামহীন আচরণ, সরকার ও সরকার দলীয় কিছু সংখ্যক নেতা-কর্মীর অনৈতিক, বেআইনী কর্মকান্ড মানুষকে বিতশ্রদ্ধ করে তুলেছে। দুর্বিসহ অবস্থা থেকে পরিত্রানের পথ খুঁজছে মানুষ। জনমানুষের মনোভাবের মুল্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংগঠনিক, প্রশাসনিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। পুলিশের আচরণ কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত হলেও জনমানুষের মন থেকে ভীতি-সংশয়-শঙ্কা দূর হয়নি। সরকারের এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি সিটি নির্বাচনে যোগ্য, সৎ, ভদ্র, বিনীয়দের প্রার্থী করায় এবং তাদের অহিংস বক্তব্য আচার আচরন নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অপরদিকে, বিএনপির প্রার্থীরাও শিক্ষাগত, পারিবারিক, রাজনৈতিকভাবে যোগ্য, সৎ, নিবেদিত প্রান। উভয় পক্ষের প্রার্থীরাই তরুণ এবং নৈতিক উচ্চ মান সম্পন্ন। বড় এই দুই দলেরই কর্মী-সমর্থক যথেষ্ট সংখ্যারই রয়েছে ঢাকা শহরে। পরস্পরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিও অভিযোগ করেছে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখলের। বাইরে থেকে হাজার হাজার কর্মী ঢাকায় জড়ো করে কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার অভিযোগ দুই দলের শীর্ষ পর্যায় থেকেই করা হয়েছে। রাতে বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা না হলে, ভোটারদের পথিমধ্যে বাধা দেয়া না হলে, সর্বোপরি ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে এবং কথিত ডিজিটাল কারচুপি না হলে ফলাফলের পাল্লা কোনদিকে ভারি হবে বলা মুশকিল। যদিও বিজয়ের ব্যাপারে দুপক্ষই গভীরভাবে আশাবাদী।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here