রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা মার্চেও প্রকাশ করা হচ্ছেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পুর্ণ হতে চলল। দীর্ঘ এই সময়েও মুক্তিযোদ্ধাদের অবিতর্কিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হলোনা। বরং সব সরকারের সময়েই সঠিক তালিকা প্রণয়নের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দীর্ঘই হয়েছে এবং বহু ভ‚য়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত ও গেজেটভুক্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০১ জন সনদধারী ভ‚য়া প্রমাণিত হয়েছেন এবং তাদের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ দিকে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এক চরম অনাকাঙ্খিত ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সংশোধিত আকারে সঠিক তালিকা আগামী মার্চে স্বাধীনতার মাসেও প্রকাশ করার সম্ভবনা ক্ষীণ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিরূপনে আইনগত জটিলতার অবসান হচ্ছেনা। মন্ত্রণালয় গত ডিসেম্বরে এ তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছিল। তা সম্ভব হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫৪ জন অনলাইনে আবেদন করেন। এদের ছাড়াও সরাসরি আবেদন করেন ১০ হাজার ৯শ জন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সকল মহানগর, জেলা, উপজেলায় ৪শ ৭০টি যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। তারা এখনও তাদের নির্ধারিত কাজ শেষ করতে পারেননি। ৭৫টি কমিটি প্রতিবেদনই জমা দিতে পারেনি। অপর যাচাই বাছাই কমিটিগুলো প্রায় ২৭ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তাদের নামে গেজেট প্রকাশের সুপারিশ করে। অপরদিকে ১০৫টি উপজেলা, জেলা ও মহানগর থেকে যাচাই বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতির অভিযোগ এনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ অবস্থায় যাচাই বাছাই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে অঞ্চল ভিত্তিক পৃথক পৃথক কমিটি করা হয়। কমিটি আজও তার কাজ শেষ করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে বিগত জোট সরকারের সময় ৪২ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়। বিগত মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১৪ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দুই সরকারের সময়ই প্রদত্ত সনদ স্থগিত করে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করার পরই তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অঞ্চল ভিত্তিক পৃথক কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই যাচাই-বাছাই কমিটি তার কাজ আবার শুরু করবে। এমনি জটিল পরিস্থিতিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here