পঞ্চমবার দরপত্র আহবান করেও সাড়া পাওয়া যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চমবারের মতো দরপত্র আহ্বান করেও একজন দরদাতা পাওয়া যায়নি। এতে করে পরিবেশ ও জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। প্রকল্পটির ভবিষ্যতই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নিউ ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিসটেম) প্রকল্প নিয়ে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে উল্লেখিত নদীগুলো ১৬২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বুড়িগঙ্গায় মিলিত হয়েছে। এই দীর্ঘপথে যমুনা নদী হতে পলি মিশ্রিত প্রবাহ নিউ ধলেশ্বরীতে প্রবেশ করায় নদীর তলদেশ পলিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে শুকনো মওসুমে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বুড়িগঙ্গা নদীর প্রবাহ বাড়ছেনা। দূষিত পানি নদী ও আশেপাশের পরিবেশ বিষাক্ত করে তুলেছে। বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারে ৯৪৪ কোটি ৯ লক্ষ টাকার প্রকল্প নেয়া হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। যমুনা ও নিউধলেশ্বরীর উৎসমুখে নদীর উভয় পাশের তীর ভাঙ্গন রোধকল্পে সিসি বøকদ্বারা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাসহ গাইড বাঁধ নির্মাণ, নদীর তলদেশের ভরাট হওয়া পলি ড্রেজিং করে যমুনার প্রবাহ শুকনো মওসুমেও স্বাভাবিক রাখা প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। এ পর্যন্ত পাঁচ বার দরপত্র আহবান করা হয়েছে। প্রথমবার একজন, দ্বিতীয়বার দু’জন, তৃতীয় ও চতুর্থবার দু’জন করে এবং চতুর্থবারে একজন ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নেন। চলতি অর্থ বছরে পঞ্চমবারের মতো দরপত্র আহŸান করা ইতিপূর্বেকার দরপত্রগুলো টেকনিক্যালি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত না হওয়ায় মোট প্রকল্প ব্যয় ৯৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু এখনও কাজ শুরু করাই সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টেকনিক্যালি গ্রহনযোগ্য অফার পাওয়া না গেলে সেনাবাহিনী দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যমুনা প্রবল স্রোতস্বীনি হওয়ায় গাইডবাঁধ নির্মাণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। ইতিপূর্বে গাইড বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় ঠিকাদাররা যমুনায় কাজ করতে আগ্রহী নয়। কারণ তাতে তাদের লোকসানের ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here