বিএনপির কাউন্সিল আগামী শীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা ঘোষণা করেছিলেন গত ডিসেম্বরের মধ্যে দলে জাতীয় কাউন্সিল করা হবে। কিন্তু তা তারা পারেননি। ঘোষনায়ই রয়ে গেছে। আগামী এক বছরের মধ্যেও কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্ভব হবে কিনা সংশয় রয়েছে। যদিও লন্ডন প্রবাসী নেতার কাছ থেকে নির্দেশনা এসেছে এ বছরের প্রথম ভাগের মধ্যে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের।
ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ছিল না বিএনপির। কেন্দ্রিয় সম্মেলনের আগে সকল উপজেলা, জেলা, পৌর ও মহানগর শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠানের সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ৪২টি জেলা সম্মেলন এখনও সম্পন্ন হয়নি। জেলা, উপজেলা, পর্যায়ে অনেক জায়গায়ই নেতৃত্বের দ্ব›দ্ব-বিরোধ রয়েছে। এসব উপজেলা, জেলার সম্মেলন না করে কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সহসা বা স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যমান দ্ব›দ্ব-বিরোধের অবসান করা সম্ভব হয়নি। তারপর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জেলায়, উপজেলা, ও অন্যান্য মহানগর ও পৌরসভার নেতা কর্মীদের ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়।
সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার অন্যতম উদ্দেশ ছিল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি, দূরত্ব কমিয়ে নিজেদের একতাবদ্ধ করা। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কর্মীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, মিছিল সমাবেশে অংশ নেন। ভোটার সাধারণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে সিটি নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটবে বলেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা গভীরভাবে আস্থাশীল ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হলোনা। কারণ বিএনপির কর্মী সমর্থকরাসহ মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রেই আসেনি। তারপরও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংগঠিত শক্তি দলটির বড় শক্তি এবং সরকারের জন্য হুমকি হয়ে থাকবে। আগামী মার্চে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ঢাকার অভিজ্ঞতার পরও বিএনপিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনার পক্ষে ড.কামাল হোসেন। ঢাকার নেতিবাচক ফলাফল বিএনপির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতার কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিলনা। দুই সিটির দুই মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়ালকে রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান করতেও বলা হয়েছে। কাউন্সিলের পরই বিএনপি সরকার বিরোধী কার্যকর আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। সমস্যা হচ্ছে কাউন্সিলে দলের নেতৃত্ব নির্বাচন। চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি এবং তাঁকে পূনরায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত করা এবং দন্ডিত তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার আইনগত ও সাংগঠনিক বৈধতার বিষয়টি মুখ্য হয়ে রয়েছে। সরকারের সাথে সমঝোতা ছাড়া খালেদা জিয়া যে প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া নিজেও তা উপলব্ধি করছেন। পারিবারিক স্বজনরা ছাড়া দলীয় নেতাদের কাছে ও তিনি তা প্রকাশ করছেন বলে জানা যায়। খ্যাতিমান আইনজীবী ড.কামাল হোসেনকে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে যথাসম্ভব সম্মানজনক ফয়সালার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অন্যতম সহযোগী হিসেবে সঙ্গে রয়েছেন ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ। তারেক রহমানের ব্যাপারে আপষরফার সুযোগ অত্যন্ত সংকুচিত। কারণ সরকার এ ব্যাপারে কঠোর। তারেক রহমানকে নেতৃত্বে রাখা এবং বিকল্প হিসেবে তার পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারাকে কেন্দ্র করে কাউন্সিল দলের বিভক্তিও ত্বরান্বিত করতে পারে। এ ধরনের আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে শীর্ষ নেতৃত্বে অনাগ্রহ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা তাদের জন্য সমস্যা হয়ে এসেছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here