মুক্তি আন্দোলন নিয়ে হতাশ খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার মুক্তির ব্যাপারে পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে তার হতাশা, অনিশ্চয়তা ছোটবোনসহ নিকটাত্মীয় ও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছেও প্রকাশ করছেন।
আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বিএনপির নেতাদের মুখেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। জামিনের দাবিতে আদালতে হট্টগোল, টেলিভিশনে টকশোর আর ঘরোয়া আলোচনা, সভা-সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমিত। রাজপথে দলীটির নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। সিটি নির্বাচনের সময় নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় ভোটার সাধারনের সহানুভুতি কুড়াতে খালেদার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়া হলেও নির্বাচনের পর তাও নেই। জেল জীবনের দু’বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কার্যকর আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেননি। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মতে দুই বছরে দ্ইু মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেননি বিএনপির নেতা-কর্মীরা। রাজনীতির ভাষায় মন্ত্রীর এই মন্তব্য তীব্র আক্রমনাত্মক ও ব্যাঙ্গাত্মক হলেও এটাই যে নিষ্ঠুর বাস্তবতা তার প্রমান পাওয়া গেল সর্বশেষ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ছিল বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রথম ও প্রধান বিষয়। কিন্তু ভোটের দিন দলটির নেতা-কর্মী সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রেই দেখা গেলনা। নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, জালিয়াতির অভিযোগ বিএনপি থেকে করা হচ্ছে। অথচ এর প্রতিবাদে নেতা নেতা-কর্মীদের তেমন একটা সভাসমাবেশ মিছিল করতেও দেখা গেলনা।
পুর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরে বিএনপির সম্মেলন ও করা হলোনা। কবে হবে সে নিশ্চয়তাও নেই। দন্ডিত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নেতৃত্ব রেখে দল পরিচালনায় আইনগত সমস্যা হবে। যে কারনে কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানে শীর্ষ নেতৃত্বেও অনীহা রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সমস্যা-সংকট ছাড়াও আঞ্চলিক, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমস্যাসমূহ অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। ভারতের নাগরিক পঞ্জি, ভারতীয় বাংলা ভাষাভাষি নাগরিকদের জোর করে বাংলাদেশে ঢুকানোর চেষ্টা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন সমস্যা সুরাহা না করা, সীমান্তে ব্যাপকহারে গুলিবর্ষন, মানুষ হত্যার ঘটনা, রোহিঙ্গাসহ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং অভ্যন্তরীন অনেক বিষয়ই রয়েছে যা নিয়ে বিএনপি মুখ খোলেনি। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের দ্বিচারিতা জনমনে তাদের প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছে। সিটি নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এবং আন্দোলন সংগঠিত করতে জনমানুষের সক্রিয় সমর্থন ও অংশ গ্রহণ না থাকার অন্যতম কারণগুলো অস্বীকার করে বিএনপির পক্ষে কতটা পথ এগুনো সম্ভব হবে। মহাসচিবসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ নেতার নামেই দুর্নীতি, নাশকতার মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা নতুন মামলার খড়গ রয়েছে। অনেকেই জামিনে আছেন। জামিন বহাল থাকা নির্ভর করছে নেতাদের আচরণ ও সরকারি ইচ্ছার উপর। শীর্ষস্থানীয় নেতারা ঘরোয়া সভা সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে, সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমনাত্মক বক্তব্য রাখলেও তাদের কথাবার্তা যে রাজনীতির পরিভাষায় বেহিসেবি নয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের তাও অনুধাবন করতে কষ্ট হয়না। তাদের অনেকেই বিভিন্নমুখী যোগাযোগ ও রক্ষা করে চলছেন, চলতে হচ্ছে।
এমনি অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ছোটবোনসহ নিকটাত্মীয়রা তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়ার মধ্যে গভীর দু:খ ও হতাশার ছাপ লক্ষ্য করছেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠসূত্রে জানা যায়। আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তি যে আসবেনা খালেদা জিয়ার মধ্যে এই মনোভাব স্পষ্ট বলেই তারা মনে করেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here