দুই লক্ষাধিক মাদক মামলা ঝুলে আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনের পর দিন মাদক সংক্রান্ত মামলা ঝুলে আছে। বিচার না হওয়ায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। আগসামীরাও নির্বিঘেœ দিন কাটাচ্ছে। প্রায় তিন লাখ আসামীর শাস্তি না হওয়ায় অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে চলেছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাদক পাচার, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, পরিবহন, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারসহ মাদক সংক্রান্ত মামলার বিচার কাজ বন্ধ রয়েছে আইনগত জটিলতার কারণে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, কোস্ট গার্ড মাদক পাচার রোধে কক্সবাজার ও সীমান্তবর্তী জেলাসমূহসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। “বন্দুক যুদ্ধে” মাদকদ্রব্য পাচারকারিও অনেকের প্রাণহানির ঘটনার পর মাদক পাচার পরিবহন অনেকটা কমলেও বন্ধ হয়নি। মাদক সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ার ঘটনায় অপরাধীদের উৎসাহিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তে সড়ক ও সমুদ্র পথে কক্সবাজার হয়েই অধিকহারে মাদক দ্রব্য আসে। এই জেলায় মামলার সংখ্যাও বেশি-এখানে পয়ত্রিশ হাজারের বেশি মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে।
জানা যায়, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-তে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রয়েছে। মাদক পাচার, পরিবহন, ব্যবহার সহ মাদক সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধের বিচারের আইনগত এখতিয়ার দেয়া হয় এই ট্রাইব্যুনালের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল গঠিতই হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে যে, ট্রাইব্যুনালেই মাদক সংক্রান্ত মামলার বিচার কাজ হবে। দেশের প্রচলিত আদালত সমূহে এ মামলার বিচার করা যাবেনা। একদিকে ট্রাইবুন্যাল গঠিত না হওয়া এবং সাধারণ আদালতে বিচার করতে না পারার ফলে মাদক মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছেনা। মামলার জটও কেবল বিস্তৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন মাদকদ্রব্র নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যমান আইনের সংশোধনী প্রস্তাবে ট্রাইব্যুনালে বিচারের পাশাপাশি দেশে প্রচলিত আদালতসমূহে মাদক মামলার বিচারের এখতিয়ার চাওয়া হয়েছে। এ সংশোধনী প্রস্তাব তারা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন প্রায় ছয়মাস হলো।
এদিকে আইনের বিধান না থাকায় ডোপ টেস্ট করাও সম্ভব হচ্ছেনা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রায় এক বছর আগেই ডোপ টেস্টের পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছেনা। বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যান চালকদের ডোপ টেস্ট করার জরুরি প্রয়োজন বোধ করছে অধিদপ্তর। সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ চালকদের মাদক সেবন। চালকদের মাদক সেবন ও মাদকাসক্ত হয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করা জরুরি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here