মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৫৮ নতুন করে আরও পাঁচ দেশে করোনা

নিউজ ডেস্ক: করোনায় আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। উৎপত্তিস্থল চীনসহ বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশ। এ তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে আরও ৫টি দেশের নাম। গতকাল আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াসহ পাঁচ দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধানের কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের তিন দেশ নেদারল্যান্ডস, বেলারুশ ও লিথুয়ানিয়য় করোনা ভাইরাসের রুগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতি ভাইরাসটিতে নতুন করে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যেখানে ইরান, ইতালী ও জাপানের নাগরিক রয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যাবেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫৮ জনে। নিহতের সংখ্যার সাথে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। চীনে কিছুটা কমেছে আক্রান্তের সংখ্যা। তবে এক লাফে ১৫০ জন আক্রান্ত হয়েছে ইতালিতে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৮৩ হাজার। যেখানে ইরানের একজন উচ্চ পদস্থ নারী কর্মকর্তাও রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে দেশটিতে আরও ২৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে সেই সংখ্যা ৫৭১ জন বলে জানানো হয়। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়ে। এরপর তা ছড়িয়েছে অর্ধশতাধিক দেশে। এতদিন পর্যন্ত চীনেই সময়ের হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দেখা যাচ্ছিল, তবে শুক্রবার এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। সিএনএন জানায়, নতুন করে ৫৭১ জনের আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৩৭ জনে। বৃহস্পতিবার দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন ৫০৫ জন। একদিনের ব্যবধানে নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা রেকর্ড গড়ল। চীনে বৃহস্পতিবার ৩২৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরিছেন আরও সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। এ নিয়ে গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার এ ভাইরাসে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ার সংখ্যা সাড়ে ৩৬ হাজার। গতকাল শুক্রবার চীনা সংবাদমাধ্যম দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে। প্রাণঘাতি ভাইরাসটি ইতিমধ্যে এশিয়া ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আফ্রিকায় ছড়িয়েছে। যেখানে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ব্রাজিল, সুইডেন, নরওয়ে, গ্রিস, রোমানিয়া, আলজেরিয়া ও এশিয়ার পাকিস্তানের নাম। সবশেষ আক্রান্তের দেশ নাইজেরিয়া। নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির মধ্যবয়স্ক একজনের শরীরে ভাইরাসটির সন্ধান মিলেছে। স¤প্রতি তিনি ইরান থেকে ফিরেছেন। করোনায় সনাক্ত হওয়ার পরপরই তাকে অকল্যান্ড হাসপাতালেরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। নেদারল্যান্ডসে বৃহস্পতিবার প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডাচ ন্যাশনাল পাবলিক হেলথ কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘টিলবার্গে বসবাস করা ওই ব্যক্তি গত কয়েকদিন আগে ইতালি ভ্রমণ করেছিলেন। তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।’
টুইটারে আরেক বিবৃতিতে নাইজেরিয়ান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘গত ২৫ ফেব্রæয়ারি ইতালির মিলান থেকে আসা ইতালিয়ান নাগরিকের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে তিনি ভালো আছেন।’
ইতালির ভেরোনা থেকে ফেরা এক নারীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে লিথুয়ানিয়া। তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আরেক দেশ বেলারুশেও ঢুকে পড়েছে মরণঘাতি করোনা ভাইরাস। দেশটিতে প্রথমবারের মত এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ভাইরাসটি প্রবেশ করে। তবে ওই শিক্ষার্থী ইরানি নাগরিক। এ নিয়ে মরণঘাতি এই ভাইরাস বিশ্বের ৪৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়লো। যেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন লাখেরও বেশি মানুষ। যার তিন চতুর্থাংশ চীনের। তবে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছেন সাড়ে ৩৬ হাজার। বর্তমানে বিশ্বে এখন আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৮৩ হাজার।
যেখানে মারা গেছেন ২ হাজার ৮৫৮ জন। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইরানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সর্বোচ্চ আক্রান্তের দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। যেখানে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ। এরপরই রয়েছে ইতালি, জাপান, হংকং, ফ্রান্স ও ফিলিপাইন।
এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায়, বেলজিয়াম, কম্বোডিয়া, কানাডা, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইতালি, জাপান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, নেপাল, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ভিয়েতনামে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ দিনে দিনে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রæত। কিছু রোগীর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তাদের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে।’ এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই। মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ছিল।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here