প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবাধ শিক্ষা বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। রাস্তার পাশে অলি-গলিতেও গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১শ ১৫টি। উচ্চ শিক্ষার নামে এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে শিক্ষা বাণিজ্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই, শিক্ষার ন্যূনতম পরিবেশ নেই। মানসম্পন্ন প্রয়োজনীয় শিক্ষক, পুস্তকসহ শিক্ষা উপকরণ নেই। নিজস্ব যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক, লাইব্রেরী নেই। ভাড়াটে শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ নেয়া হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি না থাকলেও বিভিন্ন নামে মোটা অঙ্কের ফি আদায় করা হয় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার নামে বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বাণিজ্যের সাথে জড়িত রাজনীতিবিদ, আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী। ঝুঁকি ছাড়াই মোটা অঙ্কের আয়ের অন্যতম মাধ্যমে হিসেবে নিয়েছেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মঞ্জুরি কমিশন এই অসাধু তৎপরতা বন্ধে তেমন কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেনা। অথচ তাদের অনুমতি নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হয় এবং পরিচালিত হয়। উচ্চ শিক্ষা নামের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কি শিক্ষা দেয়া হয়, শিক্ষক কারা, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত কি কি সুবিধা দেয়া হয়, লাইব্রেরী ও স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ শিক্ষা উপকরণসমূহ রয়েছে কিনা যাচাই করা হয়না। বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার অপরিহার্য পূর্বশর্ত স্থায়ী ক্যাম্পাস। প্রায় ১শ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরই স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। বিদেশ থেকে পুস্তকসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়, বিদেশ ভ্রমন বিদেশি শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচার হয়ে যায়। বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবগতিতে নেই এমনও নয়। শিক্ষার নামে অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ করতে তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
স্থায়ী ক্যাম্পাসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় চালুর অপরিহার্য শর্ত। সুচনা কালে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী ক্যাম্পাস ছিল। পরবর্তীতে অধিকাংশ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয় ক্যাম্পাস ছাড়াই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সময় সময় চিঠি দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলে। সময়সীমাও বেঁধে দেয়। গত নভেম্বরের মধ্যে সবমিলিয়ে উনিশটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করেছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসহীনভাবে চলছে প্রায় একশ বিশ্ববিদ্যালয়। যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনির্ভাসিটি, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি, আহসানউল্লাহ ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, বাংলাদেশ ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনির্ভাসিটি, ইউনির্ভাসিটি অব এশিয়া-প্যাসিফিক, গণবিশ্ববিদ্যালয়, সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, লিভিং ইউনির্ভাসিটি, সিলেট।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here