৫ হাজার কোটি রুপির স্বার্থে ৫শ কোটির অনুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারমুল্য অপেক্ষা অর্ধেক মুল্যে ভারত ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয় করছে। সেই জ্বালানিই ভারত বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করছে অধিক মূল্যে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর ইরান অনেক কমমূল্যে তার প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তষ্টির পরও ভারত তার অর্থনৈতিক স্বার্থে ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। নিজস্ব অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত ইরান থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের পর বাংলাদেশে রফতানির চুক্তি করছে। ইরান থেকে অনেক কম মূল্যে কেনা হলেও ভারত বাংলাদেশের কাছে সেই তেলই পরিশোধিত আকারে বিক্রি করছে আন্তর্জাতিক বাজার দরে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায় ভারতের নোমালীগড় থেকে বাংলাদেশের পাবর্তীপুর পর্যন্ত মাটির নিচ দিয়ে পাইপ লাইন স্থাপনের ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এই পাইপ লাইন দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে বছরে পাঁচ লাখ মে.টন ডিজেল সরবরাহ করবে। ১৪৫ কিলোমিটার পাইপ লাইনের ২৫ কিলোমিটার ভারতীয় অংশে, ১শ ২০ কিলোমিটার বাংলাদেশে। এই পাইপ লাইনের জন্য দুদেশেই ভ‚মি অধিগ্রহনের কাজ চলছে। এলাইনমেন্ট ঠিক করা হয়েছে। মাটির নিচ দিয়ে পাইপ লাইন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেলযোগে ডিজেল আনা হবে। গত বছর রেলে ১ লাখ ১০ হাজার মে.টন ডিজেল এবং এ বছর এ পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহের সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি ভারত এই পাইপ লাইন দিয়ে বছরে দশ লাখ মে.টন এলপিজি, লুব অয়েল, পাঁচ লাখ মে.টন ও তিন লক্ষ মে.টন বিটুমিন নিতে চায়। পরবর্তীতে এসবের পরিমান অনেক বেড়ে যাবে বলেও জানান হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আমদানীকারক ব্যবসায়ীরা ভারতে এগুলো সরবরাহ করবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমানে অর্থ পাচারের অবাধ সুযোগ পাবেন। সরকারিভাবে বাংলাদেশ বিক্রয় মুল্যের উপর পাঁচ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করতে পারবে। এটাই বাংলাদেশের লাভ। ভারত স্বল্পতম খরচে দ্রæততম সময়ের মধ্যে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে জ্বালানীর চাহিদা বহুলাংশে পুরণ করতে পারবে।
বর্তমানে জাহাজযোগে জ্বালানি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। জাহাজে করে চট্টগ্রাম থেকে খুলনার দৌলতপুর নেয়া হয়। দৌলতপুর থেকে রেলে পাবর্তীপুর নেয়া হয়। সেখান থেকে উত্তরাঞ্চলের পেট্রোলপাম্পসমূহে সরবরাহ করা হয়। এতে হ্যান্ডলিং খরচ অনেক বেশি পড়ে বলে সরকার বেশ লোকসান দিচ্ছে। ভারত থেকে পাইপ লাইন দিয়ে বাংলাদেশ বছরে পাঁচ লাখ মে.টন ডিজেল আমদানী করবে। এতে বাংলাদেশ স্বল্প সময়ে অপেক্ষাকৃত অনেক কম খরচে উত্তরাঞ্চলের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ডিজেল সরবরাহ করতে পারবে। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ এবং ভারত উভয়েই লাভবান হবে। তবে ভারতের লাভের পরিমান অনেক বেশি। সময় সাশ্রয় ছাড়াও পরিবহন ব্যয় হ্রাস বাবদই ভারতের সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি রুপির বেশি সাশ্রয় হবে। এই বিশাল আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ভারত বাংলাদেশকে পাইপ লাইন নির্মাণ বাবদ ৫শ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছে। ভারতীয় অংশে জমি অধিগ্রহনের কাজ দ্রæত শেষ করে পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ করার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here