করোনার ভয়াবহতায় মৃত বেড়ে ৪৬০১

নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃত ঘোষিত মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে চীনের পর মৃত্যুক‚পে পরিণত হয়েছে ইরোপীয় রাষ্ট্র ইতালি। উৎপত্তিস্থল চীনে অনেকটা প্রাণঘাতি ভাইরাসটির নিয়ন্ত্রণ আসলেও বিপরীত চিত্র ইতালিসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রোমীয় শহরটি। এ কাতারে পিছিয়ে নেই ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, ‘বিশ্বের অন্তত ১১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৬০১ জনের। আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। যা নিয়ে বর্তমানে ১ লাখ প্রায় ২৩ হাজার মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত।’এর মধ্যে মূলভূখন্ড চীনে নতুন করে ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে সেখানে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ১৬৯ জন। আর নতুন করে ৩৬ জন আক্রান্ত হওয়ায় সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৭৯৩ জনে। সুস্থ বাড়ি ফিরেছেন এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি নাগরিক। অপরদিকে চীনের বাহিরে মৃত্যুক‚পে পরিণত হয়েছে ইউরোপীয় রাষ্ট্র ইতালি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। এর আগের দিন ১৬৮ জন, তার আগের দিন ৯৭ জন, তারও আগের দিন ১৩৩ জন মারা যায় প্রাণঘাতী ভাইরাসে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এতে করে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৭ জনে।দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩১৪। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজারে পৌঁছেছে। যা চীনের পরেই সর্বোচ্চ।
ফলে একরকম অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে ইতালির ছয় কোটি মানুষ। খাবার দোকান ও ফার্মেসি ছাড়া সব দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির অবস্থা সবচেয়ে করুণ। সেখানেই আক্রান্ত ও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিসেপে কন্তে পানশালা, রেস্তোরাঁ, সেলুন ও এই মুহূর্তে জরুরি নয় এমন কোম্পানিগুলোর সব বিভাগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। পুরো দেশজুড়েই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর আগে দেশটির ১৪টি প্রদেশে ৮ মার্চ থেকে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। কিন্তু এখন তা বাড়িয়ে দেশটির ২০টি প্রদেশের সবগুলোতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কন্তে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে বলেন, এখন আর সময় নেই। যারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন তাদের সুরক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর আগে দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলাধূলা, জিমনেশিয়াম, জাদুঘর, নাইটক্লাব, সিনেমা, মসজিদ এবং অন্যান্য ভেন্যু আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। থেমে নেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশটিতে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩শ’র বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত সংখ্যা ৯ হাজার। এরপরই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষ করোনায় ভুগছেন। মৃতের সংখ্যা ৬৬ জন। আক্রান্তের দিক থেকে কোরিয়ার পরেই স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। স্পেনে ২ হাজার ১৪০ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন ৪৮ জন। প্রান্সে আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে হাসপতালে রয়েছেন ১৭৮৪ জন। আর জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩শ ব্যক্তির দেহে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যেখানে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। জাপানে নোঙ্গর করা প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের ৬৯৬ যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ৯৮৭, মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৪৭৬ এবং মারা গেছে ৩ জন, যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৪৫৬ মৃত্যু ৮। ইরাকে আক্রান্ত ৬০, মৃত্যু ৬। ভারতে ৬০ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর প্রাণহানি ঘটেনি।সবমিলে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১১৪টি ভাইরাসটি বিস্তৃতি লাভ করেছে। যার সর্বশেষ শিকার বাংলাদেশ। যেখানে এখন পর্যন্ত ৩ জনের দেহে ভাইরাসটির সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে দুই জনের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। আর দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ আছেন অন্তত ২১০ জন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here