৩ জনের পর দেশে নতুন কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় কেউ আক্রান্ত হয়নি জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক জানান, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত যেকোনো রোগীর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফরে ভাইরাসের উপস্থিতি নেগেটিভ পাওয়া গেলে তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা দেয়া যায়। আর সে আলোকেই আক্রান্তদের মধ্যে দু’জনকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘আক্রান্ত আরেক রোগীর অবস্থাও অনেকটা ভাল। তার একবার নেগেটিভ এসেছে, আরেকবার অনুরুপ ফল আসলে তাকেও করোনামুক্ত ঘোষণা দেয়া হবে। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হলে সবধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’ গতকাল মহাখালীতে জাতীয় রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। দেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে গত ৮ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় আইইডিসিআর। ওই তথ্য জানিয়ে সেদিন মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছিলেন, আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী। এদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর। দুইজন ইতালি ফেরত। একজনের সংস্পর্শে পরিবারের আরেকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরীক্ষায় করোনাভাইরাস নেগেটিভ এসেছে। পর পর দুইবার নেগেটিভ এলে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যায়। সে অনুযায়ী একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়ি চলে গেছেন। তিনি জানান, সুস্থ হওয়া অন্যজনও বাড়ি চলে যাওয়ার মত অবস্থায় আছেন। একজনের শরীরে এখনও ভাইরাসের সংক্রমণ রয়ে গেছে। তিনজন করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্তের পর দেশে নতুন করে আর কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। তিনি বলেন, আইইডিসিআর এ পর্যন্ত ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৪ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, বিদেশফেরতরা ১৪ দিন ঘরে থাকুন। অনেক ক্ষেত্রে দেখছি তারা কোয়ারেইন্টাইনে থাকছেন না। তিনি বলেন, আমরা এতদিন অনুরোধ করেছি। সরকারের সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ তারা মানছেন না। সেক্ষেত্রে আমরা সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করতে পারি। তবে শক্ত পদক্ষেপে যেতে চাই না। এ সময় করোনাভাইরাসের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসার জন্য সরাসরি আইইডিসিআরে না আসার অনুরোধ জানান আইইডিসিআর পরিচালক। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট আটজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে; এরপর তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসে সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ; মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৪১ জনের। করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে এরই মধ্যে বুধবার বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও)। বিবিসি জানিয়েছে, এই ভাইরাসে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। ইতালি থেকে পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানে এ ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে আগেই পৌঁছেছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে সংক্রমণের ধরা পড়ে গত রোববার।
চীনে কমলেও এই দেশটির বাইরে প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য আসছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা। সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে। তবে করোনায় ৯ বছরের নিচের কেউ মারা যায়নি। প্রবীণদের মধ্যেই মৃত্যুহার বেশি। করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হলো আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here