বিচ্ছিন্ন হচ্ছে গোটা জনপদ : লকডাউনের পথে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্যান্য জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাকে। গতকাল থেকে বাংলাদেশের সব জেলার সাথে রাজধানী ঢাকার ট্রেন, বিমান ও নৌযান চলাচল বন্ধ হলো । গতকাল রাত ১২ টা থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরআগে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সব ধরণের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এরইমধ্যে যেসব ট্রেনগুলো বেইজ স্টেশন থেকে ছেড়ে এসেছে সেগুলো আবার ফিরে যাবে। সেসময় যাত্রী পরিবহন করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে রেলমন্ত্রী বলেন, যদিও আমরা পরিবহনের উদ্দেশ্যে পরিচালনা করছি না, তবে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ ট্রেনে উঠে বসলে সেটা ভিন্ন বিষয়। তবে পণ্য পরিবহনের জন্য মালবাহী ট্রেনগুলো চলাচল করবে বলেও জানান তিনি। এর আগে, মঙ্গলবার থেকে সারাদেশেনৌপথে লঞ্চ, ছোট নৌকাসহ সব ধরণের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নৌ পরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, যাত্রীবাহী নৌযান না চললেও পণ্যবাহী নৌযানগুলো চলাচল করবে।
গতকাল মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বার্তায় জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন-এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। এর আগে, গত রোববার দেশের সুপার মার্কেটগুলোসহ সব দোকান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দোকানগুলো বন্ধ থাকবে। তবে, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে। এদিকে, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে দেশের সব বিভাগীয় মহানগর ও জেলা সদরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল এ সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে লকডাউন উপেক্ষা করেই সোমবার ছুটি ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রেন স্টেশন ও বাস স্টেশনে মানুষের ভিড়ের ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। ছুটি ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা ছেড়ে লঞ্চে করে বাড়ি ফিরে যান অনেক মানুষ।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়টাতে কেন বাড়ি ফিরছেন এমন প্রশ্নে মিস্টার আলম বলেন, বাড়ির লোকজন চিন্তা করছে বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here