দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ব্যবস্থায় নববর্ষ উদযাপন করা যেতে পারে

0
1298

নিউজ ডেস্ক : ৩১ মার্চ সকালে গণভবন থেকে দেশের ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সময়ে নি¤œ আয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে কোনো রকম দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়বো না। দেশের দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষের তালিকা করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহŸান জানান তিনি।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সেখানে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ সাধারণ কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখবো, কিন্তু আইন শৃঙ্খলা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।’ ‘এই দুঃসময়ে সুযোগ নিয়ে কেউ যেন কোন অপকর্ম করতে না পারে। আর করোনা সম্পর্কিত কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। সেদিকে সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছুটি ঘোষণার কারণে খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কৃষক, চা শ্রমিক, হিজড়া, বেদে স¤প্রদায়ের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে। তারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। সেখানে ১০ টাকা কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে নববর্ষের অনুষ্ঠানে জনসমাগম না করে ডিজিটালব্যবস্থায় করার পরামর্শ দিয়েছেন । প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম আরো বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাদের বাংলা নববর্ষের উৎসবে এ বছর জনসমাগম হয় তেমন কিছু করা উচিত হবে না। তবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি ছুটি বাড়াতে হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছুটি বাড়াতে হতে পারে। অনেকে গ্রামে চলে গেছে। আমাদের হয়তো কয়েকদিন ছুটি বাড়াতে হতে পারে। হয়তো ৯ তারিখ (এপ্রিল) পর্যন্ত ছুটি বাড়াতে হতে পারে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এ বিষয়ে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, জনসমাগম যাতে না হয়, মানুষ যাতে নিরাপদ থাকে এ জন্য ৭ মার্চের অনুষ্ঠান, স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক উন্নত দেশেও অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। সব বিবেচনায় আমরা যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। তাই এটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। আমাদের আরো সচেতন থাকা দরকার।

Share on Facebook