করোনা: দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধিতে নি¤œ মধ্যবিত্তদের নাভিশ^াস

0
255

বাগেরহাট প্রতিনিধি করোনা পরিস্থিতিতেও কিছু অষাধু ব্যবসায়ী ভাল মন্দ চিন্তা না করে অযৌক্তিকভাবে চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। একেতো কাজ নেই, চারদিকে আর্থিক সংকট চলছে। এর মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দাম বৃদ্ধি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এ অবস্থায় দ্রব্য মূল্য সাধ্যের মধ্যে রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষেরা। রবিবার দুপুরে বাগেরহাটের কয়েকটি স্থায়ী বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বুলেট ( সাধারণ মানুষ যে চাল খায়) চালের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটা চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে ১২ টাকা। ১৮ টাকার আলু এখন ২৫ টাকা, ২৫ টাকার করোল্লা ৪০ টাকা, সোয়াবিন তেল বেড়েছে লিটারে ৬ টাকা করে। ৪০ টাকার পেয়াজ এখন ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সপ্তাহ তিনেক আগে এই পেয়াজই বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা কেজিতে। ১৬ থেকে ২০ টাকা হালির লেবু এখন ৫০ থেকে টাকা। কালোজিরা, আদা, কাচামরিচের দাম বেড়েছে কেজি ৩০ টাকার উপরে। শুধু এসব পন্য নয় নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পন্যের দাম বেড়েছে আশঙ্কাজনক ভাবে। করোনা পরিস্থিতিতে বাজারে গিয়ে অসহায় অবস্থায় হতে মানুষকে।সাধারণ মানুষেরা বলছেন, প্রত্যেকটি পন্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইচ্ছেমত দাম রাখছে। একদিকে কাজ করতে পারছি না। অন্যদিকে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে সাধারণ মানুষের বিপদ সব জায়গায়। আর সরকার বা জনপ্রতিনিধিরা তো চাল, তেল, ডাল দিয়েই শেষ। অন্যসব কিছু তো আমাদের কিনতে হচ্ছে। তাহলে এ গুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে না কেন।বাগেরহাট বাজারে হাবিল শেখ বলেন, দুই সপ্তাহ আগে পেয়াজ কিনেছি ৩৫ টাকায়। আজকে তা কিনতে হচ্ছে ৫৫ টাকায়। ৪০-৫০ টাকা কেজির কাচা মরিচ এখন ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। কি করব আমরা কি খেয়ে বাঁচব। ব্যবসায়ীরা বলছেন করোনা পরিস্থিতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক না থাকার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে বাগেরহাটের সকল উপজেলা দ্রব্য মূল্য স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছেন। প্রতিদিনই কোন কোন না কোন বাজারে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-র পন্যও বিক্রি হচ্ছে অনেক জায়গায়। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শাহিনুজ্জামান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় ও দ্রব্য মূল্য স্বাভাবিক রাখতে ৯ উপজেলায় আমাদের ৩০টির বেশি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান ও পরিদর্শণের মাধ্যমে আমরা অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার চেষ্টা করছি। এছাড়া ট্রডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-র মাধ্যমেও মানুষকে স্বল্প মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

Share on Facebook