পশ্চিমা ৭ কূটনীতিকদের মন্তব্য শিষ্টাচারে পড়ে না: ড. মোমেন

0
206

নিউজ ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন শনিবার এক ভিডিও বার্তায় করোনাভাইরাস ইস্যুতে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় জোর দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা সাত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।তিনি বলেন, আগে কোনোদিন কোনো রাষ্ট্রদূতদের জটলা করে স্টেটমেন্ট দিতে দেখিনি। অন্যান্য দেশেও এভাবে জটলা করে স্টেটমেন্ট দেওয়ার রীতি নেই। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি খুব খুশি হতাম এই রাষ্ট্রদূতরা জটলা পাকিয়ে যদি বলতেন- এই মুহূর্তে রাখাইনে যুদ্ধ হচ্ছে, এটা বন্ধ করা উচিত।
একে আবদুল মোমেন বলেন, এটি কোনো ডিপলোমেটিক নর্মের এর মধ্যে পড়ে না।তাদের যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রটোকল রয়েছে। তারা আমাদের জানাতে পারতেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে, তারা রাজনীতির মহড়ায় চলে গেছেন। তারা পাবলিক স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন। মন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তারা কি এদেশে রাজনীতি করবেন? নির্বাচন করবেন?’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করবো, তারা তাদের প্রটোকল মানবেন এবং সেভাবেই কাজ করবেন। তারা জ্ঞানী-গুণীজন, তারা জানেন বুঝেন। তাদের এ ধরনের ব্যাপার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত পশ্চিমা সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূত নিজেদের টুইটে করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সংক্রমণের সময় নির্ভরযোগ্য ও বাস্তব ভিত্তিক তথ্য প্রচার নিশ্চিত করার স্বার্থে গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, সংকটকালে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে জনগণের জন্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করাটা জরুরি। ওই দিন মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন, ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসে টেরিঙ্ক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোটা স্লাইটার, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিসেল ব্লিকেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি পেটারসন ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েজ আলাদা আলাদা টুইট করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সরকার মানবাধিকার কর্মী, কার্টুনিষ্ট ও ব্যবসায়ীসহ চারজনকে আটক করে। গত বুধবার সরকার তাঁদেরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতেরা টুইটে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালিস জি ওয়েলস টুইটে লিখেছেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে (আইসিটি) নতুন করে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানাই।

Share on Facebook