বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়ালো, মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার

0
30

নিউজ ডেস্ক: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক দেশে পরীক্ষার হার কম হওয়ার কারণে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্ব জুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। মোট আক্রান্তের চার ভাগের এক ভাগ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের। আর মোট মৃত্যুর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুও দেশটিতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ার করে বলেছেন যে, আক্রান্তের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারণ অনেক দেশে পরীক্ষার হার অনেক কম হওয়ায় তথ্যে ঘাটতি সৃষ্টি করছে। স্পেনের মতো কিছু কিছু দেশে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়মিতভাবে কমছে। তবে শঙ্কা রয়েছে যে, লকডাউনের শর্ত শিথিল করার কারণে “দ্বিতীয় দফায়” সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই সাথে, মহামারি বৈশ্বিক বাজার এবং সাপ্লাই চেইনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। স্থানীয় গণমাধ্যমকে চীনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, মহামারি একটি “বড় পরীক্ষা” ছিল যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের পরিচালক লি বিনের কাছ থেকে বিরল এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময় আসলো যখন দেশটির ভাইরাস সামাল দেয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:
যুক্তরাজ্যে চলমান লকডাউনের মধ্যে “সর্বোচ্চ সতর্কতা” নিয়ে এগোবে সরকার। বলেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী। উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি একে “চরম বিশৃঙ্খল বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করেছেন। বিলিয়নিয়ার টেসলা বস ইলন মাস্ক বলেছেন, করোনাভাইরাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির সদরদপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে স্থানান্তর করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে মন্ত্রী পর্যায়ের দুই জন কর্মকর্তা স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। হোয়াইট হাউসের দুই জন কর্মী যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে শনাক্ত হয়েছে তাদের সংস্পর্শে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেন তারা। এরা হলেন দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক সংস্থা সিডিসির পরিচালক রবার্ট রেডক্লিফ এবং খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রধান স্টিফেন হান। মহামারিতে প্রাণ হারানোদের স্মরণে তিন দিনের শোক ঘোষণার মধ্যেই লেকে জেট স্কি চালানোর কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। ঘানার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি শিল্প কারখানার ৫ শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে প্রতিদিন আক্রান্তের হারও ৩০% বেড়েছে। সংক্রমণের সংখ্যা পিকে পৌঁছানোর পরের দিনই এ ঘটনা ঘটলো।
চলতি সপ্তাহে, বিশ্বে মহামারির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইতালিতে লকডাউনের কিছু কিছু শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। ইতালিয়রা বাইরে ব্যায়াম করতে এবং নিজেদের এলাকায় থাকা স্বজনদের বাড়িতে ভ্রমণ করতে পারবে। ফ্রান্সে টানা এক মাস ধরে করোনাভাইরাসে দৈনিক মৃত্যুহার কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৮০ জন। সোমবার থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেনও। বিরোধী দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও লকডাউন চালিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ। সৌলের লেইজার ডিস্ট্রিক্টে সিরিজ সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় বার এবং ক্লাবগুলোতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। রাশিয়ায় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে পরিকল্পিত সামরিক প্যারেড বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন শনিবার ছোট আকারে অনুষ্ঠান পালন করেছেন। দেশটির ইটারনাল ফ্লেম যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গোলাপ দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তিনি। তবে বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণাদি থাকার পরও অনেক দেশের নেতারা ভাইরাস এবং লকডাউনকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। বেলারুশে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো হাজার হাজার সৈন্যের অংশগ্রহণে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যান্সেটে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর কঠোর সমালোচনা করে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বলসোনারো ব্রাজিলে করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হুমকি। লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে ব্রাজিলে। শনিবার ১০ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ লাখ ৫৬ হাজারে। কিন্তু প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও, প্রেসিডেন্ট বলসোনারো ভাইরাসের ভয়াবহতার বিষয়টি বাতিল করে দিয়েছেন এবং লকডাউন নিয়ে গভর্নরদের সাথে বিত-াও করেছেন। আফগানিস্তানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬ জন মারা গেছে। ঘোর প্রদেশের রাজধানী ফিরোজকোহ-তে মহামারির সময় দরিদ্রদের সাহায্য করতে না পারায় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সাথে এই সংঘর্ষ হয়।

Share on Facebook