করোনা এখনও প্রাণঘাতী ভাইরাস : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

0
56

নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, করোনাভাইরাসের এখনও শক্তিক্ষয় হয়নি। কোভিড-১৯ এখনও আগের মতই বিপজ্জনক। বিশ্বব্যাপী লকডাউন তুলে দেওয়ার তাড়াহুড়োর মধ্যেই নতুন করে সতর্কবার্তা দিল সংস্থা। ইতালির এক প্রথম সারির চিকিৎসক দাবি করেন, সেদেশে আর করোনাভাইরাসের মারক প্রভাব নেই। ভাইরাসটির মারণ ক্ষমতা এখন আগের তুলনায় অনেকটা কম। তাছাড়া আগের তুলনায় পরিমাণেও কম মিলছে রোগীদের নমুনায়। ওই চিকিৎসকের কথায়, “যদি সেভাবে বলতে হয়, তাহলে ইতালিতে এই ভাইরাসের আর অস্তিত্ব নেই। শেষ ১০ দিন যে লালারসের নমুনা আমরা পেয়েছি, তাতে দেখা যাচ্ছে দু’মাস আগের তুলনায় ভাইরাসটির পরিমাণ নেহাতই নগণ্য।” অ্যালবার্টো জাংগ্রিলো নামের ওই চিকিৎসকের দাবিতে শোরগোল পড়ে যায় চিকিৎসক মহলে। বাধ্য হয়ে আসরে নামতে হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা মাইকেল রায়ান বলেন, “আমাদের আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। এটা একটা মারক ভাইরাস। ভাইরাসটি হঠাৎ স্বেচ্ছায় শক্তিক্ষয় করে আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে গেল এবং আগের থেকে কম মারাত্মক হয়ে গেল, এই ধরনের চিন্তাভাবনা একেবারেই ঠিক নয়।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গোটা বিশ্বে তো বটেই ইতালিতেও করোনাভাইরাস আগের মতই বিপজ্জনক। প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই জানিয়েছিল, লকডাউন তুলতে হলে প্রয়োজন ‘চূড়ান্ত নজরদারি’। কিন্তু স¤প্রতি দেখা গেছে, ইতালিসহ গোটা ইউরোপেই আগের তুলনায় করোনার প্রভাব খানিকটা কম এবং সেকারণেই গোটা ইউরোপ ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছে। বেশ কিছু দেশে সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর সাবধানতা অবলম্বন না করলে ফের দ্রুত গতিতে ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েক ফরেস্ট ব্যাপটিস্ট মেডিক্যাল সেন্টার, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থওয়েল হেলথের বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন না যে ভাইরাসের সংক্রমণের তীব্রতা পাল্টে গেছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমার্জেন্সি ফিজিশিয়ান অ্যান্ড পাবলিক হেলথের অধ্যাপক লিনা ওয়েন বলেছেন, ‘ইতালিয়ান ডাক্তারের এমন দাবি বিপজ্জনক। কারণ কোনো প্রমাণের উপর ভিত্তি না করে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তীব্রতা কমে গেছে এটা অপ্রমাণিত। এটা এখনও ভয়াবহ সংক্রামক রোগ, আমাদের সুরক্ষিত থাকতে হবে।’

Share on Facebook