লাখ লাখ মানুষের হজে এবার সুযোগ পাবে এক হাজারের কম

0
28

নিউজ ডেস্ক: এবার সৌদি আরবে যে হজ অনুষ্ঠিত হবে তাতে সব মিলে এক হাজারেরও কম মানুষ অংশ নেবার সুযোগ পাবে। মূলতঃ এবারের হজটি স্রেফ প্রতীকি হতে যাচ্ছে। এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলো যে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাইরের দেশ থেকে হজ করতে যাবার সুযোগ বাতিল করা হচ্ছে এবার। হজের সুযোগ পাবে শুধু সৌদি আরবের বাসিন্দা এবং দেশটিতে বসবাসরত বিদেশিরা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের পাঠানো এক বিবৃতি থেকে জানা যাচ্ছে, সৌদি আরবের বাসিন্দাদের জন্যও যে হজ করার সুযোগ খুব একটা উম্মুক্ত থাকছে তা নয়। বিবৃতিটিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফায়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনকে টেলিফোন করে হজ বিষয়ক সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন।
যে এক হাজারেরও কম মানুষের অংশ নেবার সুযোগ হবে মুসলমানদের বার্ষিক এই বৃহত্তম সম্মেলনে, সেখানে বিদেশ থেকে অল্প কয়েকজনকে প্রতীকি হিসেবেও অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তবে কিভাবে এই অংশগ্রহনকারীদের বাছাই করা হবে তা নিয়ে এখনো কোন ঘোষণা আসেনি। সোমবার সন্ধ্যায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন।
যারা নিবন্ধন করেছিলেন তাদের কী হবে?
এই বছর হজে অংশ নেবার জন্য বাংলাদেশ থেকে ৬১ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টাকাও জমা দিয়েছিলেন তারা। এখন তাদের অর্থ কি ফেরত দেয়া হবে, দিলে কোন প্রক্রিয়ায়, নাকি আগামী বছর হজ নিবন্ধনে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সোমবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত খুবই সীমিত সংখ্যক মানুষ এবার হজ পালনের সুবিধা পাবেন। প্রতি বছর হজ মৌসুমে আনুমানিক কুড়ি লাখের বেশি মানুষ হজ পালন করেন। এর আগে আশংকা করা হয়েছিল, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার হজ বাতিল করতে পারে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মুসলমানদের জন্য হজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে এ পর্যন্ত এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১,৩০৭ জন মানুষ মারা গেছেন। এর আগে সুরক্ষার জন্য মার্চের শুরুতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালন ও ধর্মীয় সব কর্মকা- বন্ধের বিরল ঘোষণা দিয়েছিল সৌদি আরব। এর কয়েকদিন পর সৌদি নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্যেও ওমরাহ হজ সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। মসজিদে নামাজ পড়া এমনকি ঈদের জামাতের উপরেও বিধিনিষেধ ছিল। কই সময়ে সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে দেশটি। সেখানে বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি ছিল। সৌদি আরব মাত্র কয়েকদিন আগে দেশব্যাপী লকডাউন প্রত্যাহার করে।
এর ফলে এবার আর হজে যেতে পারছেন না বাংলাদেশের কোনো হজযাত্রী। এ বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত জরুরি সভা ডেকেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে অনলাইনে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনলাইনে অনুষ্ঠিতব্য সভায় অংশ নেবেন ধর্মসচিব মো. নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (হজ) এবিএম আমিন উল্যাহ নূরী, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিমসহ বিমান মন্ত্রণালয়সহ হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা। ধর্মসচিব মো. নূরুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, ‘হজ নিয়ে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সবাই জেনেছে। এ বিষয়ে আমরা কাল মিটিং ডেকেছি। সেখানে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো।’সংশ্লিষ্ট-সূত্রে জানা গেছে, এবার হজে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছিলেন ৬৫ হাজার ৫১২জন। সৌদি সিদ্ধান্তের পর নিবন্ধকারীদের যে কেউ চাইলে টাকা ফেরত নিতে পারবেন। তবে, তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। পরের বছর নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আর যারা টাকা ফেরত নেবেন না, তারা পরের বছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হজে যেতে পারবেন। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আগাম নির্দেশনা ছিল বলেও জানান হাব সভাপতি এম শাহাদত হোসাইন তসলিম।
সৌদি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হাবের সাবেক সহ-সভাপতি ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘সৌদি সিদ্ধান্তে হজযাত্রীরা হতাশ। এজেন্সি মালিকরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। করোনায় সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে এমনিতে আমাদের সবার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ।’ তিনি আরও বলেন, ‘হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে সরকার এখন কী সিদ্ধান্ত জানায়, তার অপেক্ষায় আছি। উল্লেখ্য, প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম হজ পালন করেন। বাংলাদেশ থেকে এই বছর এক লাখ ৩৭ হাজার হজ যাত্রী যাওয়ার কথা ছিল। হজে যেতে ইচ্ছুক ৬৫ হাজার ৫১২জন নিবন্ধন করেন। সৌদি সরকারের সীমিত আকারে হজ আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণে, তাদের কেউ এবার হজে যেতে পারছেন না।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সামর্থ্য থাকলে এবং শরীর সুস্থ থাকলে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হজ অবশ্য পালনীয়। বছরে একটা নির্দিষ্ট সময়েই হজ করা যায়। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর অনেক মানুষ হজ পালন করতে যান। বাংলাদেশ থেকে ২০২০ সালে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হজে যাওয়ার কোটা এক লাখ ৩৭ হাজার।

Share on Facebook