আমাদর প্রিয়বন্ধু, কবি ও সাংবাদিক মাশুক চধুরি। স্মতিত অম্লান থাকব চিরদিন

0
142

বাংলাদশ প্রতিদিনর প্রধান বার্তা সম্পাদক কবি ও সাংবাদিক মাশুক চধুরী ২৩ জুন, ২০২০ মঙ্গলবার দিবাগত রাত দড়টায় রাজধানীর একটি হাসপাতাল ঠা-াজনিত রাগ ইÍকাল করন (ইনা লিল্লাহি ওয়া ইনা ইলাইহি রাজিউন)। মত্যুকাল তার বয়স হয়ছিলা ৭৩ বছর।

মাশুক চধুরীর প্রকাশিত কবিতার বই: বিশ্বাসর আগুন ১৯৮৪, হৃদয় দখার গল্প ১৯৮৪, ছিননভিন মহাকাব্য ১৯৮৬, দু’জনর একটি আকাশ ১৯৮৮, নদীর নাম দু:সময় ২০১১ এবং মুক্তিযুদ্ধ প্রিয়তমা আমার ২০১২। উপন্যাস: এক রজনীর লজ্জা, সই শহরর ময়রা।

স্মতিচারণ : মুহম্মদ জালাল
মাশুকর ভালামদ নিয় কথা বলার সুযাগ নই। কারণ, মাশুকর সবটাই ভালা। মদ যদি কিছু বলতই হয়, তাহল সটা মাশুকর গুটিয় থাকার স্বভাব। নিজক প্রকাশ করার প্রশ অতিমাত্রায় আড়ষ্ট বা লাজুক। কি, আত্মসম্মানবাধ দঢ়চিত্ত। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় এ দুটি স্বভাব ‘খারাপ’ অর্থ মদ না হলও, উপর ওঠার সিঁড়িত পা রাখার জন্য বড় অÍরায়। স জন্যই বাধহয়, মাশুকর জীবনর প্রায় পুরাটা সময় সমতল বিচরণ করই অতিবাহিত হয় গল।
মাশুকর সঙ্গ আমার এবং আমাদর সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং ঘনিষ্ঠতা তরি হয়ছ সাংবাদিকতার পশায় নম। সাংবাদিকতার পশায় আমাদর যাত্রা শুরু একই সময়, ১৯৭২ সালর জানুয়ারিত, গণকণ্ঠ পত্রিকার ‘যখন চাহ এ মন যা’ ধরনর হহুল্লার পরিবশ। গণকণ্ঠ পত্রিকার অফিস যারা গরম কর রাখতা, বয়স তারা সবাই একবার তরুণ, বশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র
দ্বিতীয়-ততীয় বর্ষ সম্মানর ছাত্র, এর আগ কখনও পত্রিকার অফিস পা রাখ নি, সাংবাদিকতার কাজ কি রকম জান না, তারাই বলত গল দলবল হুড়মুড় কর গণকণ্ঠ পত্রিকায় ঢুক পড়লা। এদর দলপতি আফতাব আহমদ হ্যামিলনর বাঁশিত ফুঁ দওয়ার সঙ্গ সঙ্গ য যখান ছিল, ৩১/ক র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিট, ওয়ারি, ঢাকা-৩ ঠিকানায় অব¯িত গণকণ্ঠ অফিস এস জড়া হয় গল। এ দলর মধ্য শামসুদ্দিন পয়ারা, রায়হান ফরদস মধু, মাস্তাফা জবার, আতিক, তারক ডালিম এবং আমিও ছিলাম। এরা সবাই জার কথা বল, আড্ডা দয়, আসা-যাওয়ার ঠিক নই, শ্রমিক-মজুর-রিক্সাওয়ালাদর সঙ্গ একই হাটল বস খায়। বইয়র পাতায় পড়া ‘ভদ্র মানুষর’ আচরণর সঙ্গ এদর চলাফরার কানা কিছুই মল না। এরা এদর মতাই।
এরই মধ্য কখন যন অতি সÍর্পণ মাশুক চধুরী গণকণ্ঠর তরুণ সাংবাদিকদর দল এস ভিড় গল। কাজর সময় নিবিষ্ট মন কাজ কর। কাজর শষ সম্পাদক মাহমুদ ভাইয়র (কবি আল মাহমুদ) ঘর কখনও কখনও দখা যায়। সব সময় নয়। মাশুক য কবিতা লখ স খবরটি অল্প সময়ই জানাজানি হয় গল। আরও দখা গল, মাশুকর রাবীদ্রিক ঢঙর হাতর লখা চয় থাকার মতা সুদর। এখনও মাশুকর হাতর লখা দখল আমি তাকিয় তাকিয় ভাবি, এত সুদর কর লখার কায়দাটা কি! আমি চষ্টা করছি। ধার কাছও যত পারি নি।
বছর খানকর মধ্য গণকণ্ঠর কার্যালয় ২৪/গ টিপু সুলতান রাড-এ ¯ানাÍরিত হয় যায়। ততদিন গণকণ্ঠর কাজকর্ম সবার মধ্যই পশাদারী আচার-আচরণ মন চলার অভ্যাস গড় উঠছ। আমাদর মধ্য কাজর প্রতি মাশুকর একাগ্রতা এবং দক্ষতা বড়দর চাখ পড়ছ। এক সময় দখা গল মাশুক দুপুরর শিফট শষ পত্রিকার ভতরর পাতাগুলার মকআপ কর দিয় যাছ। বাধহয়, আরও বড় দায়িত্ব দওয়ার প্র¯তি হিসব মাশুকক এ দায়িত্ব দওয়া হয়ছিল। মাশুক অত্যÍ সÍাষজনকভাব স দায়িত্ব পালন কর বড়দর আ¯া অর্জন করছিল। ১৯৭৩ সালর প্রথমার্ধর কানা এক সময় থক মাশুকক শিফট-ইন-চার্জর দায়িত্ব দওয়া হয়। ১৯৭৫ সালর জানুয়ারি মাস সরকার কর্তক গণকণ্ঠ পত্রিকা বন্ধ কর দওয়ার আগ পর্যÍ মাশুক সাফল্যর সঙ্গ শিফট-ইন-চার্জ হিসব দায়িত্ব পালন করছ।
রাজনতিক কর্মকান্ড মাশুকক খুব একটা দখা যত না। আমার নিজর অংশগ্রহণও অন্যদর মতা ততটা সক্রিয় ছিল না। মাশুক আমার চয়ও নিভতচারী ছিল। পরবর্তী পর্যায় দখা গল জাসদর বড় নতাদর মধ্য দু চারজন আমাক ব্যক্তিগতভাব চনন, কি মাশুকক প্রায় সবাই চনন। আমাক য দু চারজন বড় নতা চনন, মাশুকক তাঁরা আরও অনক বশি চনন এবং বাঝা যত অনক আগ থকই চনন। রাজনতিক কর্মকান্ডর যাগসূত্রই মাশুক তাঁদর সঙ্গ যুক্ত ছিলন। আমি বা আমরা জানত পারি নি। এর একটি কারণই আমি খুঁজ পয়ছি। আমরা একটি কাজ কর দশটি কথা বলি, মাশুক দশটি কাজ কর একটি কথা বল। বশিরভাগ সময় বলই না।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্ক আমাদর চয় মাশুকর জানাশানা অনক বশি। আলাচনা টবিল আমরা যখন কানা একটি বিষয় নিয় আবগ-উছ¡াস হচ করি অথবা বিতর্ক জড়িয় পড়ি, মাশুক চুপচাপ শুন যায়। বিতর্কর বিষয় মাশুকক জিজ্ঞাসা করল মাশুক য উত্তরটি দয়, আমরা বুঝত পারি, মাশুকর কথাই ঠিক। কি, মাশুক নিজ থক আগ বাড়িয় কিছু বল না। আমরা যদি বলি, কি ব্যাপার মাশুক, আসল কথাটা জানার পরও এতক্ষণ কিছু বলল না কন? মাশুক উত্তর দয়- না, আপনারাও জানন। তর্কর উত্তজনায় মন আসছিল না। এরপর কি আর না হঁস পারা যায়! মাশুক সব সময় নিজর কতিত্বক সর্বশক্তি দিয় চপ রাখার চষ্টা কর।
গণকণ্ঠ আমাদর বয়সী এক তরুণ সাংবাদিক ছিলন। নাটক-সিনমা, গান-বাজনা এবং শিল্প-সাহিত্য সম্পর্ক ব্যাপক জানাশানা ছিল তার। কি, মজাজ ছিল একবার অনিয়¿িত। টবিল কাজ করা এক এক সবার সঙ্গই তার মনামালিন্য হয়ছিল। এক পর্যায় আমার সঙ্গও তার মনামালিন্য হলা। একমাত্র মাশুকর সঙ্গ তার মনামালিন্য হয় নি। কারণ, মাশুক এতটাই নির্বিরাধ মানুষ য, পরিকল্পিতভাব চষ্টা করও মাশুকক বাক-বিতন্ডায় জড়ানা সম্ভব ছিল না।
মাশুকর এই নির্বিরাধ এবং আত্মপ্রচার বিমুখ স্বভাব শষদিন পর্যÍ একই রকম ছিল।
গণকণ্ঠ পত্রিকা বন্ধ হয় যাওয়ায় আমরা গণকণ্ঠর সাংবাদিকরা এবং সকল বিভাগর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকার হয় পড়ি। তখন আমরা প্রায় সবাই প্রতিদিন সকাল দশটা-সাড় দশটার মধ্য প্রসক্লাব চল যতাম। সবার সঙ্গ দখা হতা। বড়দর মধ্য কখনও কখনও কউ কউ আসতন। প্রসক্লাব আমাদর আড্ডা এবং গল্পগুজবর মধ্যও সবাই সবার খবর নওয়ার চষ্টা করতাম। ক কিভাব আছ, কারও কানা কাজর জাগাড় হলা কি-না, গণকণ্ঠ পত্রিকা পুনঃপ্রকাশর চষ্টা কতদূর এগুলা ইত্যাদি। বলত গল, এভাবই সারাটা দিন আমাদর প্রসক্লাবই কট যত। কখনও আমরা উপদল বিভক্ত হয় বা য কানা দুজন মিল নাটক-সিনমা দখত বা অন্য কাথায়ও চল যতাম। এ ব্যাপার বশিরভাগ সময় আমার মাশুকর সঙ্গ জাড় বঁধ কাথায়ও চল যাওয়া নিয়ম পরিণত হয় গিয়ছিল। ছাট-বড় পত্রিকার সাহিত্য পাতায় এবং ম্যাগাজিন ও সাময়িকীত মাশুক কবিতা লিখতা। ওইসব জায়গায় মাশুক আমাক সঙ্গ নিয় যত।
এভাব কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ফকিরাপুল পানির ট্যাংক থক উত্তর দিক দু চারটি ভবন পর একটি ভবনর দাতলায় আতিক একটি বইয়র দাকান খুল বসলা। নাম ‘অরণি প্রকাশন’। অরণি প্রকাশন ছিল জাসদর একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড় তালার প্রকল্প। দায়িত্ব দওয়া হয়ছিল আতিকর উপর। অরণি প্রকাশন বইয়র দাকান বচা-কনা খুব একটা না হলও আমাদর জন্য সময় কাটানার একটি নিজস্ব জায়গা হলা। এর মধ্য গণকণ্ঠর সদ্য বকার সাংবাদিকরাই বশি আস। দু এক মাসর মধ্যই অরণি প্রকাশন মাশুক এবং আমার নিয়মিত দখা করা এবং দিনর বাকি সময় কাটানার জায়গায় পরিণত হলা। আমরা সকাল দশটা-সাড় দশটার মধ্য অরণি প্রকাশন চল আসি। ফকিরাপুলর হাটল নান রুটি এবং ডাল দিয় দুপুরর খাওয়া সর ফলি। মাঝমধ্য কানা বাসায় জাসদ নতাদর সঙ্গ মিটিং থাক। আরিফ ভাইয়র (কাজী আরফ আমদ) সঙ্গ এ রকম ঘরায়া মিটিং বশি হতা। মাশুক এবং আমি অরণি প্রকাশন থক মিটিংয় যাই। মিটিংয় অন্যান্যদর মধ্য আসফ ভাই, শামসুদ্দিন, শরফুদ্দিন, মাস্তাফা, আতিক এবং আরও অনক থাকতা। এ রকম কানা এক মিটিংয় সাময়িক পত্রিকা প্রকাশ করার সিদ্ধাÍ গ্রহণ করা হয়। পত্রিকায় অন্যান্য সাময়িক পত্রিকার মতাই প্রধানত গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য লখা থাকব। জাসদ নতা-কর্মীদর লখা কিছু রাজনতিক প্রবন্ধ থাকব। এ সব প্রবন্ধ অবশ্যই জাসদর রাজনীতির নানা দিক তুল ধরা হব, যাত নতা, কর্মী, অনুসারী এবং সমর্থকদর মধ্য ঐক্য ও মনাবল অটুট থাক। এটা হছ প্রধান উদ্দশ্য। দ্বিতীয় উদ্দশ্য হছ পত্রিকা থক উপার্জিত অর্থ দিয় তহবিল গড় তালা।
পত্রিকার সার্বিক দায়িত্ব দওয়া হলা মাশুক এবং আমার উপর। মূলত মাশুকর উপর। মাশুক এবং আমি কাজ নম পড়লাম। প্রথম কাজ হলা বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করা। মাশুক কাত্থক কিভাব সুদর একটি অনুরাধ-পত্র ছাপিয় নিয় এসছিল, মন করত পারছি না। একটি বড় খামর মধ্য কিছু অনুরাধ-পত্র নিয় মাশুক এবং আমি সকাল দশটার দিক বরিয় পড়তাম মতিঝিলর অফিস পাড়ায়। দুপুর পর্যÍ বিভিন অফিস গিয় গিয় বিজ্ঞাপনর অনুরাধ-পত্র দিয় আসতাম। জনসংযাগ কর্মকর্তা বা জনসংযাগর দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাদর সঙ্গ সরাসরি দখা কর মখিকভাবও অনুরাধ কর আসার চষ্টা করতাম। কানা কানা অফিসর জনসংযাগ কর্মকর্তা বা জনসংযাগর দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তা আমাদর জন্য চা-নাস্তাসহ রীতিমতা আপ্যায়নর ব্যব¯া কর ফলতন। অনক অফিস গণকণ্ঠর সদ্য বকার সাংবাদিক হিসব আমাদর বিশষভাব সম্মান করা হতা। দুপুর ফকিরাপুলর হাটল নান রুটি এবং ডাল খয় অরণি প্রকাশন চল আসতাম। দুপুর আসল ঠিক দুপুর নয়। প্রায় প্রতিদিনই দুপুর গড়িয় যত। বিশষ প্রয়াজন না থাকল দুপুরর পর আর বরুনা হতা না।
সন্ধ্যায় আমি এবং মাশুক আবার হাঁটত হাঁটত বাসায় ফিরতাম। চধুরিপাড়া আবুল হাটলর উল্টা দিক য রাস্তাটি ভতরর দিক গছ, ওইখান এদিক-ওদিক কয়কটি ছাপড়া দাকান ছিল। ওর য কানা একটিত গরম গরম পুরি বা পঁয়াজু ভাজত দখল আমরা বস পড়তাম। গরম পুরি বা পঁয়াজুর সঙ্গ চা খত খত আরক দফা গল্প শষ কর বাসায় ফিরতাম। মাশুক চল যত ওদর বাসা হাজিপাড়ার দিক। আবুল হাটল একটু উত্তর প্রধান সড়ক থক পশ্চিম দিক যাওয়ার পথ ছিল। আমি ওই পথ দিয় আমার ভগিপতির বাসায় যতাম।
মাশুক এবং আমার সংকলন প্রকাশর কাজ দুর্বল পায় এগিয় চলছিলা। একটি সংখ্যা প্রকাশর মতা লখা জাগাড় হয় গিয়ছিল। বিজ্ঞাপন যা সংগ্রহ করা হয়ছিল, তাত ছাপানার খরচ সংকুলান করা সম্ভব হব কি-না, সদহ রয় ছিল। মাশুক হিসব-নিকশ কর বললা, “জালাল ভাই, হয় যাব। চলুন এবার ছাপার কাজ হাত দিই। প্রথম সংখ্যা তা বর হাক।” মাশুকর কথায় ভরসা পলাম। মুদ্রণ সংক্রাÍ কাজ মাশুক আমার চয় অনক ভালা বাঝ।
সংকলনর নাম ঠিক করা হলা ‘ভাষা’। ‘ভাষা’ শব্দটি মাশুক দনিক বাংলা থক লাইনা কম্পাজ বর কর নিয় এলা। তখন সীসার হরফ ছাপার জগত নতুন দুটি প্রযুক্তি যুক্ত হয়ছ। এর একটি মনা কম্পাজ এবং অন্যটি লাইনা কম্পাজ। মনা কম্পাজ পদ্ধতিত কাস্টিং মশিন টাইপ করার সঙ্গসঙ্গ প্রতিটি সীসার হরফ নতুন তরি হয় বরিয় আস। লাইনা কম্পাজ সীসার হরফর একটি কর আস্ত লাইন বরিয় আস। এত ভাঙা হরফ এবং ক্ষয় যাওয়া হরফর বিড়ম্বনা থক পরিত্রাণ পাওয়া যায়। মুদ্রণও আকর্ষণীয় হয়।
‘ভাষা’র সম্পাদক মাশুক। আমি ব্যব¯াপক। আমার পুরা নাম ‘এ ক মুহ. জালাল উদ্দিন মিঞা’। নামটি দীর্ঘ এবং আমার পছদর নয়। নহায়ত শিক্ষা সনদগুলা এ নামটি ধারণ কর আছ বল অনিছা সত্ত্বও বহন কর চলছি। মাশুক আমার নামর
সামন-পছন ছট দাঁড় করালা ‘মুহম্মদ জালাল’। আমার খুব পছদ হলা। তখন থক আজ অব্দি, শিক্ষা সনদর সঙ্গ মিল রাখার বাধ্যবাধকতা না থাকল, সব ক্ষত্র ‘মুহম্মদ জালাল’ ব্যবহার করি।
‘ভাষা’ প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হলা ১৯৭৬ সালর ফব্রুয়ারি মাস। এ সংখ্যাটিক অভিহিত করা হলা বিশষ শহীদ দিবস সংখ্যা হিসব। বাংলায় লখা হলা ফাল্গুন ’৮২ সম্পাদক হিসব নাম ছাপা হলা অসীম সাহা : মাশুক চধুরী। আমি ব্যব¯াপনা সম্পাদক। প্রথম সংখ্যার লখকদর মধ্য ছিলন আহমদ ছফা, আবুল কাসম ফজলুল হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সমুদ্র গুপ্ত, শিহাব সরকার, ইমদাদুল হক মিলন এবং আরও কয়কজন। এক মাস পরই দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হলা। প্রকাশকাল মার্চ ১৯৭৬ চত্র ১৩৮২। এ সংখ্যাটিক স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা হিসব অভিহিত করা হলা। এ সংখ্যার লখদর মধ্য ছিলন আবুল কাসম ফজলুল হক, মনজুর মওলা, আসাদ চধুরী, ড: মহিউদ্দিন খান আলমগীর প্রমুখ।
দুটি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর আমাদর কাজর মূল্যায়নর উদ্দশ্য আজিমপুর শখ সাহব বাজার সাঈদ তারকদর বাসায় বশ তাড়জাড় কর মিটিংয় বসা হলা। মাশুক এবং আমি কাঠগড়ায়। আসফ ভাই, মাহবুব ভাই (আ ফ ম মাহবুবুল হক), আফতাব ভাই, শামসুদ্দিন, মাস্তাফা এবং আতিক মতামত দওয়ার জন্য প্র¯ত। তারকদর নিজ বাড়িত আমরা অতিথি। কাজই, তারক অতিথি সবার আয়াজন ব্যস্ত। আসফ ভাই সংকলনর নির্দয় মূল্যায়ন কর তীর্যক ভাষায় অভিমত ব্যক্ত করলন। আমরা জানি, ওটা আসফ ভাইয়র কথা বলার নিজস্ব ঢং। অভিব্যক্তি যতটা নির্মম এবং ভাষা যতটা তীর্যক, অসÍাষ ততটা গুরুতর নয়। মাহবুব ভাই আসফ ভাইয়র উত্তপ্ত ভাবর মাথায় পানি ঢল দিলন। বললন, “সংকলন তা খুবই ভালা হয়ছ। কবল তা দুটি সংখ্যা। এরপর নিশ্চয়ই আরও ভালা হব।” মাশুকর হাত বর হওয়া একটি প্রকাশনায় সমালাচনা করার মতা তমন কিছু থাক না। শামসুদ্দিনক তখন থক দখ আসছি, কারও কানা কাজর সমালাচনা করার ব্যাপার যতটা পার, বিরপ বিষয়গুলা ছাড় দিয় কথা বলার চষ্টা কর। এখনও পর্যÍ স স্বভাব অপরিবর্তিত রয় গছ। ‘ভাষা’ সংকলন সম্পর্ক শামসুদ্দিনর মূল্যায়ন ছিল “না, ভালাই তা হয়ছ।” অরণি প্রকাশন কখন আলাচনায় আস, স কথা ভব হয়তা আতিক চুপচাপ ছিল। ওই দিন অরণি প্রকাশনর উপর আলাচনার সূত্রপাত হয় নি। মিটিং শষ ফরার সময় আফতাব ভাই মাশুকক বললন, “কবি, আরও জারশার লগ যান।” পরবর্তী সংখ্যার প্র¯তি কখন থক য ঝিমিয় পড়ছিল বুঝত পারি নি এবং কন ঝিমিয় পড়ছিল, তাও ঠিক মন নই। সই ঝিমিয় পড়া গতি আর প্রাণ ফির পায় নি। সংকলন প্রকাশর গল্প ওখানই শষ হয়ছিল।
কি, আমাদর আস্তানা হিসব অরণি প্রকাশনর বিকল্প ছিল না। একই নিয়ম আড্ডা চল। কারও সাথ দখা-সাক্ষাতর ¯ান হিসব অরণি প্রকাশনর ঠিকানা বল দওয়া হয়।
এমনি কানা এক সময় আমার গায়ালদর বন্ধু হীরার সঙ্গ দখা। বিশ্ববিদ্যালয় থক বর হওয়ার পর হীরার সঙ্গ এই প্রথম দখা। হীরা তখনও পর্যÍ বকার। মাশুকর সঙ্গ হীরার পরিচয় করিয় দই এবং তিনজন একজাট হয় ব্যবসা করার চষ্টায় নম পড়ি। ফকিরাপুলর অরণি প্রকাশন থক প্রখর রাদর মধ্য হঁট হঁট তজগাঁও শিল্প এলাকায় যাই। তজগাঁও শিল্প এলাকা থক আবার হঁট হঁট ফকিরাপুল ফির আসি। ব্যবসায় লক্ষ্মীর কপা হয় নি।
১৯৭৭ সাল বাংলাদশ পাট গবষণা ইনস্টিটিউটর চাংকুরিত যাগদানর পর থক অব¯ানগত কারণ নিয়মিত দখা-সাক্ষাত হয় না। ১৯৮০ সাল থক ১৯৮৪ সালর ম মাস পর্যÍ নতুন চাকুরি সূত্র জয়দবপুর বাংলাদশ কষি গবষণা ইনস্টিটিউট কাটাই। ১৯৮৪ সালর ম মাস বাংলাদশ পরমাণু শক্তি কমিশন নতুন চাকুরি নিয় ঢাকা চল আসি। ঢাকা আসার পর আবার মাশুকর সঙ্গ যাগাযাগ ¯াপিত হয়।
মাশুকর তখন নিয়মিত কানা কাজ নই। মাশুক একদিন আমাক মতিন ভাইয়র সাপ্তাহিক ‘স্পষ্টবাদী’ পত্রিকার অফিস নিয় গল। সাপ্তাহিক পত্রিকা হওয়ায় কাজর চাপ কম। আড্ডার জন্য অবারিত সময় পাওয়া যায়। মাশুক প্রয়াজন হল কিছু কাজ কর। তাত আড্ডার ব্যাঘাত ঘট না।
তখন সরকারি অফিসর সময় ছিল সকাল সাড় সাতটা থক দুপুর দুইটা পর্যÍ। সাপ্তহিক স্পষ্টবাদীর অফিস ছিল কমলাপুর। পর শাহজাহানপুর ¯ানাÍরিত হয়। আমি অফিস ছুটির পর সাজা শাহজাহানপুর মতিন ভাইয়র স্পষ্টবাদী অফিস চল যাই। যয়ই দখি মাশুক আছ। দু একদিন আমি যাওয়ার পরপরই মাশুক চল আস। মতিন ভাইয়র মন এবং হাত দুটাই খালা। চা-নাস্তার বিরাম নাই। একটার পর একটা চলছই।
স্পষ্টবাদীর উপ-সম্পাদকীয় মতিন ভাই নিজই লখন। মাশুক যখন যা প্রয়াজন লখ। আমি লিখি খুবই কম। তব, বিশষ সংখ্যা, ক্রাড়পত্র ইত্যাদি বাড়তি কাজ এল আমার উপরও কিছু লখার দায়িত্ব পড়। এভাব আমরা নিয়মিত একটি সুদর বিকল কাটাই। কিছুদিনর মধ্য আমাদর সঙ্গ যুক্ত হলন ফয়জুর রহমান। ফয়জ ভাই। অক্ষর প্রকাশনার স্বত্ত্বাধিকারী। অতি অমায়িক, রসিক, মিশুক, নিরহঙ্কার এবং বন্ধু বৎসল মানুষ। ফয়জ ভাই যুক্ত হওয়ার পর আমাদর চারজনর আড্ডা আরও প্রাণবÍ হয় ওঠ।
তখন আমার এবং মাশুকর বাসায় রঙিন টলিভিশন ছিল না। মতিন ভাই মাশুকক একটি রঙিন টলিভিশন কনার টাকা দিয় দিলন। কিছুদিন পর ১৯৯০ সালর প্রথম দিক আমাকও একটি রঙিন টলিভিশন কনার টাকা দিলন। এটা মতিন ভাইয়র অসীম বদান্যতা। বললন, আমারা য লিখি এটা তারই সম্মানী। কি, আমাদর লখার য সম্মানী হত পারতা, তার দশগুণ তা আমরা চা-নাস্তা খয়ই সাবার করি। তারপর আর সম্মানীর কিছু বাকি থাক না। আগই বলছি, মতিন ভাইয়র মন এবং হাত দুটাই খালা। এটা তারই একটা উদাহরণ। আরও ছাটখাটা অনক আছ।
মাশুক এক সময় দনিক দশ প্রত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসব যাগদান কর। দনিক দশ পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগ আমাদর একজন সাবক সহর্মী ছিলন জনাব আনায়ারুল হক। সাহিত্যর পাতা দখতা আমাদর সহপাঠী কবি হলাল হাফিজ। মাঝ মধ্য দনিক দশ পত্রিকায় মাশুকর সঙ্গ দখা করত যতাম। অনক সময় হলালর সঙ্গ দখা হয় যত। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনর স্মতিচারণ করতাম।
এক সময় দশ পত্রিকা বন্ধ হয় গল। বশ কিছুদিন বকার থাকার পর দনিক দিনকাল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসব কাজ শুরু কর। সম্পূর্ণ ভিন মতাদর্শর পত্রিকা। ওই পত্রিকায় বশিদিন থাকা হয় নি। এক সময় মতিন ভাই সম্পাদক হিসব এরশাদর দনিক জনতায় যাগদান করন। সঙ্গ বার্তা সম্পাদক হিসব মাশুকক নিয় যান। এরপর আরও দু একটি পত্রিকায় কাজ করার পর শষ পর্যÍ দনিক বাংলাদশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসব ¯ির হয়।
দনিক বাংলাদশ প্রতিদিন পত্রিকায় একটানা দীর্ঘদিন কাজ করছ মাশুক।
মাশুকর সর্বশষ কাব্যগ্র ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রিয়তমা আমার’ প্রকাশিত হওয়ার পর, খুব সম্ভবত ১৯১২-১৩ সাল প্রসক্লাব থক একসাথ জাতীয় গ্রকদ্র গলাম। অসীম দা (কবি অসীম সাহা) তখন জাতীয় গ্রকদ্রর পরিচালক। অসীম দা তখনই একটি মিটিংয় চল যাবন। বশি কথা হলা না। আমরা আবার প্রসক্লাব ফির এলাম।
প্রসঙ্গত একটি অসমাপ্ত ইছার কথা না বললই নয়। গত পাঁচ-ছয় মাস আগ অসীম দা আমাক বললন, জালাল, একবার মাশুকক সঙ্গ নিয় আসন। বহুদিন একসঙ্গ আড্ডা দওয়া হয় না। আপনা বউদি তা প্রায়ই আপনাদর কথা বল। মাশুকক বললাম। মাশুক সানদ রাজি। কি, আমাদর দুইজনর সময় সম^য় করত পারছিলাম না। এককবার একক কারণ যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হয় যায়। এমনি কর এক সময় এস গল করানা। দিন দশক আগ মাশুক ফান কর বলছিল, করানা গল আমাদর প্রথম কাজ হব অসীম দা’র অফিস এবং বাসায় বড়াত যাওয়া। কি, করানা গলও তা সই বড়াত যাওয়া আর হব না। যাক নিয় যাব, সই তা চল গল।

Share on Facebook