২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

0
188

বাসস : জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তিনি বলেন, একই দিন দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
স্থায়ী প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে গতকাল এখানে প্রাপ্ত এক বার্তায় একথা বলা হয়।
ড. মোমেন জানান, এমডিজি’র সাফল্যের কারণে ‘২০১৫ উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা কার্যকরকরণ ও বাস্তবায়ন’ থিমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বিশেষ দিক নির্দেশনা হিসেবে গুরুত্ব পাবে।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
এই অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছবেন। নিউইয়র্কে তিনি ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এবছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মিশন বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
ড.এ.কে আব্দুল মোমেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ বছর ৬৯-তম অধিবেশনের জেনারেল ডিবেটের জন্য নির্ধারিত প্রতিপাদ্য বিষয় ‘এবারের মূল থিম ২০১৫ সাল উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা কার্যকরণ ও বাস্তবায়ন’। এছাড়া আইনের শাসন, শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়া, শান্তি উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, মানুষের পুষ্টির নিশ্চয়তা এবং প্রতিবন্ধীদের মানসিক বিকাশসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অংশ নেবেন। প্রতিবারের মত এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকা, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আদায়, দারিদ্র্য দূরীকরণে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রমসমূহ, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, সহগ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি এবং অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় ২০১৫-পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশের অবস্থান ও অবদানের কথা তুলে ধরবেন।
স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, এবারের অধিবেশনে ৯৫ জন প্রেসিডেন্ট, ৪৫ জন প্রধানমন্ত্রী, ২ জন ভাইস প্রেসিডেন্ট, ১ জন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী এবং ৫০ জন মন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ১শ’ ৯৩টি সদস্য দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা কর্তৃক আয়োজিত পার্টিতে যোগ দেবেন। তিনি তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের কন্ঠস্বর হিসেবে বিশেষভাবে উন্নত বিশ্বের নজর কেড়েছেন। তার বক্তব্যে আগামীতে টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) প্রণয়নসহ বিভিন্নক্ষেত্রে দিক-দর্শন হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ‘এডুকেশন ফাস্ট ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক উচ্চপর্যয়ের বৈঠকে যোগ দেবেন। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর কাতারের আমীর এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে পিস-কিপিং সামিটে কো-চেয়ার করবেন। বিকেলে বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্য পদলাভের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মিশন কর্তৃক প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন। এতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনসহ ব্রিটেন, রাশিয়া ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণ উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে প্রেস ব্রিফিং করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রথম সচিব (প্রেস) মামুন-অর-রশিদ, উপস্থায়ী প্রতিনিধি মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, ইকোনমিক এ্যাডভাইজার বরুন দেব মিত্র ও ডিফেন্স এ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম আখতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here