শেখ হাসিনার ৬৮তম জন্মদিন আজ

0
203

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৮তম শুভ জন্মদিন।
১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
আশির দশকের শুরুতে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করলে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। নিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার শৈশব কাটে পিত্রালয়ে। ৫৪ সালে নির্বাচনের পর তিনি মা-বাবার সঙ্গে চলে আসেন ঢাকায়। শৈশব থেকেই শেখ হাসিনা ছিলেন মা-বাবা ও দাদা-দাদির আদরের। আদর করে সবাই তাকে ডাকতেন হাসু বলে।
শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন এবং ইডেন কলেজের নির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন।
১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তবে সে সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর আগেই ৩৪ বছরেরও কম বয়সী শেখ হাসিনাকে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচন করা হয়। এরপর থেকে টানা একত্রিশ বছরের বেশি সময় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে বহুবার তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হন। তার ওপর গুলি, বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার কানের শ্রবণশক্তি কমে যায়। ওই গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই আওয়ামী লীগের ২৩ জন নিহত ও অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হন। গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান তিন দিন পর মৃত্যুবরণ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা দুইবার রাষ্ট্রপ্রধান পদক ও রোটারি ফাউন্ডেশনের পল হ্যারিস ফেলোশিপ, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সৃজনশীল লেখালেখির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত হন। সর্বশেষ তিনি মহিলা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ কর্তৃক সম্মানজনক সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মব্যস্ত জীবনে ব্যস্ততার মাঝেও তিনি বেশকিছু গ্রন্থও রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র : লাঞ্ছিত মানবতা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সহে না মানবতার অবমাননা ইত্যাদি।
শেখ হাসিনা ১৯৬৮ সালে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জননী। –
জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া উপহার দেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। দলের উপ-দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে রোববার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বেলা ১২টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া এতিমখানাসহ বিভিন্ন দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবে আওয়ামী লীগ।
শেখ হাসিনার ৬৮তম শুভ জন্মদিন পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল শাখা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here