প্রণয়ীবাঘের হালুম ডাকে ওষ্ঠাগত প্রাণ

0
296

সাকিল আহমেদ, সুন্দরবন : ছিল বাঘ চিড়িয়াখানায়। ঠিকানা বদলে এল আবার জঙ্গলের ধারে। আর এসেই দক্ষিণ রায় শুরু করেছে তার গর্জন। কারণ একটাই কোথায় তার প্রণয়িনী? সে কেন একা? দাও ফিরিয়ে সে অরণ্যে যেখানে তার প্রিয়া থাকে। বাঘের এই প্রাণের প্রহরী কোথায়? একা যে বোরিং লাগছে।
গত বৃহস্পতিবার আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে ঠিকানা বদলে একটি বাঘ ও বাঘিনীকে পুনরায় আনা হয়েছে ঝড়খালি ক্যাম্পে। দুজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে আলাদা আলাদা রাখা হয়েছে। আর তাতে বেড়েছে বাঘবাবাজীর তর্জন গর্জন। এতটা উচ্চগ্রামে তারা চিৎকার করছে সে গর্জন এসে ঢুকছে গৃহস্থের দোরগোড়ায়। ভয়ে সিটিয়ে আছে যেমন কচিকাঁচারা, তেমনি সন্ধ্যা নামলে ভয় পাচ্ছে হাটুরেরা। দোকানের ঝাঁপ ফেলে তাড়াতাড়ি বাড়ি পালালেই যেন শান্তি এমনটা মনে করছেন ঝড়খালি, ত্রিদিবনগর, কানমারি এলাকার শ্যামল, অরুণ, স্বপনেরা। তারা বলছেন, বাঘের এত ডাক আগে শুনিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শিল্পোদ্যোগীদের নিয়ে ভাইফোঁটার পর জেলা সফরে বের হবেন। তাতে যুক্ত হয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবনের লোকালয়ে ধরা পড়া দুটি বাঘ তার মধ্যে একজনকে পিটিয়েছিল গ্রামবাসীরা। তাদের বনকর্মীরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আলিপুর চিড়িয়াখানায় রেখে মানুষ খেকো বাঘ-বাঘিনীর গতিবিধি দেখছিলেন। ঝড়খালিতে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে রেসকিউ ক্যাম্প। ধরা পড়া বাঘবাবাজীবনদের এখানেই চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে পুন:বাসন দেওয়ারও ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে সর্বক্ষণের চিকিৎসক। পাশাপাশি এই জোড়া বাঘ-বাঘিনীকে হাতের নাগালে দেখতে পাবেন সুন্দরবন বেড়াতে আসা পর্যটকরা। এই ভাবনা থেকে দুটি বাঘ বৃহস্পতিবার এনে রাখা হয়েছে ঝড়খালি ক্যাম্পে। পাশেই গভীর জঙ্গল। সেখানেই এই জোড়া বাঘের গর্জন শুনে রাতের অন্ধকারে চলে আসছে বাঘেরা। গ্রাম ঘিরে ফেলার জন্য নাইলনের জালের বেড়া দেওয়ারও কাজ শুরু হয়েছে।
জঙ্গলের এপারের প্রেম নিবেদনে এমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসী বিশেষ করে মৎস্যজীবী পরিবারের মধ্যে যে তারা বাঘের হানায় প্রাণ যাবে ভয়ে আর নদীতে নেমে মাছ ধরতে যাচ্ছে না। বেরোলে যদি আবার বাঘের আক্রমণে অঘোরে প্রাণ যায়।
গত রবিবার মাছ ধরতে গিয়ে বেশি মাছও পেয়েছিলেন ৫ জনের একটি মৎস্যজীবীর দল। দুপুরে বসে মৌজ করে চা খেতে যাবেন এমন সময় একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে শিশির বিশ্বাসের (৪৫) উপর। ঘাড় মটকে টেনে নিয়ে যায়। উদ্ধার হয় তার নিথর মৃতদেহ। মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখে হতবাক মৎস্যজীবীরা।
একদিকে ডাঙায় বাঘ, জলে কুমির, অন্যদিকে ঝড়খালি পুন:বাসন কেন্দ্রে জোড়া বাঘ, ভয়ে আতঙ্কে ঝড়খালিতে এখন অন্য ঝড়। মায়ের বুক কোল খালি করে কি বাঘ বাবাজিদের ভয়ে জঙ্গলের মানুষ পাড়া ছাড়া, পেশা ছাড়া হবেন। সেই আতঙ্ক এখন লাখ টাকার প্রশ্নের মত ঘুরপাক খাচ্ছে ঝড় খালির জঙ্গলে।

Share on Facebook