গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী

0
131

মৌলভীবাজার  প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে আবাদ করে সাবলম্বী। টমেটোর গ্রাফটিং চারা উৎপাদন, বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছে তারা।
বন বেগুন গাছের সঙ্গে টমেটোর চারার গ্রাফটিং পদ্ধতি নিয়ে পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ পাঠের পর এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ জন্মে এখানের  কৃষক ব্রজেন্দ্র সিংহের। সে মতে ১৯৯০ সাল থেকে পরীক্ষামূলক তিনি এ পদ্ধতিতে আবাদ করে সফল হন। এরপর তার দেখাদেখি ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে এ পদ্ধতির আবাদ।
জানা যায়, এখন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে চাষিরা কমলগঞ্জে উৎপাদিত গ্রাফটিং চারা সংগ্রহ করে চাষাবাদ করছেন এবং উচ্চ মূল্যে বাজারজাত করছেন। এমনকি এ পদ্ধতিতে ধান ক্ষেতের মধ্যে অতিরিক্ত ফসল হিসেবেও উৎপাদন করে আয় করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।
কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ও আদমপুর ইউনিয়নের তিলকপুর, জামিরকোনা ও ঘোড়ামারা গ্রামের অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার বনবেগুনের সঙ্গে টমেটোর চারার গ্রাফটিং উৎপাদনে জড়িয়ে পড়েছেন। এ পদ্ধতিতে আবাদ করে তারা এখন সাবলম্বী।  এ পদ্ধতিতে ৬০ দিনের বনবেগুন গাছের চারা সংগ্রহ করে ৩০ দিন বয়সী টমেটো বারী-৪ এর চারার সঙ্গে গ্রাফটিং করে ৭ থেকে ১০ দিন রেখে বাঁচানোর পর ক্ষেতে লাগানো হয়। উপরে ও নীচে কালো পলিথিন দিয়ে শেড তৈরি করে প্রথমে চারা উৎপাদন এবং যেখানে চাষাবাদ হয় সেখানেও পলিথিনের শেড তৈরি করে টমেটো চাষাবাদ করতে হয়।
এই সময়ে গোবর, সার, কীটনাশক ও পরিচর্চাসহ বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। দিনে মাথাপিছু চার থেকে সাড়ে চারশ’ চারার গ্রাফটিং করা সম্ভব। গ্রাফটিং পর্যন্ত দু’টি চারার খরচ আসে ৪ থেকে ৫ টাকা। এরপর ১০ থেকে ১৫ টাকা হারে প্রতি চারা বিক্রি করা সম্ভব।
ব্রজেন্দ্র কুমার সিংহ প্রথমে তরমুজের চাষাবাদ ও গ্রাফটিং করতেন। পরবর্তীতে টমেটোর গ্রাফটিং করে লাভবান হন। এক মাসে তিন হাজার চারার মূল্য বাবদ ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা উপ কৃষি কর্মকর্তা  মো: আব্দুন নবী বলেন, কমলগঞ্জের এই টমেটোর চারার গ্রাফটিং আবাদ বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম। এখান থেকে বিভিন্ন স্থানের লোকজন চারা সংগ্রহ করে চাষাবাদ করছেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here