পানি ফকিরের আস্তানায়…

0
104

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে এক ফোঁটা পানি নিতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ পানি ফকিরের আস্তানায় ভিড় করছেন। এখানে একফোঁটা পানি দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ক্যান্সার, আলসারসহ জটিল রোগের জন্য দেয়া হচ্ছে চার ফোঁটা পানি। ফোঁটা পানির জন্য আসা মানুষেরা যে যার খুশি মতো টাকা দিচ্ছেন। আর  এভাবেই জমজমাট নড়াইলের পানি ফকিরের আস্তানা।
আস্তানাটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। চেহারায় দারিদ্র ভরা পানি ফকিরের পড়নে লাল শার্ট, মাথায় টুপি। দেখা গেল হাতে ড্রপার নিয়ে হাঁটছেন আর আস্তানায় আগতদের পাত্রে ফোঁটা ফোঁটা পানি বিলাচ্ছেন পানি ফকির।
৪৮ বছর বয়সী ফকিরের নাম ওমর বিশ্বাস। রাজাপুর গ্রামে তার পূর্ব পরিচয় কাঠমিস্ত্রী। কেউ বলেন ‘পানি ফকির’, কেউবা ‘স্বপ্ন ফকির’। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে রোগিরা একফোঁটা পানি নিচ্ছেন। চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে তার ভিন্ন পদ্ধতি। সাধারণ রোগিদের বাড়ির বাইরের আস্তানায় এবং ক্যান্সারসহ জটিল রোগিদের বাড়ির ভেতরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পানি দিয়েই ক্যান্সার, আলসার, হাড়ক্ষয়সহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
পানি পান করে কেউ কেউ নাকি সুস্থও হয়েছেন, আবার একাধিকবার পানি পান করেও রোগ ভাল হননি, এমনও জানিয়েছেন অনেকে।
লোহাগড়ার লাহুড়িয়ার আবু বক্কার, ডহরপাড়ার ইমদাদুল জমাদ্দার ও দেলোয়ার হোসেন জানান, ওমর বিশ্বাসের পানি নিতে নড়াইলের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও যশোর, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত রোগি আসছেন। তারা উপকার পাচ্ছেন।
ইমদাদুল জমাদ্দার আরো বলেন, ’আমার মায়ের হাড়ের সমস্যা ছিল। এখানকার পানি পান করে মা ভালো হয়েছেন।’ পঁচাশিপাড়ার রিনা বেগম বলেন, ‘পানি পান করে উপকার পেয়েছি।’
ঝামারঘোপের মুক্তি রানী জানান, তার ছেলের শক্তিহীন হাত-পায়ের জন্য পাঁচদিন পানি নিয়েছেন। তেমন কোনো পরিবর্তন পায়নি। সন্তানকে আরো কয়েকদিন পানি পান করিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। সরশুনা গ্রামের সচেতন তরুণ খায়রুল আলম টিটো ও মনিরুল ইসলাম মনির জানান, এতে (পানিপড়া) গ্রামের সহজ-সরল মানুষ ঠকছেন।
ওমর বিশ্বাসের স্বেচ্ছাসেবক উজ্জ্বল শেখ, শাহ আলম ও শিহাব উদ্দীনের দাবি, ফকিরের পানিতে শতকরা ৮০ ভাগ রোগি ভালো হচ্ছেন। স্থানীয় মওসুমি দোকানি তাকুবার বিশ্বাস জানান, পানি নিতে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন ভিড় করছেন। এ কারণে তার বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। রোগি ও লোক সমাগমের কারণে ফকিরের পানি আস্তানার আশেপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান।
ওমর বিশ্বাস বলেন, ‘সাতবছর আগে স্বপ্নে পানি পেয়েছিলাম। তবে, দেড়মাস আগে থেকে চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছি। লাহুড়িয়ার জাফরসহ চারজন ক্যান্সার রোগি ভালো হয়েছেন।’ এ ছাড়া চারজন কিডনি ও ১৬৪ জন হাড়ক্ষয় রোগি ভালো হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। খুশি হয়ে যে যা টাকা দেন, সেই টাকাই নিয়ে থাকেন বলে জানান।  পানি পড়ায় ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ ভালো হয়, এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন নড়াইলের সিভিল সার্জন ডাঃ রশিদ আহমেদ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here