মাঠে এখনও পড়ে রয়েছে অবিক্রিত লাখ লাখ মেট্রিক টন লবণ :হতাশা নিয়েই মাঠে নামছে লবণ চাষিরা

0
110

এম. মোস্তফা কামাল, চকরিয়া,(ক্ক্সবাজার) : লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় জেলায় উৎপাদিত লাখ লাখ মেট্টিক টন লবণ এখনো বিক্রি করেনি চাষিরা। খুচরা বাজারে লবণের প্রতি কেজি ১৩ টাকা হলেও মাঠ পর্যায়ে মাত্র প্রতি কেজি ১/২ টাকা হওয়ায় চাষিরা লবণ বিক্রি করছে না জানালেন চাষিরা। বিসিক সূত্রে জানা যায় মহেশখালী-কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া উপকূলীয় এলাকা ও উখিয়া টেনাফে লাখ লাখ মেট্টিক টন গত বছরের অবিক্রিত লবণ পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও টেকনাফ-উখিয়া আসনে আব্দু রহমান বদি, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ তারা জানায় সরকারের প্রতিশ্রুত কক্সবাজার সদরে লবণ চাষিদের নির্দিষ্ট অফিস খোলার (অর্থাৎ লবণ বোর্ড) ঘটিত না হওয়ায় লবণ চাষিরা ফি বছর লবণের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই চলতি বছর ২০১৪ইং সালের অক্টোবরÑনভেম্বরে লবণ চাষিরা অনেক ঋণের বুঝা নিয়ে ও এক বুক হতাশা নিয়ে পূনঃরায় জেলায় প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমিতে লবণ চাষাবাদ শুরু করে দিয়েছে। লবণ চাষিরা তাদের চাষাবাদের পাশাপাশি গত বছর ও চলতি বছরের বিভিন্ন মহাজনের নিকট থেকে সর্বোচ্চ সুদে প্রতি একর লবণ চাষাদের জন্য নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা করে। কিন্তু সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এর সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কক্সবাজারে লবণ চাষিদের কথা আদো চিন্তা করছে না। কিন্তু কক্সবাজারের সংসদ সদস্যরা কক্সবাজারে লবণ বোর্ড ঘটিত হওয়ার জন্য মননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ও সংসদে তারা এ নিয়ে জোরালো দাবি উত্থাপন করার পরও লবণ চাষিদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রহস্যজনক করণে কক্সবাজারে লবণ বোর্ড ঘটন করছেনা। অথচ বিগত জোড় সরকারের আমলে কক্সবাজারে লবণ বোর্ড করার জন্য তৎকালীন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিংহভাগ এগিয়ে গিয়েছিল। ফলে লবণ বোর্ড ঘটিত না হওয়ায় মায়নমার ও ভারত থেকে সমুদ্র পথে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে হাজার হাজার মেট্টিক টন লবণ আমদানী হয়ে আসছে। যার কারণে দেশীয় উৎপাদিত লবণ ন্যায্য মূল্য না ফেয়ে অবিক্রি হয়ে পড়ে রয়েছে লাখ লাখ মেট্টিক টন লবণ। অপর একটি সূত্রে জানা যায় সরকারের প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রান্তিক লবণ চাষিদের চিন্তিত করে প্রতি একর ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা করে স্বল্প সুদে লবণ চাষিদের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত জেলার কোন প্রান্তিক চাষি কোনধরণের ঋণ পায়নি। তার পরও লবণ চাষিরা বিগত বছরের ন্যায় লবণ চাষাবাদে নেমে পড়েছে। এ ব্যাপারে জেলার উপকূলীয় লবণ চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন মাসুম ও জেলার সংসদ সদস্যরা কক্সবাজারে লবণ বোর্ড গঠন করে লবণ চাষিদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ঋণসহ নানা ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে লবণ চাষিদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য দাবি জানায় অপরধিকে ভারত ও মায়ানমার থেকে সমুদ্র পথে অবৈধভাবে লবণ যাতে আমদানি করতে না পারে সে জন্য কোষ্টগার্ড, নৌ-বাহিনী এবং সরকারের পুলিশের রিজার্ভ বাহিনী ও র‌্যাব বাহিনী দিয়ে সমুদ্রে যৌত অভিজান চালিয়ে অবৈধ লবণ আমদানি কারকদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে এবং তার পাশাপাশি প্রান্তিক লবণ চাষিরা গত বছরের অবিক্রিত লাখ লাখ মেট্টিক টন ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করার জন্য দাবি জানিয়ে হতাশা গ্রস্থ লবণ চাষিদের আশার আলো দেখার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here