উত্তরের জনজীবন ঠান্ডায় অচল

0
229

কালবেলা ডেস্ক : কনকনে ঠা-া ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় অচল হয়ে পড়ছে উত্তরবঙ্গের জনজীবন। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রিতে নেমে যাচ্ছে মাঝে মাঝে। নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রির কাছে নেমে আসে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশা। ফলে ঠা-াজনিত রোগব্যাধিও দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এই শীত আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন চিকিৎসকেরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
রাজশাহী : রাজশাহীতে শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। গত দুই দিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। রবিবার থেকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ক্রমেই কমে মৃদু শ্ত্যৈপ্রবাহ শুরু হয়েছে। সন্ধ্যা হতে না হতেই ঘন কুয়াশায় ছেয়ে যাচ্ছে রাতের আকাশ। সকাল থেকেই আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন থাকতে দেখা যাচ্ছে। সারাদিন অল্প বাতাস অনুভূত হচ্ছে।
শীত মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। নগরীর ফুটপাথ ও মার্কেটের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। পাড়া-মহল্লায় লেপ ও তোশক তৈরির ধুম পড়ে গেছে। নগরীর গণকপাড়া কাপড় পট্টির ব্যবসায়ী মতি মিয়া বলেন, হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো।
রাজশাহীর ডেপুটি সিভিল সার্জন মমতাজুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আসগার হোসেন জানান, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী রোগীর চাপ বেড়েছে। এরা সাধারণত ঠা-াজনিত রোগ কোল্ড ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত।
তিনি রোগীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিশেষ করে শিশুদের পর্যাপ্ত গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা প্রয়োজন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন শিশু ঘেমে না যায়। এছাড়া বড়দের বাড়ির বাইরে বের হতে হলে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পরে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আশরাফুল আলম জানান, কিছুদিন ধরেই তাপমাত্র ওঠানামা করছে। মাঝেমধ্যেই মেঘ ভেঙে রোদ উঠছে। মাঝেমধ্যে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রবিবার থেকে হঠাৎ করে তা কমতে শুরু করেছে। চলতি ডিসেম্বরের শেষার্ধে রাজশাহী অঞ্চলে ২টি মৃদু অথবা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এছাড়া মাসের শেষে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলে জানান তিনি। সোমবার রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি সোমবার পর্যন্ত সারাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে সূর্যের দেখা মিলছে না। এ অবস্থায় কাজে বের হতে পারছে না শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। গরম কাপড় না থাকায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকার চর ও দ্বীপচরের মানুষজন অসহনীয় ঠা-ায় দিনযাপন করছে। বিশেষ বিপাকে পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা।
এ বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে জেলা প্রশাসক এ বি এম আজাদ জানান, শীতার্ত মানুষের জন্য ৮ হাজার ৪০টি কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া বিদ আতিকুর রহমান জানান, সোমবার এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকবে বলে তিনি জানান।
ঠাকুরগাঁও : শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। এই শীতে সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ। সকালে কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া কাবু করছে জেলাবাসীকে। বেড়ে গেছে শীতজনিত রোগব্যাধি। তিন দিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে শৈত্যপ্রবাহ জনজীবন বিপর্যস্ত করে ফেলছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে সুয্যি মামা। হেডলাইট জ্বালিয়ে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন ধীরে ধীরে চলাচল করছে।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জেন ডা. শাহনেওয়াজ বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৭৮ শিশু সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শীতের কারণে এ সময় ঠা-াজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
জেলা আবহাওয়া বিভাগ জানায়, রবিবার এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সোমবার ১৩ ডিগ্রি।
পঞ্চগড় : মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহে এখানকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দুপুর বেলা কিছু সময় রোদ থাকলেও মেঘের কারণে সূর্যের তাপ গায়ে না লাগায় সারাদিনই হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে।
হঠাৎ শুরু হওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাহিল হয়ে পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালমূখী হচ্ছেন অনেকে।
জেলার সর্বত্র শীত নিবারণের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। পুুরাতন শীতবস্ত্রের দোকানে শীতার্তদের উপচেপড়া ভীর লক্ষ্য করা গেছে।
গত তিন দিন ধরে পঞ্চগড়ে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বিকেল থেকে শুরু হাওয়া কনকনে শীতল হাওয়া চলছে সকাল পর্যন্ত। সকাল ১০ টার আগে সূর্যের মূখ দেখা যাচ্ছে না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই শুরু হচ্ছে কুয়াশা। রাত বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা হচ্ছে আরো ঘন।
ভোরের দিকে বৃষ্টির পানির মত ভারী কুয়াশা ঝরতে দেখা যাচ্ছে। রাতে তাপমাত্রা ১৪-১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। তেঁতুলিয়ায় আবহাওয়া অফিস নির্মাণ হলেও যন্ত্রপাতি না আসায় তা চালু হয়নি। এতে করে পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে না।
হঠাৎ করে বেশী শীত পড়ায় কাহিল হয়ে পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। শ্রমজীবি ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষরা পড়েছে চরম বেকায়দায়। শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ না থাকায় তারা তাকিয়ে আছে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিতরণ করা শীতবস্ত্রের দিকে। তবে এখন পর্যন্ত সেভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি।
প্রত্যন্ত এলাকার শীতার্ত মানুষদের অভিযোগ বেসরকারি পর্যায়ে বিতরণ করা শীতবস্ত্র শহর ও শহরতলীতে বিতরণ করা হয়। তাদের দাবি এবার যেন শীতবস্ত্র প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে প্রকৃত গরীব মানুষের মাঝে যেন বিতরণ করা হয়।
এদিকে শীতকে পুজি করে মৌসূমি কাপড় ব্যবসায়ীরা প্রচুর পুরাতন শীতবস্ত্র এনেছে। জেলা শহরের কদমতলায় বসেছে পুরাতন কাপড়ের অর্ধশতাধিক দোকান। পুরাতন কাপড়ের সাথে তারা নতুন শীতের কাপড়ও বিক্রি করছেন। এ ছাড়া সিনেমা রোড, বাজার মসজিদ রোডেও রয়েছে অনেক পুরাতন কাপড়ের দোকান। কম বেশী সারাদিনই এগুলোতে ক্রেতারা ভীর জমাচ্ছেন। তবে সেখানে দাম হাকানো হচ্ছে অনেক বেশী। উচ্চ ও মধ্যবিত্ত ছাড়া অন্যদের কেনার সামর্থ নেই। ছোট বাচ্চাদের একটি সোয়েটারের দাম চাওয়া হচ্ছে ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকা।
জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছিন্নমূল মানুষরা শীত নিবারণের জন্য গাছের শুকনো পাতা সংগ্রহ করছে। সড়কের ধারে শুকনো পাতা কুড়াতে ব্যস্ত নারী-শিশুরা। প্রচন্ড শীতে পরিবারকে উষ্ণ রাখতে আগুনই এসব মানুষের ভরসা।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here