সোনা চোরাচালান ইমেজ সংকটে বিমান

0
202

আবু বকর : সোনা চোরাচালান নিয়ে ইমেজ সংকটে পড়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গত দুই বছরে বিমানের উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৮৮০ কেজি চোরাচালানকৃত সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত এমন প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। গত নভেম্বর মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সোনা চোরাচালানের অভিযোগে বিমানের একজন সিনিয়র পাইলটসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আসা বিমানের একটি সুপরিসর উড়োজাহাজ থেকে শুল্ক গোয়েন্দা সদস্যরা ৬২ কেজি ৩৭৭ গ্রাম সোনা আটক করেন। এই সোনা চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধানে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিমানের একটি বোয়িং উড়োজাহাজে দুবাই থেকে এই বড় সোনার চালান ঢাকায় আসে। এর পাইলট নিয়ম অনুযায়ী উড়োজাহাজটি বোয়িং ব্রিজে না নিয়ে হ্যাঙ্গারের কাছে একটি ফাঁকা জায়গায় থামান। কেন সেখানে থামিয়ে সিঁড়ি দিয়ে যাত্রীদের নামানো হলো তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই উড়োজাহাজের পাইলট কয়েক বছর আগে চাকরি থেকে অবসরে যান। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। কিন্তু অবসরে যাওয়ার পর তিনি আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। এছাড়া বিমানের একজন জুনিয়র পার্সার গত ৩১ জানুয়ারি বিমানের ফ্লাইটে (বিজি ০৪৫) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যান। যে ফ্লাইটে (বিজি ০৪৮) দুবাই থেকে সোনা আসে ওই ফ্লাইটেও জুনিয়র পার্সার হিসেবে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে ১৭ জানুয়ারি ওই জুনিয়র পার্সার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে বিমানের ফ্লাইটে দুবাই যান এবং দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন ১৯ জানুয়ারি। এই সোনা চোরাচালানের ঘটনায় তার কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিমানে সোনা চোরাচালানের ঘটনা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বিমানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। কিভাবে বিমানের উড়োজাহাজে এত বিপুল পরিমাণ সোনা পাচার হয়ে আসলো তা নিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য যোগদানকারী বৃটিশ নাগরিক কাইল হেইউড সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে গত দুই দিন কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। কিন্তু কেউই এর সদুত্তর দিতে পারেননি। বিমানের একজন পরিচালক জানান, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সোনা চোরাচালানে ব্যবহূত হওয়ায় শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও বিমানের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এতে বিমানের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here