admoc
Kal lo

,

admoc
Notice :
«» গুগল ম্যাপে রাস্তা পাশাপাশি দেখা যাবে সৌরজগৎ «» পাট খাতে খুলনা সোনালী ব্যাংকের ১৫০০ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত «» নিউইয়র্কে বাংলাদেশীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশাল র‌্যালি ও সমাবেশ «» শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত, লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ «» ন্যাশনাল ব্যাংকের আয়োজনে চট্টগ্রামে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মশালা অনুষ্ঠিত «» মাগুরায় আশা’র ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ «» জুরাছড়ি উপজেলাধীন একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বেহাল দশা «» মিয়ানমারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৫ «» জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তী পালিত «» চট্টগ্রামে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেফতার

লবণে ধ্বংস বরিশালের সম্পদ

6

সৈয়দ মেহেদী হাসান,বরিশাল ব্যুরো: ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল। ঐতিহ্যের এমন কথা অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে দিন দিন। যে নদীতে এক সময়ে ঝাকে ঝাকে মাছ পাওয়া যেত সেখানে আছে জেলেদের হাহাকার। এর কারনও স্পষ্ট। নদীর পানি নেই আগের মত। গবেষকরা বলছে বরিশালের নদী-খালে অতি মাত্রায় লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধ্বংস হয়ে গেছে পানির গুনগত মান। যে কারনে মাছ যেমন জন্ম নিচ্ছে না তেমনি ফসল উৎপাদনেও বন্ধ্যাত্ব দেখা দিয়েছে। বরিশাল বিভাগের বহু অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানি পাওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগই চেখে পরার মত নয়। যদিও ঝুকিপূর্ণ অন্যান্য এলাকা অর্থাৎ মধুমতীর পানি পরিশোধন করে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সরবরাহের প্রকল্প নিয়েছে সরকার। ওদিকে চট্টগ্রাম শহরের খাবার পানি সরবরাহ করা হয় হালদা নদীর পানি বিশুদ্ধ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি এক লিটার পানিতে দ্রবীভূত লবণের (পিপিটি) সহনীয় মান শূন্য দশমিক শূন্য ৫ গ্রাম। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের নদীর পানিতে তা ২২ গ্রামেরও বেশি। নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। কারণ বাংলাদেশের উজানে ভারত ফারাক্কা, তিস্তাসহ এককভাবে বেশ কিছু বাঁধ দেওয়ায় বাংলাদেশের নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এ ছাড়া সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় নোনা পানি নদীর ওপর দিকে উঠে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এ রকম হচ্ছে। বরিশাল মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, বরিশাল বিভাগের ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৩০ হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে তিন লাখ ৮৬ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমি অতি লবণাক্ততার কবলে রয়েছে। এসব জমিতে লবণের পরিমাণ সময় বিশেষে ১৬ থেকে ২৮ দশমিক ৫ ডেসিসিমেন (প্রতি মিটার পানিতে লবণের পরিমাণ)। বরিশাল বিভাগের লবণাক্ততার অতি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা বরগুনা। এ ছাড়া পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলার নদীগুলোয় মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা বাড়ছে প্রতিবছর। সূত্র জানায়, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন এক কোটি ৩০ লাখ গ্যালন পানির চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ লাখ গ্যালন। সিটি করপোরেশন এলাকাতেই সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না। গবেষকদের দাবী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চরম পানি সংকটে পরবে নগরবাসী। সেই সাথে বরিশাল বিভাগের প্রায় অধিকাংশ জেলার গভীর নলকূপের পানিতে হু হু করে বাড়ছে লবণাক্ততা। বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায় গভীর নলকূপের পানিতে লবণাক্ততার গড় ২১০ পিপিএম। তবে এ তিন জেলার কিছু কিছু এলাকায় তা ২৩০ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া যায়। এমন ভয়াবহ রকমের লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পরছে এক সাথে ফসল, মাছ ও সুপেয় পানিতে। এ ব্যপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী কাজি মনিরুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশন এলাকার পানি সংকট নিরসনে ট্রাক যোগে বিভিন্ন এলাকায় পানি পৌছে দেয়া হচ্ছে। সামনে বৃহৎ পরিসরে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিবার্হী প্রকৌশলী মো: শাহ আলম জানান, লবনাক্ততা বেড়ে যাবার তথ্য আমাদের হাতে নেই। তবে পানির লেয়ার অনেকটা নিচে নেমে গেছে। তিনি আরও বলেন, লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় এবং হস্তচালিত টিওবয়েল যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরে চরম পানি সংকটে পরবে দক্ষিণাঞ্চল।

Share Button
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী