ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে হুমকি ও অশ্লীল চিঠি

0
135

নিজস্ব প্রতিবেদক :  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে হুমকি ও অশ্লীল  ভাষায় একটি চিঠি দিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। চিঠিটি হাতে লেখা  এবং এতে প্রেরকের নাম-পরিচয় দেয়া হয়নি।
এ চিঠি পাওয়ার পর তুরিন আফরোজ নিজেকে অনিরাপদ মনে করছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।
তুরিন আফরোজ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে শিক্ষকতাও করছেন। গত ১২ মে তার নামে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায় এ চিঠি পাঠানো হয়। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তুরিন এ চিঠি পান।
ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘অবমাননাকর’ বিবৃতি দেয়ায় ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ-প্রাপ্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া ২২ নাগরিকের কেউ এ চিঠি পাঠিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন তুরিন। তিনি বলেন, চিঠির বিষয়বস্তুতে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিঠির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালকেও অবহিত করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তুরিন আফরোজ। এছাড়া এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স), ডিজিএফআইসহ (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টিলিজেন্স) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তুরিন আফরোজ বলেন, “চিঠিতে আমার পেশাগত বিষয় ছাড়াও আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। চিঠির ভাষা এতোটাই অশালীন যে এটা সভ্য সমাজের ভাষা হতে পারে না।” তিনি বলেন, “পেশাদারিত্বের চেয়েও একজন নারী হিসেবে আমাকে এ চিঠিতে আক্রমণ করা হয়েছে বেশি।”
চিঠিতে যা ছিল:
বড় বড় বিকৃত অক্ষরে লেখা চিঠিতে তুরিন আফরোজকে সম্বোধন করে লেখা হয়েছে, ‘গতকাল তুমি আনু মুহাম্মদ প্রভৃতির বিরুদ্ধে ২নং ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক করেছো। যাঁদেরকে তুমি আদালত অবমাননার শাস্তি দেয়ার জন্য এত কসরত করেছো  তুমি তো তাদের একটা মরা..যোগ্যও নও। যাঁদের ‘শাস্তি’ দেওয়ার জন্য এত চেষ্টা তাঁরা কারা? এদের মধ্যে যাঁরা আছেন তাঁরা দেশের সম্পদ। আনু বা জাফরুল্লাহর পায়ের ধূলার যোগ্যও তুমি না, তাই না?’
‘তুমি (গালি), এঁরা যে সমাজে থাকে, ঘুরাফেরা করে তার আশে পাশ দিয়ে যাওয়ার যোগ্যতাটুকুও রাখো না। তুমি যে ‘মহান’ ট্রাইব্যুনাল এবং ‘ষড়যন্ত্রের’ কথা বলছো তা এক আস্ত..(গালি) ছাড়া কেউ বলে না। ট্রাইব্যুনালের তথাকথিত ‘জজ’রা তো পাড়ার গলির বিবাদ মিমাংসার যোগ্যতাও রাখে না’।‘তুমি এক বস্তাপঁচা।’ এরপর চিঠিতে যা লেখা আছে তার সবই অশ্লীল, অকথ্য ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here