খুলনা অঞ্চলের বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ অব্যাহত

0
194

রীতা রানী, খুলনা ব্যুরো ঃ ওজন বৃদ্ধি করে বেশি লাভের জন্য বাগদা চিংড়ির দেহে ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে অপদ্রব্য পুশ করানো হচ্ছে। খুলনার উপকূলীয় এলাকার মাছের আড়তগুলোতে এ অপকর্ম বর্তমানে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনই এ অপকর্ম বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিদেশের বাজারে দেশের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। খুলনার কয়েকটি চিংড়ি মাছ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমপ্রতি বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে কারণে বিদেশে চিংড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম পড়তে শুরু করেছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের সম্ভাবনাময় এ শিল্প খাতটি। তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, স্থানীয় ফড়িয়ারা উৎপাদনকারী ঘের মালিকদের কাছ থেকে বাগদা চিংড়ি কিনে তার ওজন বৃদ্ধির জন্য রাসায়নিকসহ নানা অপদ্রব্য পুশ করে থাকে। আবার আড়তে বিক্রি করতে আনা চিংড়িগুলো কিনে আড়তে বসেই পুশ করা হয়। দেখা গেছে, এক কেজি বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করায় প্রতি কেজিতে ২ থেকে আড়াইশ’ গ্রাম ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন শত শত মণ চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য পুশ করে তা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। এতে করে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা লাভবান হলেও চিংড়ি শিল্পটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। কয়রা উপজেলার কয়েকটি মৎস্য আড়তে গিয়ে দেখা গেছে বাগদা চিংড়িতে পুশ করার জন্য শিশু ও নারী শ্রমিকদের কাজে লাগানো হয়েছে। অল্প পারিশ্রমিকে এসব শ্রমিক খুব সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ কাজ করে থাকে। অনেকটা বাধাহীনভাবে অবৈধ এ কাজটি করে চলেছে তারা। কয়রা উপজেলা মৎস্য আড়ত সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ বিশ্বাস বলেন, ‘চিংড়ির দেহে পানি পুশ করা হলে তেমন ক্ষতি নেই। চিংড়ি তো পানিতেই থাকে।
তিনি আরও বলেন, মাছের আড়ত থেকে প্রতি মাসে পুলিশ ও মৎস্য অফিসে টাকা দিতে হয়। তা না হলে বিভিন্ন অজুহাতে আড়ত বন্ধের হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জানতে চাইলে কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলাউদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য পুশ বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এমন অপকর্ম না করতে স্থানীয় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
লকপুর সি ফুড লিঃ-র দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লোভের কারণে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে অচিরেই বিদেশে বাজার হারাবে আমাদের চিংড়ি শিল্প।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here