মরদেহ আসছে রোববার আমজাদ খান চৌধুরীর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি

0
187

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরীর মরদেহ আগামী ১২ জুলাই রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আনা হবে। আমজাদ খানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে সোমবার ঢাকায় সামরিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।
এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় ডিউক মেডিকেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ডায়াবেটিক ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। শারীরিক অসুস্থতার জন্যে একমাস যাবৎ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আমজাদ খান চৌধুরী স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
দেশের এই বিশিষ্ট ব্যাবসায়ীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আমজাদ খান চৌধুরীর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি: বিশিষ্ট শিল্পপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) আমজাদ খান চৌধুরীর ইন্তেকাল দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় তার অবদান অনুস্বীকার্য।
বাংলাদেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের পথিকৃৎ, অন্যতম প্রধান শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আমজাদ খান চৌধুরীর মৃত্যুর পর শোকবাণীতে এসব কথাই বলা হয়েছে।
শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এফবিসিসআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ প্রমুখ।
বুধবার (৮ জুলাই’২০১৫) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় ডিউক মেডিকেল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমজাদ খান চৌধুরী।
তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ ডায়াবেটিক ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। স্ত্রী, ২ ছেলে, ২ মেয়ে ও নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী তিনি রেখে গেছেন তিনি।
শারীরিক অসুস্থতার জন্যে বিগত একমাস যাবৎ যুক্তরাষ্ট্রের এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আমজাদ খান চৌধুরী। আমজাদ খান চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১০ নভেম্বর নাটোর জেলার সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে।তার পিতা মরহুম আলী কাশেম খান চৌধুরী, মাতা মরহুমা আমাতুর রহমান।তার চার সন্তান হলেন- আজার খান চৌধুরী, সেরা হক, আহসান খান চৌধুরী ও উজমা চৌধুরী।
ছোট ছেলে ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান খান চৌধুরী তার বাবার মৃত্যুতে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন এই আমজাদ খান চৌধুরী। ঢাকার নবকুমার ইন্সস্টিটিউট থেকে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯৫৬ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ান স্টাফ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেন।
কর্মজীবনে তিনি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।আমজাদ খান চৌধুরী ১৯৮১ সালে মেজর জেনারেল হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহন করেন।
বহুগুণে গুণান্বিত আমজাদ খান চৌধুরী বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যিক সংগঠন যেমন- মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিইসি), ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিসিওএল), বাংলাদেশ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি, পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া তিনি রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা), আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেন্স এডুকেশন প্রোগ্রাম (ইউসেপ) প্রভৃতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here