মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন ঘটতে পারে আরও :ইংগিত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের

0
99

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দপ্তর হারানোর পর মন্ত্রিসভায় আরও পরিবর্তন আসছে বলে ইংগিত মিলেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কথায়।
শুক্রবার সিলেটের কাজীরবাজারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই বর্ষিয়ান নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন হাত দিয়েছেন, দেখা যাক কি হয়। আই হ্যাভ নো আইডিয়া। একটু রিকাস্টিং হবে। কিন্তু কীভাবে হবে তা বলা মুশকিল।”
মুহিত বলছেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগে থেকেই জানতেন।
“আশরাফ সাহেবের যে পোর্টফোলিও পরিবর্তন হবে এটা অবশ্য আমরা কয়েকজন জানতাম।”
দুদিন ধরে চলা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকারের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
শুক্রবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহিত বলেন, “মন্ত্রিপরিষদের পরিবর্তন- এটা প্রাইম মিনিস্টারের এখতিয়ার। প্রাইম মিনিস্টার করেছেন, দ্যাটস ইট।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, সৈয়দ আশরাফ যখন সাধারণ সম্পাদক হন তখনই একটি প্রস্তাব ছিল তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করার। প্রধানমন্ত্রী সেই সিদ্ধান্তই হয়তো এতোদিন পর বাস্তবায়ন করেছেন।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা কারাবন্দি হলে দলে সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ভার পান বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী সৈয়দ নজরুলের ছেলে সৈয়দ আশরাফ। পরে ২০০৯ সালে দলের সম্মেলনে তিনি ওই পদে নির্বাচিত হন।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার সরকারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আশরা। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ আবারও সরকারে এলে দলের সাধারণ সম্পাদককে একই দপ্তরে রাখেন শেখ হাসিনা।
গত মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় তিন দফা বড় রদবদল আনলেও এবার দলে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত আশরাফের বাদ পড়ার মধ্য দিয়েই কার্যত প্রথম পরিবর্তন এল।
এর আগে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বাদ পড়েন। তবে তার মন্ত্রণালয় কাউকে দেওয়া হয়নি।
ইতোমধ্যে সরকারের দেড় বছর পার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মন্ত্রিসভায় রদবদল আনতে পারেন বলে গত কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, যদিও মুহিতের আগে আওয়ামী লীগের আর কেউ গণমাধ্যমের সামনে সে ইংগিত স্পষ্ট করেননি।
সৈয়দ আশরাফকে হঠাৎ দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করার পর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও শুক্রবার তারা সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে শুরু করেছেন। অবশ্য সবাই বলছেন, কে কোথায় মন্ত্রী থাকবেন, তা একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সকালে বলেন, “হয়ত তিনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেছেন, সে (সৈয়দ আশরাফ) অতিরিক্ত ভার বহন করছেন। দলে আরও ভাল করে বেশি সময় দেওয়ার জন্য এটা (দপ্তরবিহীন করা) হতে পারে।”
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ দুপুরে কুষ্টিয়া শহরে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের বলেন, “দল এবং মন্ত্রিপরিষদ- দুটি আলাদা বিষয়।প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করেন।… প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানেন কখন কাকে কীভাবে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে।”
তবে রদবদলের বিষয়টি সাবধানে এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “দপ্তর বণ্টনের বিষয়ে কোনো কথা বলার সুযোগ নেই।”

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here