প্রবীরের জামিনে ‘ভুল শুধরে’ গেছে: আইনমন্ত্রী

0
118

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে না পাঠিয়ে শুরুতেই জামিন দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার একদিন পর এই সাংবাদিককে জামিন দেওয়ার বিষয়টি ‘ভুল শুধরে’ নেওয়া হিসাবেই দেখছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “একজনের যদি এমন কোনো অসুস্থতা থাকে, যে সে ডিজঅ্যাবল, সেইক্ষেত্রেৃ আমার মনে হয় প্রবীর সিকদারকে সঙ্গে সঙ্গে বেইল দেওয়া উচিত ছিল।” ফেইসবুকে লিখে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গত মঙ্গলবার প্রবীরকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায় ফরিদপুরের আমলি আদালত।
ওই আদেশে ভুল ছিল কি না- সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান আনিসুল হক।
তিনি বলেন, “যদি কোনো কারণে কোনো ভুল কাজ কেউ করে থাকেন বা কোনো আদেশ দিয়ে থাকেন, সেটা কি শুধরানোর সুযোগ পাবে না? ভুল শুধরাইছে। এর মধ্যে তো ভালই হয়েছে, খারাপতো হয় নাই।”
আনিসুল হক বলেন, “ৃতারা প্রথম দফায় কি মনে করে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছিল আমি জানি না।ৃভুলবশতই হোক আরৃদ্বিতীয় দিন তো জামিন দেওয়া হয়ে গেছে। তাহলে যে ভুলটা ছিল তা ঠিক করা হয়ে গেছে।”
ফরিদপুরের আদালতে প্রথম দিন প্রবীর সিকদারের পক্ষে কোনো আইনজীবীর না দাঁড়ানো ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন আনিসুল, যিনি উচ্চ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের প্রধান আইনজীবী ছিলেন।
আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় বার অ্যাসোসিয়েশনের লইয়ারদের রিথিঙ্ক করা উচিত।
“কারণ হচ্ছে, আমরা আইনজীবী, আমাদের কাছে মানুষ আসবে যখন বিপদে পড়ে। আমরা যদি কঠোর কথা বলে ফেলি, তা সমাজে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা অত্যন্ত দুঃখের। তাদের এই আহ্বান জানাব, তারা যেন এটা রিথিঙ্ক করে।”
প্রবীরের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন আলোচনায় বলা হয়, মামলার বাদী স্বপন পাল ফরিদপুর বারের সদস্য হওয়ায় সমিতির রেওয়াজ অনুযায়ী কেউ এর বিরোধিতায় দাঁড়াননি।
এ ধরনের কোনো নিয়ম বারে আদৌ আছে কি না- সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে উল্টো সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী।
এ ধরনের নিয়ম আছে কি না- তা ‘জানা নেই’ বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “ৃমানবতাবিরোধীদের পক্ষে কেউ না দাঁড়ালে আপনারা বাহবা দেন। আজ আপনারা এ প্রশ্ন করছেন? ডাবল স্ট্যান্ডার্ড করছেন আপনারা।”
তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদার গ্রেপ্তার হওয়ায় ওই ধারার অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকারকর্মীরা। ওই ধারা বাতিলেরও দাবি তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, “আইসিটি মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে, আমি কিচ্ছু জানি না। প্লিজ আমাকে এটা নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না।”
ফেইসবুকে লেখালেখি করে হুমকি পেয়ে ঢাকায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এবং দৈনিক বাংলা ৭১ নামের পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক প্রবীর সিকদার।
কিন্তু পুলিশ জিডি নেয়নি জানিয়ে গত ১০ অগাস্ট নিজের ফেইসবুক পাতায় একটি স্ট্যাটাসে জীবন নিয়ে ঝুঁকির কথা বলেন এই সাংবাদিক।
‘আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন- “আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন: ১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের, ৩. ফাঁসির দ-াদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।”
ওই লেখার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগ তুলে গত ১৬ অগাস্ট রাতে ফরিদপুর সদর থানায় মামলা করেন স্বপন পাল।
ওই রাতে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালত তাকে রিমান্ডে পাঠালেও এর এক দিনের মাথায় বুধবার প্রবীরকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
‘দলীয় পরিচয় দেখুন’ : জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটানাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যেহেতু আমার পেশায় এ রকম হয়েছে, আমি মর্মাহত।”
বিএনপি নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মো. হাসানুজ্জামান লিটন এবং মাহফুজ চৌধুরী বাপনকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
একটি জঙ্গি দলকে অস্ত্র কেনার অর্থ জুগিয়েছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন আইনজীবীকে রিমান্ডেও পাঠিয়েছে আদালত।
আনিসুল হক বলেন, “জানুয়ারি থেকে শুরু করে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিএনপি নেতারা পেট্রোলবোমার তা-ব চালিয়েছে। সেই তা-বে ব্যর্থ হওয়ার পরে তারা এ রকম কাজ করবেন- এটাই তাদের কাছ থেকে আশা করা যায়।”
তাদের আইনজীবী পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে দলীয় পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যে ব্যারিস্টার গ্রেপ্তার হলেন তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের।… বিএনপির কোনো জনসমর্থন না থাকায় আগে তারা যেটা প্রকাশ্যে করছিলেন, এখন তা গোপনে করছেন। জঙ্গিদের জন্য অর্থায়ন করে দেশে একটা অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।”
মন্ত্রী বলেন, সরকার শীর্ষ নেতাদের অনেককে ‘ধরে ফেলায়’, বাকিরা ‘পালিয়ে’ বেড়াচ্ছেন। এখন ‘দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের’ নেতাকর্মীরা একই ধরনের কর্মকা-ে জড়াচ্ছেন। তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি তেমনই একটি ‘দৃষ্টান্ত’।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই তিন আইনজীবীর বার কাউন্সিল সনদ বাতিল হবে বলে জানান আনিসুল হক।
‘বন্দুকযুদ্ধের’ তদন্ত প্রসঙ্গ : সম্প্রতি র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সরকারসমর্থক কয়েকজনের মৃত্যু প্রসঙ্গেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব ঘটনা নিয়ে ‘অভিযোগ উঠলে’ আইন অনুযায়ী তার তদন্ত হতে পারে। “কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি দেওয়া যায়। আর যদি কোনো অন্যায় না হয়ে থাকে তাহলে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে কথা উঠেছে -তারাও পরিষ্কার হয়ে যায়। ৃআইন অনুযায়ী তদন্ত হওয়া উচিত।”

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here