৫ বছরের বিয়ে জীবনে ৯ বার হাতবদল

0
126

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ৫ বছরের বিয়ে জীবনে অন্তত ৯ বার হাতবদল হতে হয়েছে  রাঁচির দুই নারীকে। রাঁচির এই দুই নারীর নাম তবসুম-ফরিদা। নারী পাচারের প্রচলিত যেসব কাহিনী আছে, এটা যেন তার একটু ব্যতিক্রম। বছর কুড়ির এই দুই মেয়ের পাচার হওয়া বা ফিরে আসাটাও আর পাঁচটা মেয়ের মতো নয়। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে নয়, নিজেদের উদ্যোগেই বাড়ি ফিরে ঝাড়খন্ডের মহিলা কমিশনের অফিসে এসে হাজির হয় তারা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
ওদের বিয়ে হয়েছিল বছর পাঁচেক আগে। আর এই পাঁচ বছরে কমপক্ষে ন’বার হাতে হাতে বিক্রি হয়েছে ওরা। সেই সঙ্গে চলেছে নানা শারীরিক অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত কোনও রকমে পালিয়ে পৈত্রিক বাড়িতে ফিরে আসে তারা। অনেক ভাবনাচিন্তার পর রাজ্য মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন এই দুই নারী। এই অত্যাচারের বিচার চেয়েছেন তারা।
রাঁচির ডোরান্ডার বাসিন্দা তবসুম এখন এক কন্যা সন্তানের মা। তার ভাষ্য, ‘আমার যখন বিয়ে হয়েছিল তখন বয়স ছিল ১৫। স্থানীয় এক এজেন্টের মাধ্যমে আহাদ নামে দিল্লির এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়। দিল্লিতে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আহাদ তাকে পশ্চিম উত্তর প্রদেশের মুজফ্ফরনগরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের পারিবারিক ইটভাটার ব্যবসা ছিল।’
তবসুম বলেন, ‘ইঁটভাটার কাজে আমিও লাগি। কিন্তু তারপরই শুরু হয় অত্যাচার।টাকার বিনিময়ে কয়েকদিনের জন্য মাঝে মধ্যেই আমার স্বামী আমাকে অন্য শহরে, অন্য কোনও লোকের কাছে ছেড়ে দিত। কয়েকদিন  পর আবার বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেত। আবার বিক্রি করত। আমি হাতে হাতে ফিরতাম। আর যেতে রাজি না হলে লোহার রড গরম করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দিত, মারত। পিঠে গরম চা ঢেলে দিত।’ দু’দিন আগে নিজের দু’বছরের মেয়েকে নিয়ে কোনও রকমে পালিয়ে এসেছেন তবসুম।
ডোরান্ডারই বাসিন্দা ফরিদার অত্যাচারের গল্পটাও প্রায় একই রকম। বছর একুশের ফরিদার ভাষ্য, ‘ছ বছর আগে আমাকে আনিস আলি নামে যে বিয়ে করেছিল সে বলেছিল তার বাড়ি ঝাড়খন্ডের সিমডেগাতে। কিন্তু পরে জানতে পারি আসলে তার বাড়ি হরিয়ানায়।’
ফরিদা বলেন, ‘বিয়ের পরে আমাকে হরিয়ানায় নিয়ে গিয়ে মজুরের কাজে খাটাত আর বিভিন্ন লোকের কাছে পয়সার বিনিময়ে বিক্রি করতো। নানা অত্যাচার তো চলতই, সেই সঙ্গে গভর্বতী হয়ে গেলেই পরীক্ষা করে দেখা হত গর্ভে ছেলে না মেয়ের ভ্রূণ। মেয়ের ভ্রূণ দেখলেই গর্ভপাত করিয়ে দিত।’ তবসুমা ও ফরিদা কেউই লেখাপড়া জানে না। তাই লিখিত অভিযোগ নেওয়া যায়নি। তাদের উপর এই অত্যাচারের কাহিনী রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মহুয়া মাজি।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here