বগুড়ায় গাছের সাথে বেঁধে শিশুকে নির্যাতন গ্রেফতার ১

0
162

বগুড়া প্রতিনিধি ঃ  বগুড়ার ধুনটে চোর অপবাদ দিয়ে রাব্বী আকন্দ (৮) নামের এক শিশুকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। উপজেলার মানিকপোটল গ্রামের এ ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতিত রাব্বী ওই গ্রামের লাল মিয়া আকন্দের ছেলে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ধুনট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামী একই গ্রামের নায়েব আলী প্রামানিকের ছেলে আল আমিনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, মানিকপোটল গ্রামের ছ’মিল শ্রমিক লাল মিয়া আকন্দের ছেলে রাব্বী আকন্দ মরিচতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার সকাল ৯টায় সে বাড়ী থেকে পায়ে হেটে স্কুলে আসছিল। পথিমধ্যে পরিত্যক্ত একটি বাসার নিকট মানিকপোটল গ্রামের মিস্টি ব্যবসায়ি খলিলুর রহমান তাকে ডেকে নেয়। সেখানে রাব্বীকে চোর অপবাদ দিয়ে থাপ্পারে শুরু করে। এসময় রাব্বীর আত্মচিৎকারে একই গ্রামের আল আমিন, মিনার উদ্দিন, হিমেল মিয়া উপস্থিত হয়। তারা খলিলুর রহমানের সাথে শিশু রাব্বীকে দড়ি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে ফেলে। রাব্বীর হাত, পা এবং গলায় দড়ি পেঁচিয়ে গাছের সাথে বাঁধা হয়। পরে তাকে বাঁশের কইঞ্চা দিয়ে পেটানো হয়েছে। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ দুপুর ২টায় ধুনট থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌছে রাব্বীকে মুক্ত করেন। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিশু নির্যাতনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ওই দিন বিকেল ৫টায় ওই শিশুকে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে ধুনট থানায় নির্যাতিত শিশুর বাবা লাল মিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মধ্যরাতে মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী আল আমিনকে গ্রেফতার করে। শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিত রাব্বী জানায়, গাছের সাথে বেঁধে পেটানোর সময় খুব কষ্ট হচ্ছিল। গলায় দড়ি পেঁচিয়ে বাঁধার কারণে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়েছে। সে যেন মারা যাবে। নির্যাতনের ঘটনায় সে খুব ভয় পেয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে রাব্বী জানায়, সে কখনো চুরি করেনি। সুস্থ্য হয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে যায় রাব্বী।
ধুনট থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় শুক্রবার রাতে মামলা দায়ের হয়েছে। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে আল আমিন নামের এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Share on Facebook