বিস্ময় বালক!

0
85

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তামিলনাড়ুতে তাক লাগানো অনেক সিনেমা তৈরি হচ্ছে আজকাল। সেসব সিনেমাটিক গল্পকেও হার মানিয়েছে তামিলনাড়ুর ‘মাধেশ্বরণ’ এর কাহিনী। মাধেশ্বরণ স্কুল-ছাত্র। তামিলনাড়ুর শ্রীরামকৃষ্ণ ম্যাট্রিকুলেশন উচচবিদ্যালয়ের ছাত্র। চোখে কাপড় বেঁধে ত্রৈমাসিক পরীক্ষায় দু’ঘণ্টার মধ্যে নির্ভুলভাবে সব প্রশ্নের উত্তর লিখে হইচই ফেলে দিয়েেেছ মাধেশ্বরণ। হাতের লেখা ঝরঝরে। ১২ বছরের বালকের এমন বিরল কর্মকান্ড অবাক হওয়ারই মতো। দৃষ্টিহীনরা কতটা প্রতিভাবান হয় তা বোঝানো ও চক্ষুদানের মতো বিষয়টি নিয়ে সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই এমন চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সপ্তম শ্রেণির এই বালক। কেবল কী তাই, টেলিভিশনের শব্দ বন্ধ করেও সেখানে কী বলা হচেছ তা স্পষ্ট বুঝতে পারে মাধেশ্বরণ। চোখে না দেখে পড়তে পারে মোবাইলের ম্যাসেজ, স্কুলের বই, প্রশ্নপত্র। খবর ভারতীয় বাংলা দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন এর।
মাধেশ্বরণ স্কুলে দু’ঘণ্টায় ইংরেজি পরীক্ষা দিয়েছিল। প্রশ্নপত্র ব্রেইলে লেখা ছিল না, অক্ষরগুলিও উঁচু ছিল না যা স্পর্শ করে বুঝতে পারা যাবে। তাহলে কী করে প্রশ্নপত্র পড়ে তার উত্তর সুন্দরভাবে লিখে ফেলল? বিস্ময় বালকের জবাব, ‘প্রতিটি অক্ষর ও সংখ্যার আলাদা গন্ধ রয়েছে। প্রশ্নপত্রের উপর মনোসংযোগ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে আমি বুঝতে পারি কাগজে কী লেখা আছে। মস্তিষ্কে অক্ষরগুলি সাজিয়ে নিয়ে বাক্য গঠন করে ফেলি।’
লাইন টানা পাতায় লিখতে দিলেও তার হাতের লেখা এঁকেবেঁকে যায় না। কী করে এমন সম্ভব হয়? মাধেশ্বরণ জানায়, ‘কাগজের উপর লেখা অক্ষরের ঘ্রাণ গ্রহণের সময়ই বুঝতে পারি কোথায় মার্জিন আছে। কোনখানে লাইন টানা। তা অনুমান করেই দু’টি লাইনের মাঝে লিখতে পারি।’’
ব্রেনকে সক্রিয় রাখে এমন একটি কর্মশালায় যোগ দেওয়ার পরেই এমন বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছে তার ছেলে, জানালেন পেশায় ব্যবসায়ী বাবা এন রাজেন্দ্রণ। টিআইএ নামে একটি কর্মশালায় কিছু ব্রেন এক্সারসাইজ করার পরেই মনোসংযোগ ক্ষমতা বেড়ে যায় মাধেশ্বরণের। চোখ বন্ধ করে শুধুমাত্র মনোসংযোগকে হাতিয়ার করে বহু কাজ করে ফেলতে পারে এই বিস্ময় বালক।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here