নাটোরে বারনই নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের ১০ কোটি টাকা পানিতে!

0
147

নাটোর প্রতিনিধি : নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নাটোরের বারনই নদীর তীর রক্ষাণোক্ষেণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে এবছরও প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। পাউবির দাবী প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে অন্তত আরো এক বছর সময় অপেক্ষা করতে হবে। এতে প্রকল্পের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের তুলনায় অর্থ বরাদ্দ বেশি হলেও প্রকল্প সংশিশ্লষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও প্রকৌশলীদের অজ্ঞতা ও তদারকির অভাব রয়েছে। ফলে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১০ কোটি টাকা পানিতেই যেতে বসেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, কোটি কোটি টাকায় নির্মিত নদী রক্ষার জন্য তৈরী বকগুলোর অধিকাংশই পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কিছু অংশ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সড়কের পাশে স্তুপাকারে ফেলে রাখা হয়ে হয়েছে। প্রস্তুতকৃত এসব বকগুলো আরো অন্তত এক বছর পড়ে থাকবে। এতে বকগুলো শ্যাওলা ধরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে এর স্থায়িত্ব অনেকাংশ কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপরদিকে স্টক করা এসব বক আদৌ তীর রক্ষা হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
সরজমিনে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, শুধু মাত্র বকগুলো তৈরী করা হয়েছে। নদীতে পানি আসায় এখনও সেসব তীরে বসানো হয়নি। বকগুলো তৈরী করে স্কুল মাঠ এবং হাটের জায়গা দখল করে ও নদীর ভিতরে স্তুপাকারে রাখা হয়েছে। এতে করে একদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং হাটুরীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পীরগাছা মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী জানান, কিছু দিনে জন্য ঠিকাদার তার স্কুলের মাঠ চেয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে বকগুলো সরিয়ে নিচ্ছে না। নদীতে পানি আসার জন্য কাজও করছে না। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
ব্রক্ষপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে গিয়ে দেখা যায়, নদীর ভিতর সাজিয়ে রাখা বকগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সাথে পাশের একটি নিচু জায়গায় বকগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বকের গায়ে শ্যাওলা ধরেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন বক তৈরীর সময় নিম্নমানের উপকরন ব্যবহার করায় মান সম্মত বক প্রস্তুত হয়নি। সামান্য আঘাতেই এসব বকগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রস্তুতের সময় পাউবির কর্মকর্তাদের বেশির ভাগ সময় অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে বিষয়টি জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও অধিকাংশদের পাওয়া যায়নি। দু’একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা গেলেও তারা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তবে এইসব কাজের তদারিকের দায়িত্বে কর্মরত পাউবি’র ওর্য়াক এ্যাসিসটেন্ট ওয়ায়েস রুনী এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করে বলেন, বক নির্মানে কোন নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। তদারিকেও কোন গাফিলতি হয়নি। নাটোর পাউবি সুত্র জানায়, ২০১৪ সালে জেলার কালিগঞ্জ-শরকুতিয়া ও কালিগঞ্জ-সাধনপুর বারনই নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য হলো বারনই নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভাঙ্গনের হাত থেকে নদীর তীরকে রক্ষা করা। এই লক্ষ্য নিয়ে জিওবির অর্থায়নে ৮টি প্যাকেজে নদীর ১২টি পয়েন্টে ২ হাজার ৫৭৫ মিটার এলাকায় তীর রক্ষায় এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প এলাকা গুলো হচ্ছে, পিপরুল ইউনিয়ন ইউপি সংলগ্ন, পিপরুল সেন্টার, লালোর ইউপি সংলগ্ন, ভূষণগাছা, আচঁড়াখালী, নলডাঙ্গা, বাঁমভাগ কালিমন্দির, পশ্চিম সোনাপাতিল, ব্রক্ষপুর ইউপি সংলগ্ন, বাড়িয়াহাটি মন্দির এলাকা, বাড়িয়াহাটি স্কুল সংলগ্ন ও পীরগাছা স্কুল সংলগ্ন এলাকা। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে প্রকল্প কাজ শুরু হয়। আগামী ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রকল্প কাজ শেষ হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পগুলোর ৫১ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে এবছর প্রকল্পের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। অন্যান্য বছর সাধারনত নদীতে পানি থাকে না। কিন্তু এবছর দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নদীতে এখন বিপদ সীমার ওপরে পানি। ফলে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলে যথারীতি কাজ শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এখনও অনেক সময় রয়েছে।

Share on Facebook

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here