admoc
Kal lo

,

admoc
Notice :

হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ‍॥ ফুলবাড়ীয়া পৌর ভবন নির্মাণ চলছে

5ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ভবনের জমি নিয়ে শাহ সূফী আঃ রহিম ও মোবারক আলী সরকারের উভয় ওয়ারিশদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলিয়া আসিতেছে। বর্তমানে শাহ সূফী আঃ রহিম এর ওয়ারিশদের সাথে পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া গংদের সহিত মামলা চলমান অবস্থায় মেয়র পৌরসভার যাবতীয় তথ্য প্রমানাদি গোপন করে পৌর পরিষদকে না জানিয়ে মাসিক মিটিং-এর উপস্থিতি স্বাক্ষর ও মনগড়া রেজুলেশনকে পুঁজি করে নিজে জমির মালিক সেঁজে ফুলবাড়ীয়া মৌজায় ১৬২৮নং দাগে .৩২ শতাংশ জমি ৬৪ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে বিক্রয় করেন এবং পৌর মেয়র হিসেবে নিজেই ক্রয় করেন। পৌর কাউন্সিলার ও পৌরবাসী উক্ত বিষয়ে অবগত হওয়ার পর মামলাকৃত ও প্রতিপক্ষের জমিতে জোরপূর্বক পৌরভবন নির্মাণ না করার জন্য কাউন্সিলারদেরকে নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করিলে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় খরব প্রকাশ হয়। স্থানীয় সংসদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে সাবেক পৌর সচিব আঃ ওয়াদুদ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভা থেকে অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে মেয়র ক্ষিপ্ত হয়ে পৌর সচিবকে অন্যত্র বদলী করেন। অতঃপর মেয়র তার আস্থাভাজন মোঃ হারুনুর রশিদকে অন্য পৌরসভা হতে তদবীরের মাধ্যমে বদলী করে বর্তমান কর্মস্থলে ৩য় বারেরমত নিয়ে আসেন। পৌরবাসীর কথা বিবেচনা না করে পূর্বের শত্রুতার জের ও ক্ষমতার দাপটে মামলাকৃত জমির অর্থ আত্মসাৎ করার লক্ষে প্রকৃত তথ্য গোপন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পৌরভবন নির্মাণে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ করে তিন কোটি চৌদ্দ লক্ষ টাকার গোপন টেন্ডার আহবান করেন এবং তার নিজস্ব ঠিকাদারের মাধ্যমে পৌর ভবনের নির্মাণ কাজ করিয়া আসিতেছে। পরবর্তীতে বাদী ৩রা জুন’১৩ হাইকোর্টে সিভিল রীট পিটিশন নং- ১৫০৭/১৩ দাখিল করিলে হাই কোর্ট নির্মাণ কাজের উপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। হাই কোর্টের নির্দেশ পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে পাওয়ার পরও পৌর সচিব মেয়রকে পৌর কাউন্সিলারগণের অসম্মতিতে জমি বাবদ ৬৪ লক্ষ টাকা গোপনে প্রদান করেন। পৌর মেয়র মাহামান্য হাই কোর্টের নির্দেশ বার বার অমান্য করে প্রবাহিত আঁখালিয়া নদীর তীর ঘেঁষে ঝুকিপূর্ণ ও জনবিচ্ছিন্ন স্থানে দিবা-রাত্রি পৌরভবনের নির্মাণ কাজ করিতেছে। এ নিয়ে বাদী ২০/৬/১৩ ইং তারিখ হাই কোর্টে আদালত অবমাননা মামলা দায়ের করেন। হাই কোর্ট পৌর মেয়রকে ৫ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করে রুল জারী করেন। মেয়র কোন প্রকার জবাব না দিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পৌর ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাইতেছেন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে অর্থ ছাড় করে আনেন। গত ২৭/৬/২০১৩ ইং তারিখ উক্ত কাজের ১ম কিস্তির টাকা সোনালী ব্যাংক ফুলবাড়ীয়া শাখা হিসাব নং- ২০০০০০৫০৬-এর মাধ্যমে চব্বিশ লক্ষ নব্বই হাজার টাকা এবং ২য় কিস্তির টাকা ঠিকাদারকে প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাদীপক্ষ ২২/৯/১৩ ইং তারিখ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর পৌর ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ ও বরাদ্দকৃত অর্থ স্থগিতকরণের জন্য তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে আবেদন জানানোর পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উপ-পরিচালক মোঃ আলী আহসানকে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিলে তিনি ২১/১১/১৩ ইং তারিখ বাদী এবং বিবাদী পক্ষের কাগজপত্র ও ভবনের স্থান পরিদর্শন করে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করিলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাদ্দকৃত অর্থ স্থগিত করে দেন। পরবর্তীতে বাদী কর্তৃক আবেদনের ফলে মহামান্য হাই কোর্ট সিভিল রিভিশন মামলা নং- ১৫০৭/১৩ এর ১৩/৪/১৪ ইং তারিখ হইতে পূনঃরায় ৪ মাসের স্থগিতাদেশ বৃদ্দি করেন। উল্লেখ্য যে মেয়র কর্তৃক আদালত অবমাননা মামলার চূড়ান্ত শুনানীর জন্য অপেক্ষামান রহিয়াছে। পৌরবাসী মামলাকৃত জমিতে পৌর ভবন নির্মাণ কাজ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত ও বরাদ্দকৃত অর্থ স্থগিত রাখার নির্দেশসহ মেয়র ও পৌর সচিবের বিরুদ্ধে পৌর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করিতেছে।

Share Button
Share on Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী